যুক্তরাজ্য জুড়ে

সবচেয়ে দামী প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নতুন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বৃটেনে ভীষণ জনপ্রিয়। বর্তমান সময়ের সব রাজনৈতিক নেতাকে ছাড়িয়ে গেছে তার জনপ্রিয়তা।

বেশির ভাগ বৃটিশ মনে করেন, তিনি তাদের সংস্পর্শেই রয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকেও হার মানিয়েছেন। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের জন্য চালানো এক্সক্লুসিভ জনমত জরিপ কমরেস এ উঠে এসেছে এসব তথ্য।

এতে বলা হয়েছে, শতকরা ৫২ ভাগেরও বেশি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে পছন্দ করেন। তারা মনে করেন ডেভিড ক্যামেরনের চেয়ে তিনি সাধারণ বৃটিশদের বিষয়ে বেশি যতœবান। তাদেরকে তিনি বোঝেন। শতকরা মাত্র ১৪ ভাগ বৃটিশ এক্ষেত্রে রায় দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি।

জনমত জরিপে জনপ্রিয়তার এই মাপকাঠিতে লেবার দল থেকে আবার নেতা নির্বাচিত হওয়া জেরেমি করবিনকেও পিছনে ফেলেছেন তেরেসা মে। একটি বিষয়ে দু’জনের তুলনা করলে বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়। তাহলো

জনমত জরিপে শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষ বলেছেন, ব্রেক্সিট ভোটের পর তেরেসা মে’ই যোগ্য নেতা যিনি বৃটেনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে জেরেমি করবিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন শতকরা মাত্র ১৯ ভাগ বৃটিশ।

এ জরিপে আরও দেখা গেছে, বৃটেনের আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী লেবার দলের জেরেমি করবিনকে ব্যাপকভাবে পরাজিত করবেন তেরেসা মে।

জরিপে দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তেরেসা মে’র নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টি বিজয়ী হতে চলেছে।

নির্বাচনে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বিজয়ী হতে পারে বলে মত দিয়েছেন শতকরা মাত্র ১৬ ভাগ মানুষ। তেরেসা মের প্রতি যে সমর্থন তা এর চারগুন।

অন্যদিকে কোন পক্ষ বিজয়ী হবে এমনটা জানেন না শতকরা ১৯ ভাগ মানুষ। যেসব মানুষ এখন লেবার দলকে ভোট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন তাদের মধ্যে শতকরা ৪২ ভাগেরও বেশি মনে করছেন জেরেমি করবিনের চেয়ে তেরেসা মে’র বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। করবিনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩৭ ভাগ। লেবার দলের নেতা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

তবে এতে বৃটিশরা ব্রেক্সিট নিয়ে তেরেসা মের ওপর চাপ অব্যাহত রেছে। শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ বলেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত সরকারের। তবে শতকরা ৩৭ ভাগ মানুষ বলেছে, এ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারকে আরও সময় নেয়া উচিত। ওদিকে এ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করছেন না বলে এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তেরেসা মে।

মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড টাস্ক।

তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে বৈঠকে তেরেসা মে লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে সক্রিয় করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এমন সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস।

বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তার এ ঘোষণা থেকেও প্রধানমন্ত্রী দূরত্ব বজায় রাখছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close