পাক সীমানা জুড়ে

আপন ভাইয়ের গুলিতে নিহত আফ্রিদির প্রেমিকা বিতর্কিত পাকিস্তানী মডেল কান্দিল

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: নিজের বাড়িতে ভাইয়ের গুলিতে নিহত হয়েছেন পাকিস্তানের বিতর্কিত মডেল কান্দিল বেলুচ। শনিবার পাকিস্তানের মুজফ্‌ফরবাদের গ্রিন টাউন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের দৈনিক ডনের অনলাইন ভার্সনে কান্দিলের নিহতের খবর প্রকাশ করা হয়।

আপন ভাইয়ের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন পাকিস্তানের আলোচিত মডেল কান্দিল বালোচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুবই পরিচিত ছিলেন পাকিস্তানের এ মডেল। খোলামেলা পোশাক পরে সেলফি তুলে ও ভিডিও করে সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিতর্কিত ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির স্বঘোষিত প্রেমিকা ছিলেন তিনি। বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে বড় আলোচনায় আসেন তিনি। পাক-ভারত ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে জানান, ভারতকে পাকিস্তান হারাতে পারলে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের জন্য খোলামেলা পোশাক পরে নাচের ভিডিও পাঠাবেন। বিশেষকরে অধিনায়ক আফ্রিদির জন্য তিনি ভিডিও পাঠাবেন।

এছাড়া সেখানে তিনি নিজেকে আফ্রিদির ‘প্রেমিকা’ বলে দাবি করেন। বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। এতে তিনি পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের জন্য কোনো ভিডিও পাঠাননি। তবে এবার নয়া প্রেমের কথা জানান তিনি। ভারতের ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির প্রেমে পড়েছেন বলে জানান। এক টুইটে লেখেন, বিরাট কোহলি বেবি, আনুশকা শর্মাটা কে? আমি তোমার ভালবাসায় পড়ে গিয়েছি।

বিতর্ক এখানেই শেষ ছিল না। নিয়মিত তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অশ্লীল ছবি পোস্ট করতেন। নিজেকে বলিউডের মডেল কিম কার্দাশিয়ানের সঙ্গে তুলনা করতেন। কয়েকদিন আগে তার কারণে মহাবিপদে পড়েন ইমরান খানের দল তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) ঊর্ধতন নেতা মুফতি আবদুল কভি।

তিনি একটি টিভি চ্যালেনে যান আলোচনা করার জন্য। সেখান থেকে তার সঙ্গে কয়েকটি সেলফি তোলেন কান্দিল বালোচ। সেই সেলফি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিপদে পড়েন মুফতি আবদুল কভি।

শেষ পর্যন্ত পিটিআই থেকে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নিতি নিজের অশ্লীল ছবি পোস্ট করতে। কান্দিলের একের পর এক এমন ঘটনায় তার পরিবার বিরক্ত ছিল। বারবার এমন কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলেন তারা। কিন্তু সেটা না শোনায় শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের ভাই গুলি করতে হত্যা করলো।

মুলতানে নিজ বাড়িতেই তাকে খুন করা হয়েছে। পারিবারিক সম্মান বাঁচানোর জন্য নিজের বোনকে ভাই খুন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কান্দিলের খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মুলতানের আঞ্চলিক পুলিশ। ক’দিন আগে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান কান্দিল। তিনি লেখেন, আমি এখানে (পাকিস্তান) নিরাপদ নই। আমার কাজ অনেকেই পছন্দ করে না। ঈদুল ফিতরের পর অন্য কোথাও চলে যাবো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময়ে নগ্ন ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে বেশ আলোচনায় থাকতেন কান্দিল। মুলতান পুলিশের ভাষ্য, কান্দিল বেলুচ তার ভাইয়ের বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নগ্ন ছবি আপ করার কারণেই তাকে খুন করেছেন তার ভাই। বেশ কিছুদিন থেকেই এসব খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কান্দিলকে তার ভাই হুমকি দিয়ে আসছিলেন। কান্দিলের আসল নাম ফাউজিয়া আজিম। কিন্তু তিনি কান্দিল বেলুচ নামেই নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

পাক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কান্দিল আগেই বহুবার খুনের হুমকি পেয়েছিলেন। নিরাপত্তার কারণেই তার বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ্যে কখনও আনেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কান্দিলের পরিবারের এক সদস্য বলেছেন, কান্দিল মুসলিম পরিবারের মেয়ে। ওর ভাই অনেকদিন ধরেই ওকে মডেলিং ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু কান্দিল তা শোনেনি।

কান্দিলের মৃত্যুতে আরও একবার অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটল বলেই মনে করছে পাক পুলিশ। দিন কয়েক আগেই এক সাক্ষাত্কারে কান্দিল বলেছিলেন, আমি এখানে নিরাপদে নেই। ঈদের পরই আমি বিদেশে সেটল করব।

তিন সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এক চিঠিতে নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি করেছিলেন কান্দিল। মূলত তার পাসপোর্টের ছবি সামাজিক যোাগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তিনি নিজেকে নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন।

এজন্য পাসপোর্ট অফিসের কর্তৃপক্ষসহ দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদের দায়ি করেন কান্দিল। তিনি বলেছিলেন, কীভাবে রাষ্ট্রের সংরক্ষিত ডাটাবেজ থেকে এভাবে তথ্য চুরি হয়ে গেল।

তিনি বলেছিলেন, পাসপোর্টের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সেজন্য তার বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি করেছিলেন এই মডেল। আর তিন সপ্তাহ পরেই খুন হলেন কান্দিল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close