যুক্তরাজ্য জুড়ে

লন্ডনে জমি কিনতে বিদেশিদের তোড়জোড়

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের জমি কিনতে উঠেপড়ে লেগেছেন বৈদেশিক ক্রেতারা। যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পরদিকে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার দরুন অনেক স্থানীয় মালিক জমিজমা বিক্রি করে দিতে চান। বৃটেনের ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক খবরে বলা হয়েছে, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, ইতালি ও স্পেনের ক্রেতাদের ফোনকলে তটস্থ হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যের রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা। ৩০ বছরের মধ্যে পাউন্ডের দাম সর্বনিম্ন অবস্থায় পৌঁছার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য লন্ডনের জমির দাম হয়ে উঠেছে লোভনীয়।

আন্তর্জাতিক প্রোপার্টি বিশেষজ্ঞ চার্সটার্টন্সের সেলস পরিচালক গায় গিটিন্স বলেন, শুক্রবার ইইউ ত্যাগের পক্ষে গণভোটের ফলাফল আসার পর পুরো সকাল তিনি কাটিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে। তারা সবাই বিক্রিযোগ্য ঘরবাড়ির তালিকা চান গ্রাহকদের জন্য, যারা রমজানের শেষের দিকে লন্ডনে যাবেন।

হ্যারডস এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিউ ডেভেলপমেন্টস প্রধান সিমন ব্যারি বলেন, ভোটের ৪৮ শতাংশ পর তিনি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের কাছে প্রচুর ফোন পেয়েছেন। তারা সবাই লন্ডনের জমিজামার ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। ব্যারি বলেন, ‘স্টার্লিং-এর দাম পড়ে যাওয়ায় সারাবিশ্বের বিনিয়োগকারীরা একে দেখছেন কেনার সুযোগ হিসেবে।’

ইমুভ.কো.ইউকে নামে একটি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রাসেল কুইর্ক বলেন, বৃটিশ জমিজমার বাজারে ‘আকাশ ভেঙে পড়া’র কোনো লক্ষণ নেই, যেমনটি বৃটেনের ইইউ ত্যাগের গণভোটের ফলাফল আসার প্রাক্কালে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন। তিনি বলেন, তার ওয়েবসাইট ইমুভ খুবই ব্যস্ত একটি সপ্তাহান্ত পার করেছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় চীন ও সিঙ্গাপুরের ক্রেতাদের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কুইর্ক বলেন, ‘ব্রেক্সিট-পরবর্তী জমিজমা বিনিয়োগ কারবারে প্রচুর ইউরোপিয়ান ক্রেতা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু দূরবর্তী ক্রেতারা এখন বাজারে ঢুকতে চান। বিশেষ করে, দুর্বল পাউন্ডের সুযোগে বাজারের বিদ্যমান সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগ নিতে চান তারা।’

খবরে বলা হয়েছে, ইউরো জোনের ক্রেতারা লন্ডনের প্রতিটি বাড়ির বেলায় গড়ে ৫০ হাজার ইউরো ছাড় পেয়েছেন। এজেন্টরা বলছেন, পাউন্ডের নিম্নমূল্যের কারণে এখন লন্ডনের একটি বাড়ির গড়মূল্য ৫ লাখ ৭৯ হাজার ইউরো। অথচ, নভেম্বরে এ মূল্য ছিল রেকর্ড ৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। লন্ডনের স্টারলিং অ্যাকিউর্ড নামে একটি এস্টেট এজেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু ব্রিজেস বলেন, ‘লন্ডনে এখন সস্তা দামে অনেক কিছু কিনতে পারবেন ইউরোপিয়ান ক্রেতারা। রাতারাতি লন্ডন হয়ে গেছে সামর্থ্যের মধ্যে প্রোপার্টির মালিক হওয়ার বৈশ্বিক হটস্পট। বিশেষ করে, যারা ইউরোতে অর্থ আদান-প্রদান করেন, তাদের পোয়াবারো।’

ইতালি ও ফ্রান্সের ধনী পরিবারগুলোর মাথায় রয়েছে ইউরো জোনের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ। এ কারণে লন্ডনের প্রোপার্টিতে তারা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করতে চান। চেস্টার্টন্সের গিটিন্স আরো বলেন, ‘২০০৮ সালের দিকে তাকালে আপনি দেখবেন, সেন্ট্রাল লন্ডনের জমিজমা অনেকের জন্যই সৌভাগ্য বয়ে এনেছে, যারা স্টার্লিং মুদ্রায় তাদের অর্থ জমা রাখতে চেয়েছিলেন।’ তবে ভোটের পর স্থানীয় অনেক ক্রেতা তড়িঘড়ি করে সমপত্তি বিক্রির চেষ্টা করলেও, বিদেশি ক্রেতাদের অতি মাত্রায় আগ্রহে তারা বিক্রির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close