অন্য পত্রিকা থেকে

কোন পথে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ

সোলায়মান তুষার: যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এটা যেমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেমনি জাতীয় পর্যায়ে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউই) থেকে বেরিয়ে আসার পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ইতিমধ্যে স্কটল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দল দ্বিতীয়বারের মতো গণভোটের দাবি জানিয়েছে। নর্দান আয়ারল্যান্ডও যে একই পথে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রথম দফায় ক্ষমতাশীল টরি পার্টি স্কটল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারলেও এবার যে আর পারবে না তা নিশ্চত করেই বলা যায়। স্কটল্যান্ড হাতছাড়া হলে যুক্তরাজ্য পরিণত হবে একটা দ্বীপে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যুক্তরাজ্যকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ১৯৭৩ সালের ১লা জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় কমিউনিটিস অ্যাক্ট ১৯৭২ এর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টরি নেতা অ্যাডওয়ার্ড হেথ। এরপর চলে গেছে ৪৩ বছর। চার যুগেরও বেশি সময় পর বিপর্যয় সামনে এলো টরি পার্টির সামনে। এবার অবশ্য নেতা ডেভিড ক্যামেরন। তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গণভোটকে কেন্দ্র করে অনেক তারকা রাজনীবিদের ক্যারিয়ারও হুমকিতে পড়েছে।

বিশ্লেকরা বলেছেন, ক্যামেরন নিজের ওপর খুবই বিশ্বাসী ছিলেন। তার এই অগাধ বিশ্বাসই তাকে ডুবিয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি দেশকে ঢেলে দিয়েছেন বিপর্যয়ের মুখে। আর এ বিপর্যয় কত দূর যায় তাই এখন দেখার বিষয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯১৬ সাল। সবকিছুতেই এসেছে নানা পরিবর্তন। বিশেষ করে গত ৪৩ বছরে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্ট যত আইন করেছে তার সব কটিতেই রয়েছে ইউরোপীয় প্রভাব। যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার ফলে সব আইনেই এখন পরিবর্তন আনতে হবে।

এতে যেমন লাগবে সময় তেমনি নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। ৪৩ বছরে যত আইন করা হয়েছে তারমধ্যে শক্তিশালী আইন হচ্ছে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮ (এইচআরএ ১৯৯৮)। এই আইন নিয়েই মূলত মাথা ব্যথা ছিল রাজনীতিবিদদের। এই আইন এতটাই শক্তিশালী যে পার্লামেন্ট কোনো আইন করলে তা ইউরোপীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে ইউকের যেকোনো কোর্ট তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে। এই আইন বাতিল করার নানা প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে করা হয়েছে।

কিন্তু যুক্তরাজ্য ইইউতে থাকার কারণে তা করা যায়নি আইনি বাধ্যবাধকতায়। এখন আর কোনো বাধা নেই। তবে এই আইন বাতিল করা হলে মানুষের অধিকার বলতে কিছু থাকবে না। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এছাড়া গণভোট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাউন্ডের দাম কমে গেছে। এ প্রভাব পড়বে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করেছেন বিশ্লেষকরা।

ইইউভুক্ত দেশ হওয়ার কারণে ইউরোপীয় ২৮টি দেশের সঙ্গে ছিল অবাধ বাণিজ্য। এখন আর তা থাকছে না। চারটি বিশেষ নীতি বা শর্তের ভিত্তিতে ইইউ গঠিত। তা হচ্ছে মানুষের বা কর্মীদের অবাধ যাতায়াত, দ্রব্যের অবাধ যাতায়াত, অবাধ সার্ভিস এবং ক্যাপিটালের অবাধ যাতায়াত। যুক্তরাজ্য এ চার সুবিধা আর পাবে না। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। অর্থনীতি সংকচিত হয়ে পড়বে।

এর ফলে জিনিসপত্রের দাম যেমন বাড়বে তেমনি অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারাবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ইউ ছাড়ার পর পুরো দেশ জুড়ে রেসিজম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে ভয়াবহ আকারে। ইতিমধ্যে তার আভাস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বাকিমহাম গেটের পাশে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে এমনই আভাস মিলে। ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের একজন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলেন, সুদূরপ্রসারি চিন্তা করে মানুষ ইইউ ত্যাগের পক্ষে ভোট দেয়নি। সামনে কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে ভোট দিয়েছে।

কিন্তু এরপর প্রভাব পড়বে সুদূরপ্রসারি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের ভাবমূর্তি আগের মতো আর থাকবে না। অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি থেমে যাবে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কেন্দ্রীয় অফিস সরিয়ে নেবে। মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। তিনি বলেন, এখন যুক্তরাজ্যকেই একত্রিত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close