গোপন রোগ

মাসিকের সমস্যা হলে কি করবেন

গোপন রোগ ডেস্ক: অনেক মা বোন আছেন যারা মাসিকের সময় বিভিন্ন রকমের সমস্যায় ভোগেন। কেউ কেউ আছেন যাদের মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন যেটা তার স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। অনেকের আবার মাসিক শুরু হওয়ার এক-দু’দিন পূর্ব থেকেই তলপেটে ব্যথা শুরু হয়। মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা হয়। কেউ আবার মাসিক শেষ হওয়ার পরপরই ব্যথা মুক্ত হয়ে যান। তলপেটে ব্যথা কারো ক্ষেত্রে কমবেশি সারা মাস থাকে।

এত গেল মাসিকের সময়ে ব্যথার কথা। কেউ আছেন যাদের মাসিকের সময় রক্ত ক্ষরণ বেশি হয়। কারো আবার এমন অবস্থা হয় যে নড়াচড়া করলেও রক্ত বেশি যায়। কারো ক্ষেত্রে আবার চাকা চাকা (Clotted blood) রক্ত পড়ে। সেই সাথে ব্যথাও অনুভব করেন।

এসবের পেছনে কোনো না কোনো কারণতো থাকেই। এসবের কোনো একটি সমস্যা যদি আপনার ক্ষেত্রে হয় তবে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। চিকিৎসক যদি আপনাকে তলপেটের কোনো আলট্রাসনোগ্রাম এবং অন্য কোনো পরীক্ষা দেন তবে সেটা করাবেন। যদি চিকিৎসক আপনার সমস্যার জন্য কোনো ওষুধপত্র খেতে দেন তবে সেটাও আপনি অনুসরণ করবেন।

অনেক সময় জরায়ুতে টিউমার (Fibroid uterus) অথবা টিউমার না থাকলেও এরকম রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসা করালে আতঙ্কের কিছু নেই। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান তথ্যটি হলো আপনার যদি প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং আপনি যদি মনে করেন মেয়েদের মাঝে মধ্যে এমনটি হয়ে থাকে, নিজেই ঠিক হয়ে যাবে তবে এটি ঠিক নয়।

আপনি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কারণ তা না হলে আপনি রক্তশূন্য হয়ে যাবেন। রক্তশূন্যতা দেখা দিলে আপনার তখন শারীরিক বিভিন্ন সমস্য দেখা দিতে পারে। যেমন- অল্প পরিশ্রমে দুর্বলতা অনুভব করা, বুক ধড়ফড় (Palpitation) করা ইত্যাদি।

ব্যথার জন্যও চিকিৎসা নেবেন। তবে কারণ শনাক্ত করা জরুরি। আপনি যদি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে গিয়ে দুর্বলতা অনুভব করেন, হাতপায়ে কোনো কারণ ছাড়াই ব্যথা অনুভব করেন, বমি বমি ভাব অনুভব করেন সেটাও চিকিৎসককে বলবেন। অনেকের আবার মাসে দু’তিন বার রক্ত যায়। সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথাও থাকে। আবার কোনো কোনো সময় শুধু অনিয়মিত রক্ত যায়। রোগী ব্যথা তেমন অনুভব করেন না।

অনেকের আবার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়; কিন্তু মধ্যবর্তী সময় অতিরিক্ত স্রাব যেতে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা দুর্গন্ধ যুক্তও হতে পারে। এসব উপসর্গের সাথে অনেকে আবার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা পরিমাণে প্রসাব কম হওয়া কিংবা বার বার প্রসাব হওয়ার কথাও বলে থাকেন। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে। এর পেছনে যে কারণ আছে সেটা শনাক্তকরণ জরুরি। এক্ষেত্রেও আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসা সঠিক সময়ে হলে আপনার ভোগান্তিও কম হবে।

মোটকথা আপনার মাসিক সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা হলে সময় ক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাবেন না।

লেখিকা: ডা: শাহীন আরা আনওয়ারী,সহকারী অধ্যাপিকা, গাইনি, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি:, শান্তিনগর, ঢাকা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close