স্বদেশ জুড়ে

মেজর জিয়া-তামিমকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গুলশান, শোলাকিয়া ও কল্যাণপুর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জেএমবি নেতা তামিম চৌধুরী ও সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ও শোলাকিয়ায় হামলায় এ দু’জন মূল পরিকল্পনায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান। এরা দুজন হলেন- আইএসের কথিত বাংলাদেশ সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী ও সাবেক সেনা সদস্য মেজর জিয়া।

তাদের গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইজিপি।

আইজিপি বলেন, সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরী গুলশান, শোলাকিয়াসহ সাম্প্রতিক সব জঙ্গি হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’। আগের বিভিন্ন মামলাতেও তারা আসামি ছিল। এদের তথ্য দিলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেব আমরা। যারা তথ্য দেবে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

তিনি বলেন, তামিম চৌধুরী নিউ জেএমবি’র নেতা। সে গুলশান হামলার আগে দেশেই ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পরে সে বিদেশে চলে যেতে পারে, যেহেতু জেএমবির অর্থায়ন বিদেশ থেকেই হয়। জিয়া আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সমন্বয়কের কাজ করেছে। জিয়াও দেশের বাইরে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তিনি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে পলাতক। তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সূত্র জানায়, মেজর জিয়া আগে থেকেই উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জিয়া এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব আসার পর আনসারুল্লাহ ‘আনসার আল ইসলাম’ নাম ধারণ করেছে।

এদিকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) কানডীয় পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিক তামিম চৌধুরীকেই বাংলাদেশে আইএস-এর প্রধান বলে দাবি করেছে। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকেই বাংলাদেশের কথিত আইএস প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে তিনি কানাডা ছাড়েন। অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরে আইএস-এর কথিত প্রপাগান্ডা ম্যাগাজিন দাবিক-এ তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পুলিশ বলছে, তামিম জেএমবির একাংশের প্রধান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close