চায়না মহাদেশ জুড়ে

জাপানে বাবা-মায়ের অমানবিক শাস্তির শিকার ৭ বছরের ছেলে: হোক্কাইডো দ্বীপে মিলল ৬ দিন পর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বাবা-মা শাস্তি দিতে পাহাড়ে ফেলে এসেছিলেন ৭ বছরের ছেলেকে। ফিরে গিয়ে আর তাকে পাননি। বুনো ভালুক অধ্যুষিত পাহাড় ঘেরা জঙ্গলে শিশুটির প্রাণসংশয়ের আশঙ্কায় শুরু হয়েছিল ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। নিখোঁজ হওয়ার ছ’দিন পর অবশেষে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল সেই শিশুকে।

শুক্রবার সকালে জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের সেনা ড্রিল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় বছর সাতের ইয়ামাতো তানুকাকে। এক সেনা ওই এলাকায় এক শিশুকে দেখে তার নাম জিজ্ঞেস করলে, শিশুটি যে নাম বলে, তা মিলে যায় নিখোঁজ বাচ্চাটির সঙ্গে। খিদে আর তেষ্টা পেয়েছে বলে জানানোয় শিশুটিকে ভাত ও রুটি খেতে দেন জওয়ানরা। পাশেই একট কল থাকায় সেখান থেকে জল খেতে পেলেও, এ’কদিনে ছেলেটি কিছুই খায়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাবা-মাকে খবর দেওয়া হলে, তাঁরা গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করেন। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ডিহাইড্রেশন আর হাতে-পায়ে দু-একটা আঁচড় ছাড়া বড় কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি বাচ্চাটির।

শিশুটি জানিয়েছে, সে ঘুরতে ঘুরতে বেশ কয়েকদিন আগেই সেনা ড্রিল এলাকায় এসে পড়ে। সে যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছিল, তার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এই এলাকা। ছেলেটি গাড়ির ভেতরে দুষ্টুমি করায় তার বাবা-মা গত শনিবার তাকে শাস্তি দিতে ছেড়ে এসেছিলেন জঙ্গলে, পাহাড়ের চুড়োয়। ৫-১০ মিনিট পর সেখানে ফিরে গিয়ে আর তাঁরা ছেলেকে খুঁজে পাননি। সন্তানকে এমন শাস্তির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে যায় বিশ্বজুড়ে।

ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর ইয়ামাতোর বাবা বলেছেন, ‘আমি প্রথমেই এমন একটা ঘটনার জন্য ছেলের কাছে ক্ষমা চাই। ও মাথা নেড়েছে। আশা করি বুঝতে পেরেছে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। খুব অনুশোচনা হচ্ছে। আমরা একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম।’

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close