অন্য পত্রিকা থেকে

আইএস ও ব্রাদারহুডের নীতিতে চলছে বাংলাদেশ সরকার

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার আগে প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের সাথে বৈঠক করে মোসাদ’র গোয়েন্দা হিসেবে অভিহিত হওয়া এবং আসলাম চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে আবারও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলি লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদি।

তিনি বলেছেন, যদিও বাংলাদেশ সরকার দাবি করে যে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল তবে হিন্দু এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের নীতি অনেকটাই মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো এবং ক্ষেত্রবিশেষে সেটি আইএসআইএস-এর নীতির সদৃশ। ইসরায়েলের জেরুসালেম অনলাইন এ প্রকাশিত ৩০মে’র এক প্রতিবেদনে মেন্দি সাফাদি এসব কথা বলেন।

ওই প্রতিবেদনে সাফাদি বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে বলেন, বেশিরভাগ সন্ত্রাসী সংগঠনই বিভিন্ন ছাতার নিচে ছদ্মবেশে কাজ করে। কিছু কিছু সংগঠন দাতব্য সংস্থা হিসেবে কাজ করে গরীব যুবক জিহাদীদের নিয়োগ দেয় আবার কিছু কিছু সংগঠন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের কাজ বাস্তবায়ন করে। এই ধরণের নীতি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে দেখা যায়।

তার মতে, এ ধরণের অনেক ঘটনাই আমরা ঘটতে দেখেছি। যেমন অনেক সন্ত্রাসী হামলার সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগসাজশ থাকলেও তারা মিসরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। গাজাতে হামাস সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং এর সবগুলো শাখাই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনায় নিয়োজিত। রায়েদ সালাহর ইসলামী আন্দোলন যদিও নিজেদেরকে দাতব্য সংস্থা হিসেবে দাবি করে তবে এর সদস্যরা ইসরায়েলে বিভিন্ন হামলা বাস্তবায়ন করে। এমন অনেকেই রয়েছে যারা নিজেদের উগ্রবাদকে আরো একধাপ উন্নীত করে আইএস এ যোগদান করে। বর্তমান বিশ্বের আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে

বাংলাদেশে সরকারের অধীনে সংখ্যালঘুদের জাতিগতভাবে নিমূর্ল করা। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভ্রান্তিকর প্রচার সত্ত্বেও, তার বর্তমান কর্মনীতিতে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আইএস-নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, কারণ তারা প্রতিদিনই দেশের মধ্যে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের গণহত্যা করছে। এই নীতি সরকার অথবা সরকারের সাহায্যে যে আইএস গোষ্ঠীটি গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তারা বাস্তবায়ন করছে।

সাফাদি জোর দিয়ে বলেন, যে সকল কর্মী ধর্মের সহাবস্থান নিয়ে কাজ করছে তাদের অনেককেই গত কয়েক দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মাঝে ইসলাম সোহাদারি (আসলাম চৌধুরী?) এবং কাজী আজিজকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থনে একটি অনুষ্ঠানে একজন ইসরায়েলি ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে কথা বলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা একজন বিদেশি কর্মকর্তার সাথে দেখা করেছেন এবং মোসাদে যোগদান করেছেন যদিও সত্যি কথা হচ্ছে ওই কর্মকর্তা এবং মোসাদের মাঝে কোন সংযোগ নেই।

সাফাদি ঘোষণা করেন, আওয়ামী লীগ সরকার একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, এছাড়াও জাতিসংঘ বাংলাদেশে গত নির্বাচনের বৈধতা দেয়নি এবং সংস্থাটির মতে নির্বাচনটি প্রহসনমূলক। কিন্তু এর ফলে এই সরকারের অব্যাহত গণহত্যা বন্ধ হয়নি এবং সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, যদিও এই সরকার দাবি করে যে তারা গণতান্ত্রিক।

গত সপ্তাহে কয়েক ডজন হিন্দুকে মুসলিম না হওয়ার অপরাধে হত্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্কের একটি মানবাধিকার সংগঠন আটক রাজনৈতিক বন্দীদের ব্যাপারে কোন প্রকার তথ্য হাসিল করতে পারেনি এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে তাদেরকে আটক করার পর কোন প্রকার চিহ্ন ছাড়াই তারা হাওয়া হয়ে গেছে।

মেনদি সাফাদির মতে, ভারতের সাথে ইসরায়েলের বন্ধন শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া বা বাংলাদেশের সরকারগুলোর মতো বৈষম্যমূলক সরকারের আচরণ আমার কাছে নতুন কিছু নয়। ইসলাম সোহাদারির(আসলাম চৌধুরী?) সাথে আমার স্বল্প মাত্রায় আলাপ করার সুযোগ হয়েছে এবং সেখানে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ধর্মের সহাবস্থান নিয়ে কথা বলেছি। আমি এ ব্যাপারে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম এবং বাংলাদেশের উগ্রপন্থী সরকারের তাকে গ্রেফতারের জন্য এটিই যথেষ্ট ছিল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close