অন্য পত্রিকা থেকে

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

নিউজ ডেস্ক: সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রাণপুরুষ মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী আজ। এই মহাপুণ্য তিথিতে দেবকী ও বাসুদেবের আকুল প্রার্থনায় সাড়া দিয়া অত্যাচারী কংসের কারাকক্ষে পুত্ররূপে আবির্ভূত হন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পঞ্চপাণ্ডবের অর্জুনকে নিজের আবির্ভাবের কথা বলতে গিয়ে বলেন, হে পার্থ, যখনি পৃথিবীতে অধর্ম বেড়ে যায় তখন আমি অবতীর্ণ হই। আর অবতীর্ণ হয়ে সাধুদের রক্ষা, দুষ্টের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপন করি। আধ্যাত্মিক বিবেচনায় দ্বাপর যুগের শেষদিকে এবং ঐতিহাসিকদের ধারণা মতে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০৬ অব্দে সনাতন ধর্মের এই প্রাণপুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব ঘটেছিল।

সনাতন বিশ্বাস মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের রোহিনী নক্ষত্রের অষ্টমী তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বসুদেব ও দেবকীর গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন রাখাল রাজা কানাই। বৃহস্পতিবার সেই পুণ্য তিথিতে শ্রদ্ধা ও উৎসবে সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায় পালন করবে ভগবান কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।

পুরাণ মতে, পাশবিক শক্তি যখন সত্য সুন্দর ও পবিত্রতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই অসুন্দরকে দমন করে মানবজাতিকে রক্ষা এবং শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মগ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবত গীতার উদগাতা ভাগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগের সন্ধিক্ষণে বিশৃঙ্খল ও অবক্ষয়িত মূল্যবোধের পৃথিবীতে মানবপ্রেমের অমিত বাণী প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলনই সে বাণীর মূল বিষয়। তাই তিনি ভক্তদের কাছে প্রেমাবতার। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সমগ্র ভারতবর্ষে যখন হানাহানি, রক্তপাত, সংঘর্ষ, রাজ্য লোভে রাজন্যবর্গের মধ্যে যুদ্ধ-হানাহানি লেগেছিল ঠিক সেই সৃষ্টি স্থিতি-প্রলয়ের যুগ সন্ধিক্ষণে তার আবির্ভাব অনিবার্য হয়ে পড়ে। মানবতাবাদী চরিত্রে চিত্রিত পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নেন। ঘোর অমানিশার অন্ধকারে জন্মগ্রহণ করায় কৃষ্ণের গায়ের রঙ শ্যামল, অন্য অর্থে ধূসর, পীত, কিংবা কালো।

পুরাণ মতে, ওই সময় অসুররূপী রাজশক্তির দাপটে পৃথিবী হয়ে ওঠে ম্রিয়মাণ, ধর্ম ও ধার্মিকরা অসহায় সংকটাপন্ন অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হন। অসহায় বসুমতি পরিত্রাণের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মার পরামর্শে দেবতারা সবাই মিলে যান দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের যুগসন্ধিক্ষণে তাঁরা সকলে বিষ্ণুর বন্দনা করেন। স্বয়ং ব্রহ্মা মগ্ন হন কঠোর তপস্যায়।

ধরণীর দুঃখ-দুর্দশায় ব্যথিত হয়ে দেবতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি দেবতাদের অভয়বাণী শোনান এই বলে যে, তিনি অচিরেই মানবরূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হবেন দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানরূপে শঙ্খ, চক্র, গদাপদ্মধারী শ্রীকৃষ্ণ নামে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর জন্ম নিয়ে বলেছেন, তাঁর জন্ম সাধারণ মানুষদের মতো নয় এবং তাঁর মৃত্যুও সাধারণ মানুষের মতো নয়। মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায় কিন্তু আমি জন্মরহিত হয়েও আবির্ভূত হই এবং অবিনশ্বর হয়েও অন্তর্ধান করে থাকি। আবির্ভূত হওয়া এবং অন্তর্হিত হওয়া-দুটিই আমার অলৌকিক লীলা।

সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close