জাতীয়

গুলশান ট্রাজেডি: ইতালি ছেড়ে দেশে এসে জীবন দিলেন সাহসী এসি রবিউল

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দেশকে ভালোবাসতেন, দেশের জন্য কিছু করার প্রয়াসে ইতালির সুখের জীবন ছেড়ে আস্তানা গেঁড়েছিলেন নিজ দেশেই। ত্রিশতম বিসিএসের এই ক্যাডারের ঘরে রয়েছে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে। স্ত্রী আবার সন্তানসম্ভাবা। সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না সাহসী এ কর্মকর্তা। দেশের মাটির ঋণ শোধ করতেই বোধহয় তার এ অকালে চলে যাওয়া!

মানিকগঞ্জের ছেলে রবিউলের ফেসবুক টাইমলাইনে ঢুকেও চোখে পড়ে তার সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মকাণ্ডই সেখানে বিস্তর। তার গড়া ব্লুমস বিশেষায়িত বিদ্যালয় ছিলো তার সর্বমনজুড়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কবি খালেদ হোসাইন তার প্রিয় ছাত্র রবিউলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে জিম্মিদশা কাণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিভাগের কাছের প্রিয় ছাত্রের গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম কামরুলের মৃত্যুতে বেদনার্ত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেন।

তিনি লিখেন, ‘রবিউল ইসলাম, আমাদের কামরুল, তুই রাসায়নিক সারমুক্ত চাষাবাদ করবি, প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল করবি, সেসব দেখাবার জন্য বিজয় দিবসে তোর শিক্ষকদের নিজে ভাড়াকরা গাড়িতে মানিকগঞ্জ নিয়ে যাবি, ওদের পুরস্কৃত করবি, সবার মাথায় বিজয় দিবসের ব্যান্ড বেঁধে দিবি, শিক্ষকদের নিজস্ব সাধ্যের সীমানা ছাপিয়ে আপ্যায়িত ও সম্মানিত করবি, ইতালির মসৃণ জীবন তোর ভালো লাগলো না, দেশের সেবা করতে হবে, আলো-বাতাস-সোঁদা মাটির গন্ধের ঋণ শোধ করতে হবে।

কর!

মর!’

খালেদ হোসাইনের প্রিয় ছাত্র কামরুল শুধু ভালো অফিসারই ছিলেন না, সামাজিক, মানবিক কাজও করতেন।

এই শিক্ষক আরও একটি স্ট্যাটাসে কামরুলের তোলা তার একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘রবিউল ইসলাম, তোর বাড়িতে গেলাম। স্কুল দেখলাম। বাঁশের দোতলা স্কুল। দিনভর রাখলি আমাদের। আর এই ছবিটা তুলেছিলি। কেন? কী দরকার ছিল এসব আদিখ্যাতার?

অকালে নিহত হওয়াই তোর যোগ্য পুরস্কার!’

কামরুলের বন্ধু ফারদীন ফেরদৌস প্রতিবন্ধীদের স্কুলের শিশুদের সঙ্গে কামরুলের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন ‘Rabi Kamrul তুই এভাবে যেতে পারলি?

কেন তুই ইটালীর সুস্থির জীবন ছেড়ে এই পোড়া দেশে ফিরে এসেছিলি রে?

এই দেশ, সেবকের দাম দিতে জানে নারে…?

ভালো থাকিস, বন্ধু, ভাই আমার!

তোর জন্য একবুক কান্না!!’

সমাজের অবহেলিত বিশেষায়িত শিশুদের সেই প্রাণবন্ত অভিভাবক চলে গেলেন অকালে, সবাইকে কাঁদিয়ে।

উল্লেখ্য, গুলশানের আর্টিসান রেস্তোরাঁয় গোলাগুলিতে পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম আহত হয়ে পরে মারা যান। রবিউলের মামা মোহাম্মদ জালালউদ্দিন জানান, রবিউলের সাত বছরের একটি ছেলে আছে। রবিউলের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তাঁর গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিবাড়ি।

সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি পরিবার নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে থাকতেন।

এদিকে আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close