লন্ডন থেকে

কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের নিয়ে কাউন্সিল অব মস্কের জমজমাট ঈদ ডিনার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের বার্ষিক ঈদ ডিনার।

কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার প্রতি বছর ঈদে রাজনীতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে দলমত নির্বিশেষে একই প্লাটফর্মে দাঁড় করে একটি সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে থাকে। মেয়র, এমপি, কাউন্সিলার, সাংবাদিক, ইমামসহ কমিউনিটির ৩ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণেসমাবেশে বক্তারা কাউন্সিল অব মস্কের বহুমুখী কার্যক্রমের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ সংগঠন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করছে।

কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা শামসুল হক এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল হীরা ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পপলার এন্ড লাইম হাউজ আসনের এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক, মেট্রোপলিটন পুলিশের বারা কমান্ডার স্যু উইলিয়াম ও ইস্ট লন্ডন সিনাগগের চেয়ারম্যান লিওন সিলভার। রামাদ্বান বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী।

বক্তব্য রাখেন কাউন্সিল অব মস্কের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সরদার। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মনসুর আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র জন বিগস বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ফাডিং কাটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আগামী দুই বছরে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেট কর্তন হবে। তাই আমাদেরকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড স য় করতে হবে। তিনি বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের বাঙালি কমিউনিটি অস্বাভাবিক অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য অর্জন করছে। ছেলে মেয়েরা ভালো ফলাফল করে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিচ্ছে।

তিনি কাউন্সিল অব মস্কের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভ‚য়শী প্রশংসা করে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই সংগঠন বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় কমিউনিটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কাউন্সিল অব মস্ক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখে থাকে।

কাউন্সিল অব মস্কের চেয়ারম্যান হাফিজ শামসুল হক বলেন, ঈদ প্রতি বছর আমাদের জন্য পারস্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বার্তা নিয়ে আসে। কাউন্সিল অব মস্ক সকলকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে এসে সেই বার্তাটিই আবার স্মরণ করিয়ে দিতে যায়, যাতে আমাদের রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি নেতারা সকল মতবিরোধ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওয়ান কমিউনিটি গড়ার লক্ষ্যে নিবেদিতভাবে কাজ করেন। তিনি ডিনার পার্টিতে দলমত নির্বিশেষে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাউন্সিল অব মস্কের কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সেক্রেটারি জেনারেল হীরা ইসলাম বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা যেনো বৃটেনে একটি দৃস্টান্ত স্থাপন করতে পারি সে লক্ষ্যেই কাউন্সিল অব মস্ক কাজ করে চলেছে।

জিম ফিটজপেট্রিক এমপি বলেন, কমিউনিটির প্রতিটি পেশা ও শ্রেনীর মানুষ কাউন্সিল অব মস্কের ঈদ ডিনারে উপস্থিত হয়ে থাকেন। বার্ষিক ঈদ ডিনার বাঙালি কমিউনিটির সকল পেশার মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি অপূর্ব সুযোগ। তিনি চমৎকার অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কাউন্সিল অব মস্ক চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল হক ও সেক্রেটারি হীরা ইসলামকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তিনি তাঁর অবস্থান থেকে কমিউনিটিকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কমিউনিটির মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি পাশে আছেন।

বারা কামাণ্ডার স্যু উইলিয়াম বলেন, তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে সদ্য যোগদান করেছেন। এখনও মসজিদ ভিজিট করার সুযোগ পাননি। তবে তিনি মসজিদগুলো ভিজিট করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বারার তরুণেরা নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করে। ভালো কাজে সময় কাটায়। এটি একটি ভালো দিক। টাওয়ার হ্যামলেটস একটি অপূর্ব বারা। এমন সুশৃংখল একটি বারার পুলিশ কমান্ডার নিযুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, কাউন্সিল অব মস্ক কমিউনিটির সর্বস্তরের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে একটি মুক্ত প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করেছে। সংগঠনের এই উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা একে অপরের সাথে মতবিনিময় করতে পারি। এই অনুষ্ঠান বিভেদ ভুলে একই প্লাটফর্মে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। তিনি কাউন্সিল অব মস্কের সবধরনের কাজে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, রামাদ্বান মাস শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই মাসের শিক্ষা যেনো আমাদেরকে ছেড়ে না যায়। এই মাসে অর্জিত শিক্ষা আগামী রামাদ্বান পর্যন্ত কাজে লাগাতে হবে। তবেই আমাদের রামাদ্বান স্বার্থক হবে। রামাদ্বান আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটিয়ে পরিমিত খেতে অভ্যস্থ করে তোলে। আমরা যেনো এই পরিবর্তন ধরে রাখতে পারি।

তিনি বলেন, রামাদ্বান সাদকা বা দান করতে মানুষকে উৎসাহিত করে। আমরা রামাদ্বানে মুক্ত হস্তে দান করে থাকি। এর অর্থ নয় যে, বাকি ১১ মাস আমরা দান করবোনা। নাহ, রামাদ্বান আমাদের দানের হাত প্রশস্ত করে দেয়, যাতে আমরা সারা বছর দান- অব্যাহত রাখতে পারি। রামাদ্বানে কুরআন পড়া ও বুঝার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, রামাদ্বান চলে গেলে আর কুরআন পড়তে হবেনা। অবশ্যই বাকী ১১ মাস আমাদেরকে কুরআন পড়তে হবে, বুঝতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close