যুক্তরাজ্য জুড়ে

বহুল বির্তকিত ইইউ রেফারেন্ডাম ভোট গ্রহণ চলছে ব্রিটেনে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ঐতিহাসিক রেফারেন্ডামের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে। ইউকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকবে কি না এ প্রশ্নে ইউকের ইতিহাসের মধ্যে এটি জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় রেফারেন্ডাম।

মে মাসে লন্ডন মেয়র নির্বাচন শেষে শুরু হয়েছিল ইউরোপিয় ইউনিয়নে থাকা না থাকা নিয়ে রেফারেন্ডামের ক্যাম্পেইন। পক্ষ বিপক্ষের যুক্তি তর্ক শুনে বৃহস্পতিবার বৃটিশ জনগণ তাদের মতামত জানাবেন। এ রেফারেন্ডামে পক্ষে বিপক্ষে প্রায় ৪ মাস ক্যাম্পেইন হয়েছে।

রাজনীতিকরা দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে প্রায় ৪ মাস জোর ক্যাম্পেইন করেছেন। রিমেইন অথবা লিভ। এ দুটি পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হিসাক নিকাশও ভোটারদের সামনে হাজির করা হয়। লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইউকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩শ ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করা হয় ইইউকে। ইইউ ত্যাগ করলে সেই অর্থ সঞ্চয় হবে।

ফলাফল পাওয়ার জন্যে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ইউকের ইলেক্টরাল কমিশনের মতে প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ভোটার রেফারেন্ডামের ভোটে অংশ নিতে রেজিষ্ট্রার হয়েছেন। ভোট গণনার জন্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং জিব্রাল্টারের ৩৮০টি লোকাল অথোরিটিতে ৩৮২টি ভোটিং কাউন্টিং এরিয়া রয়েছে।

প্রতিটি কাউন্টিং সেন্টারের ফলাফলা ঘোষণার পর ম্যানচেষ্টার টাউন হল থেকে জাতীয়ভাবে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন চীফ কাউন্টিং অফিসার। শুক্রবার সকালের মধ্যে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছে ইলেক্টরাল কমিশন।

এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বৃটেনের থাকা না থাকা নিয়ে রেফারেন্ডামকে সামনে রেখে বুধবার দিবাগত রাত পর্যন্ত শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন রিমেইন এবং লিভ গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন, সাবেক টোরি প্রধানমন্ত্রী স্যার জন মেজর এবং লেবার পার্টির সাবেক লিডার হ্যারিয়েট হ্যারমন ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট টানার আশায় বুধবার দিনভর সর্বশেষ চেষ্টা করেন। একইভাবে চেস্টা করেছেন লিভ ক্যাম্পেইনের সাবেক লন্ডন মেয়র বরিস জনসন এমপিসহ অন্যান্যরা।

লিভ ক্যাম্পেইনারদের মতে, ইউকের প্রায় ৬০ শতাংশ আইন আসে ইইউ থেকে। ইইউ ত্যাগ করলে বরং বৃটেইন স্বাধীনতা পাবে বলেই মনে করেন তারা। অন্যদিকে রিমেইন ক্যাম্পেইনাররা দাবী করে বলছেন, ইউরোপিয় ইউনিয়ন বিভিন্ন আইনের ব্যাপারে ধারণা বা প্রস্তাব করে থাকে। সেটা বাস্তবায়ন করেন বৃটেনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা দেশের জন্যে যা ভালো মনে করেন তাই করে থাকেন।

ইইউ রেফারেন্ডামে ইমিগ্রেশন একটি বড় ইস্যু। লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইমিগ্রেশন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে ইইউর মাইগ্রেশন প্রায় রেকর্ড পরিমাণ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় আগামীতে তুরস্ক ইইউতে যোগ দিলে মাইগ্রেশনের চাপ বেড়ে যাবে সীমাহিনভাবে। অন্যদিকে রিমেইন ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইমিগ্রেন্টসরা যা নেয় তার চেয়ে বেশি ট্যাক্স পরিশোধ করে। ইমিগ্র্যান্টদের ফ্রি মুভমেন্টের ফলে ইউকের অর্থনীতি উপকৃত হয় বলে যুক্তি রিমেইন ক্যাম্পেইনারদের।

চাকুরীর বাজার নিয়েও বিতর্ক আছে রেফারেন্ডামে। ইইউ ত্যাগ করলে অর্থনীতিতে বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ভয় দেখিয়ে আসছেন রিমেইন ক্যাম্পেইনাররা। বিশেষ করে ইইউ ত্যাগ করলে প্রায় ৯শ ৫০ হাজার চাকুরী হাতছাড়া হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের। অন্যদিকে লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, প্রাথমিকভাবে কিছু চাকুরীচ্যুতির ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘ সময় তা বহাল থাকবে না। ব্রাসলেস থেকে লন্ডনে ইউকের ব্যবসা ফিরে আসলে এমনিতেই চাকুরীর সুযোগ তৈরী হবে।

রিমেইন ক্যাম্পেইনারদের দাবী, ইউরোপিয় ইউনিয়ন শান্তি এবং স্থীতিশীলতা নিশ্চিত করে। সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স শেয়ারের মাধ্যমে ইউরোপিয়ান এরেষ্ট অর্ডার ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করা হয়। অন্যদিকে লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইইউর ভেতরে ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জনগণের স্বাধীন চলাফেরা করার সুযোগ থাকায় সন্ত্রাসী এবং অবৈধ অস্ত্র খুব সহজেই ইউকেতে প্রবেশ করতে পারে।

রিমেইন ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইইউ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউকের খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে এয়ার লাইনের টিকেটসহ সব ধরনের পন্য এবং নিত্যদিনের ব্যয় বেড়ে যাবে। একেকটি পরিবারকে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৩শ পাউন্ডের বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্যদিকে লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাজার থেকে নয় বরং নিত্যদিনের ব্যয় বরং কমে যাবে। কারণ তখন বিশ্ব বাজার মুলে খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যদিনের পণ্যে আমদানি করা যাবে।

অন্যদিকে এনএইচএস প্রসঙ্গে রিমেইনের ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির উপর নির্ভর করে এনএইচএসের আগামী বাজেট। ইইউ থেকে বের হলে পাবলিক স্পেন্ডিংয়ে যে প্রভাব পড়বে। আর তাতে মারাত্বকভাবে প্রভাব পড়বে এনএইচএস বাজেটে। আর লিভ ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, ইইউ থেকে বের হলে আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ১শ মিলিয়ন পাউন্ড এনএইসএস ব্যয় কমে যাবে।

উল্লেখ্য ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডে জাতীয় পর্যায়ে এটি পঞ্চম রেফারেন্ডাম হচ্ছে। ৫ বছল আগে এমপি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের উপর একটি রেফারেন্ডাম হয়। তাতে অবশ্য ভোটাররা এমপি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাবটি রিজেক্ট করেন। ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয়ভাবে প্রথম রেফারেন্ডাম। ইউরোপিয়ান ইকোনোমিক কমিউনিটিকে ইউনাইটেড কিংডম থাকবে কি না এ প্রশ্নে হয়েছিল ওই রেফারেন্ডাম।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close