জাতীয়

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঝটিকা সফরে ঢাকায়

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ঝটিকা সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট জেনেভা থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে জন কেরিকে স্বাগত জানান।প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসলেন জন কেরি। তার সফর উপলক্ষে বিমানবন্দরসহ রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এর বাইরে নিরাপত্তা তদারকি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী দল ঢাকায় অবস্থান করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে জন কেরি ঢাকায় এসেছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মাহমুদ আলী ওয়াশিংটন সফরে গেলে কেরির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তখনই তাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। তখন কেরি বাংলাদেশ সফরে সম্মতি জানিয়েছিলেন।

ঢাকায় ফিরে মাহমুদ আলী একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠান। তারপর ফ্রান্স সফরে গিয়ে সাইকেল চালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। ফলে তখন আর কেরির ঢাকায় আসা হয়নি। এবার নাইজেরিয়া, সৌদি আরব, জেনেভা হয়ে ঢাকায় এলেন জন কেরি। ঢাকা থেকে তিনি নয়াদিল্লি সফরে যাবেন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা নিয়েই মূলত জন কেরি ৯ ঘণ্টার এ ঝটিকা সফর করছেন। এছাড়া গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ইস্যুও জন কেরির সফরের এজেন্ডায় আছে।

এছাড়া দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু কেরির বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় ঠাঁই পাবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন।

সফরে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠকের পাশাপাশি জন কেরিকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী।

কেরি ও তার সফরসঙ্গী তিনজনকে বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম উপহার দেয়া হবে। মধ্যাহ্নভোজের মেন্যুতে অন্যান্য আইটেমের পাশাপাশি খাবারের টেবিলে দেয়া হবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা।

কেরি সফরকালে একের পর এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার মাধ্যমে ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি সকালে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি হবে দুপুর ১২টায়। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ১টায়। বেলা আড়াইটায় ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর সড়কের ইএমকে সেন্টারে সুশীল সমাজ ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বিকাল ৩টায় মিরপুরে একটি গার্মেন্ট কারখানা পরিদর্শন করবেন।

তিনি মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন জন কেরি।

এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বিশেষ ফ্লাইটে কেরি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জন কেরির বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।এর আগে বেলা ১২টা ১০ মিনিটে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টাইগার গেটে পৌঁছান জন কেরি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

জন কেরির সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

এর আগে ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন।

আজ দুপুর ১১টা ৪২ মিনিটে তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর জন কেরি বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন।

এরপর সেখান থেকে দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তার কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

বাজার সম্প্রসারণ ও বঙ্গবন্ধুর খুনীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা

সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠকে পন্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন কেরি।

এসময় পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, ঢাকা নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের প্রায়োরিটি কি তা কেরি জানতে চেয়েছেন। আমরা ডিউটি এবং কোটা ফ্রি সুবিধার কথা বলেছি। জিএসপি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, কেরি প্রথম মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী যিনি বঙ্গবন্ধু যাদুঘর পরিদর্শন করেন। বঙ্গবন্ধু যে ভিশনারী ছিলেন তার জন্য তিনি প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের পন্যের বাজার কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু’র একজন খুনী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। তাকে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কেরি এ বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন।

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় বাংলাদেশে সরকার যে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে তা আমরা বলেছি। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি আলোচনা শেষে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন কেরি। পরে তিনি মার্কিন দূতাবাস নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে অতিথি ভবন ত্যাগ করেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close