জাতীয়

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দেয়া আদালত অবমাননার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ রায়ে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী এ রায় লিখেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে দেয়া মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ওই বেঞ্চের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক। তবে দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত এবং সাজার ব্যাপারে তারাও একমত পোষণ করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি একমত পোষণ করায় বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর লেখা রায়ই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত ৫ই মার্চ ঢাকায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনা সভায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ৮ই মার্চ দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রুল ইস্যু করেন সুপ্রিম কোর্ট।

একই সঙ্গে তাদের তলবও করা হয়। ১৫ই মার্চ মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আদালতে হাজির থাকলেও কামরুল ইসলাম দেশের বাইরে থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি। তবে প্রথম দিনই দুই মন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেন। ২০শে মার্চ এ ব্যাপারে বিস্তারিত শুনানি হয় আপিল বিভাগে। পরে ২৭শে মার্চ রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। সে সময় রায়ের সংক্ষিপ্তাংশ ঘোষণা করা হয়।

ওই রায়ে আদালত অবমাননায় দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ৫ মাস পর গতকাল রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলো।

রায়ের শুরুতে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী দুই মন্ত্রীর বক্তব্য, এ সম্পর্কিত সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং তাদের বিরুদ্ধে রুল ইস্যুর বিষয়টি সবিস্তারে উল্লেখ করেন।

রায়ে বলা হয়, তারা (দুই মন্ত্রী) তাদের বক্তব্য ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের আবেগের কথাও বলেছেন। তারা অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর চেয়েছেন।

এই কোর্টের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সাধারণত যখন ক্ষমা চাওয়া হয় তখন এক বা দুই বাক্যেই তা চাওয়া হয়। যখন কনটেমনর দুঃখিত বলেন এবং তারপর তারা যা বলেছেন সেটা জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেন তখন সে ক্ষমা প্রার্থনা কম শাস্তি বা শাস্তি না পাওয়ার কৌশল বলেই প্রতীয়মান হয়।

মন্ত্রীদের বক্তব্য উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, তাদের বক্তব্য আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা। সংবিধান সুপ্রিম কোর্টকে আইন অনুযায়ী রায় দেয়ার এখতিয়ার দিয়েছে। অথচ বিবাদীরা সুপ্রিম কোর্টকে নির্দেশ দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা উচিত।

এ নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহই নেই যে, বিবাদীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মন্তব্য করেছেন এবং যথার্থই তারা তাদের দোষ স্বীকার করেছেন। তারা আইন ভঙ্গ করেছেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ ভঙ্গ করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close