যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রেক্সিট নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ টোরিরাও

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: টালমাটাল বৃটিশ রাজনীতি। বড় বড় দলের মধ্যে আস্থা, অনাস্থা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভক্তি দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল কনজার্ভেটিভ পার্টি ও প্রধান বিরোধী লেবার পার্টিতে। লেবার পার্টিতে দলীয় প্রধান জেরেমি করবিনকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বেনকে। এ নিয়ে দল দু’ভাগে বিভক্ত।

অন্যদিকে বৃটেনকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে মধ্যমণি হয়ে ওঠা কনজার্ভেটিভ পার্টির অন্যতম নেতা, লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনের স্বপ্নভঙ্গ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন দলের সিনিয়র কমপক্ষে ৭ নেতা। গণভোটের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এরপর তার উত্তরসুরি হিসেবে এ পদে আসার সমূহ সম্ভাবনা বরিস জনসনের।

কিন্তু তার হিসাবকে জটিল করে তুলছেন নিজের দলের বাঘা বাঘা নেতারা। ফলে তার কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। যারা বৃটেনকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন তাদের শতকরা ৭ ভাগ এখন আফসোস করছেন। বলছেন, তারা এভাবে ভোট দিয়ে ঠিক করেন নি। সে যা-ই হোক, কনজার্ভেটিভ দলের ভিতর এখন স্টপ বরিস বা বরিস জনসনকে থামাও যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

এক্ষেত্রে তুরুপের তাস হয়ে তার সামনে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। এখানেই শেষ নয়। আরও আছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাউথ ওয়েস্ট সারে পার্লামেন্টের সদস্য জেরেমি হান্ট, শিক্ষা, নারী ও সমতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকি মরগান, ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ক্রাব, ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রতিমন্ত্রী অ্যানড্রিয়া লিডসাম, অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্ন।

সবশেষে লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন লিয়াম ফক্স। এ সব কথা উঠে এসেছে বৃটিশ মিডিয়ায়।

রোববার দ্য ডেইলি মেইল এ নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বরিস জনসনের একটি বেশ বড় ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে ক্রিকেট খেলছেন তিনি। প্রায় পূর্ণপৃষ্ঠা জুড়ে শিরোনাম টরিজ ব্যাটল টু স্টপ বরিস।

অর্থাৎ বরিস জনসনকে থামানোর লড়াই করছে টরি (কনজার্ভেটিভ) দল। দ্য সানডে টেলিগ্রাফের শিনোমা টরিজ অ্যাট ওয়ার। অর্থাৎ টোরিরা যুদ্ধে অবতীর্ণ। দ্য সানডে টাইমসের শিরোনাম টপ টরিজ রাশ টু স্টপ বরিস ব্যান্ডওয়াগন।

অর্থাৎ বরিসের ব্যান্ডওয়াগন থামাতে সংগঠিত হচ্ছেন শীর্ষ টরি নেতারা। মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, যারা প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে নামতে চান তাদের মিত্ররা কনজার্ভেটিভ দলের এমপিদের অহরহ ফোন করছেন তাদের সমর্থন চেয়ে।

তবে কনজার্ভেটিভ বা লেবার দল যারাই হোক ভিতরে ভিতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে দুটি দলেই। লেবার দলে হিলারি বেনকে বহিস্কার করা ও কনজার্ভেটিভ দলে বিভক্তিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বৃটিশ রাজনীতিতে ঘূর্ণি হাওয়া বইছে।

তাই ইউরোপিয় ইউনিয়নপন্থি কনজার্ভেটিভ দলের বিশিষ্ট নেতা মাইকেল হেসেলটাইম বলেছেন, ব্রেক্সিট গণভোটের কারণে টরি দলের মৃত্যু ঘটতে পারে। এরই মধ্যে বৃটেনের অর্থনীতিতে গণভোটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ব বাজারে পাউন্ডের দাম পড়ে গেছে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। বিশ্ব অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী।

এরই মধ্যে পরবর্তী বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে লড়াই চলছে কনজার্ভেটিভ পার্টিতে। বরিস জনসনের শীর্ষ স্থানীয় একজন সমর্থন কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপি নাদিন ডোরিস। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসনকে সমর্থন দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন অন্য প্রার্থীদের প্রতি।

বলেছেন, নেতৃত্বের লড়াই রক্তপাতহীন হওয়ার আগেই তা করতে হবে। কিন্তু টরি দলের অন্যরা বলছেন, এ লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, বরিস জনসন যতই ক্যারিশমা দেখান না কেন, তিনি একজন ভাল প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। অন্যরা বলছেন, বরিস জনসন নিজের দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন গণভোটে। সেক্ষেত্রে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য প্রয়োজন একজন বিকল্প প্রার্থী।

তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি তাতে এটা হলো এবিবি। অর্থাৎ এনিওয়ান বাট বরিস। বরিসকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ।

ওদিকে কনজার্ভেটিভ দলের ১৯২২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি সোমবার কমন্সে জরুরি বৈঠকে বসছে। নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে তাতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের পরিকল্পনা মঙ্গলবার জমা দেয়া হবে কনজার্ভেটিভ পার্টির পরিচালনা পরিষদে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close