অন্য পত্রিকা থেকে

শ্রীমঙ্গলে স্কুলে শ্রেণীকক্ষের অভাবে উঠানে বসিয়ে পাঠদান

নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির শ্রেণীকক্ষের তীব্র সংকট। নেই প্রয়োজনীয় বেঞ্চ।

তাই খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের মাঠে আর শ্রেণীকক্ষের মেঝেতে চটে বসিয়ে পাঠদান দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টির এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৪৫ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিনিধিকে পাঠদানের এ চিত্র দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূর্ণিমা সরকার বলল, দেশের সবকিছুতেই ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে, কিন্তু এক মাত্র আমদের স্কুলেই মনে হচ্ছে এনালগ পদ্ধতিতে খোলা আকাশের নিচে প্রতিদিন আমাদের মাঠে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে।

সরেজমিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ৮ টি কক্ষের দুটিতে কোন বেঞ্চ নেই। মেঝেতে চটে বসে পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মাঠে চারটি স্থানে গাছতলায় বসে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। শিক্ষিকা সুমিতা দেব জানান, মাঠে এখন দশম শ্রেণীর বিষয়ভিত্তিক দুইটি,নবম শ্রেণীর একটি এবং অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠ দেওয়া হচ্ছে। আর শ্রেণীকক্ষেও গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুমি বেগম বলেন, আমাদের স্কুলটির পার্শ্বেই ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাড়ক।

সেকারণে সরাদিন থাকে গাড়ি চলাচলের প্রচন্ড শব্দ। আছে ইউনিয়ন অফিস। সেখানে দিনভর থাকে লোকজনের আনাগোনা। এসবের মধ্যে পড়াশুনায় আর খেয়াল বসে না। মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। তিনি আরও বললেন ‘নবম শ্রেণীতে ওঠার পর থেকে প্রতিদিনই আমাদের মাঠে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে। বিজ্ঞানের শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বললেন, খোলা মাঠে এভাবে পাঠ দিলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। অনেক সময় শিক্ষকদেরও একাগ্রতা নষ্ট হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার দাস বলেন, ‘প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে।

সব মিলিয়ে আটটি কক্ষে আমরা তাদের বসার জায়গা করে দিতে পারি না।’ জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বাঁশের তৈরি একটি ঘরে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। ৬ টি কক্ষের দ্বিতল ভবন ও একটি কক্ষের দুটি টিনশেডের সেমিপাকা ঘর রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন ১৩ জন, খন্ডকালীন শিক্ষক আরও ৬ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনুপ দত্ত বলেন, আটটি শ্রেণীকক্ষের দুইটিতে কোন বেঞ্চ নেই। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পালা করে খোলা মাঠে বসিয়ে পাঠ দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে স্কুলের এবং পাশের সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ের বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়।

তিনি বললেন, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ডিও লেটারে ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, ও এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। কিন্তু তাতেও ফল হয়নি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা দীলিপ কুমার বর্ধন বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে এবছর উপজেলা পরিষদ থেকে ১০ জোড়া বেঞ্চ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্কুলে বেঞ্চ বসানোর স্থানও নেই।

তবুও ৩০-৩৫ ছাত্রী বসতে পারবে। তিনি বললেন, গত সপ্তাহে ওই স্কুলে গিয়ে দেখি দু’তলায় ও মাঠে বসে ছাত্র-ছাত্রী পাঠদান নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য গত একবছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে তালিকা জমা দিয়েছি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close