যুক্তরাজ্য জুড়ে

পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে নানা প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বে নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে একক বাজার সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন পিছনের সারির এমপিরা (ব্যাকবেঞ্চার) ও বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন।

কিন্তু অনেক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তেরেসা মে পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন। যেসব বিষয়ে তিনি সরাসরি উত্তর দেন নি তা এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

একক বাজার

অ্যাঙ্গাস রবার্টসন জানতে চান বৃটেন ইউরোপের একক বাজারে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাক এমনটা কি প্রধানমন্ত্রী চান কিনা? তার এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন নি তেরেসা মে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন নি যে, বৃটেন ইউরোপে একক বাজারে থাকুক এটা তিনি চান কিনা। তেরেসা মে বলেছেন, আমি যেটা বলতে চাই তা হলোÑ ভোটের ফল অনুযায়ী আমাদেরকে এগুতে হবে। বৃটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমরা পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে সঠিক চুক্তি করবো। এর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনে মানুষের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। আমাদেরকে ২৩শে জুনের গণভোট মানতে হবে। এ নিয়ে আরেকটি গণভোট হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে আমরা বৃটিশ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করি।

সীমান্ত পর্যালোচনা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেফ স্মিথ জানতে চান এ বছর শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংক্রান্ত গণভোটে ভোট দিতে ‘সাইনড আপ’ হয়েছিলেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

প্রকৃত ইলেকটোরেটের ওপর বা ভোটারের ওপর ভিত্তি করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। এখন ওই ২০ লাখ ভোটারকে বাদ রেখেই আগামী সপ্তাহে সীমানা পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কি অবহিত? এ প্রশ্নের কোন সরাসরি উত্তর দেন নি তেরেসা মে।

সর্বশেষ ইলেকটোরাল রোল অনুযায়ী সীমানা পর্যালোচনাকে তিনি সমর্থন করেন কিনা এ বিষয়ে উত্তর দেন নি। তেরেসা বলেন, এই পার্লামেন্টে উপস্থিত সব দল প্রস্তাবিত বাউন্ডারি কমিশন সমর্থন করেছিল।

সেই কমিশন তাদেরকে বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রস্তাবনাগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে। ২০১৮ সালের মধ্যে বাউন্ডারি কমিশন তাদের প্রস্তাবনাগুলো উত্থাপন করবে। সব দলই তাতে সমর্থন দিয়েছিল। তাই আমিও এতে সমর্থন দেবো।

স্কুল তহবিল কর্তন

তেরেসা মে’র কাছে হেলেন হেইস জানতে চান লন্ডনজুড়ে স্কুলগুলোর তহবিল শতকরা ২০ ভাগ করে কর্তন করা হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কি আমার আসন ও পুরো লন্ডনের শিশুদের নিশ্চিত করতে পারেন? তার এ প্রশ্নের জবাবে তহবিল কর্তন করা হবে না এমনটা আশ্বস্ত করতে পারেন নি তেরেসা মে। তিনি নিশ্চয়তা দিতে পারেন নি।

তিনি বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা। এটা শিশুদের অধিকার। আমরা জাতীয় তহবিল সংক্রান্ত ফর্মুলার দিকে দৃষ্টি দিয়েছি। সতর্কতার সঙ্গে তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যাতে এর প্রভাব দেশের সব জায়গা ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতাল ভবন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে টম ব্রেক জানতে চান, ব্রেক্সিট পরবর্তীতে প্রথম দু’সপ্তাহে ৩৫ কোটি পাউন্ড দেয়া হবে স্বাস্থ্যখাতে। আমার হাসপাতাল পুনর্গঠনের জন্য ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে প্রতি সপ্তাহে কি এই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী?

উল্লেখ্য, টম ব্রেক যে হাসপাতালের কথা বলেছেন তার নাম সেইন্ট হেলিয়ের হাসপাতাল। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে হতাশ করেছেন। তাকে অর্থ দিতে রাজি হন নি। জবাবে তেরেসা মে বলেন, আমি স্থানীয় এই হাসপাতালের গুরুত্বের কথা স্বীকার করি।

এ কথা বলতে আমার ভাল লাগছে যে, গত ৬ বছরে আমরা অনেক ডাক্তার পেয়েছি। নার্স ােয়েছি। এর ফলে অনেক ভাল সেবা ও সুবিধা দেয়া গেছে।

২০১০ সাল থেকে এ বিষয়ক ট্রাস্টে খরচ হয়েছে ৭ কোটি ২৭ লাখ পাউন্ড। তবে দেশে সবাই যেন সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পান সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি আমরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close