অন্য পত্রিকা থেকে

টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের ফান্ড কাট নিয়ে পরস্পর বিরোধী মিথ্যাচারের অভিযোগ

জাকির হোসেন কয়েছ: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের ফান্ড কাট নিয়ে বারার নির্বাহী মেয়র ও ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের সাথে জড়িতরা পরস্পর একে অপরকে বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তবে একে অপরের প্রতি মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা হলেও কোন পক্ষের বক্তব্য সঠিত তা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার টাওয়ার হ্যামলেটস বারার প্যারেন্টস, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ মেয়র জন বিগসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ব্লুমুন মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় কাউন্সিলের অডিট রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভূল তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারা বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কর্তৃক কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলগুলোতে ছয় মাস আগে দু’জন ইন্সপেক্টর কর্তৃক যে অফস্টেড ইন্সপেকশন করা হয়েছিল তার রিপোর্ট আজ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। অফস্টেড ইন্সপেকশন প্রকাশ না করে অডিট কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কাউন্সিল ও কমিউনিটিকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

তবে মেয়র বলছেন, অফস্টেড স্বীকৃত দুইজন ইন্সপেক্টর ২০১৫ সালে কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস নিয়ে তদন্ত করেছিলেন। কয়েকজন শিক্ষক এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে লজ্জা থেকে বাচানোর জন্য তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

এদের অনেকেই কাউন্সিলের চাকুরীজীবি। মেয়র হিসাবে আমি আমার কোন স্টাফকে লজ্জায় ফেলতে পারিনা। রিপোর্ট প্রকাশ না করার এটাও অন্যতম একটি কারন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে কেউ চাইলে তা দেখাতে আমি প্রস্তুত আছি।

অডিট রিপোর্ট সম্পর্কে মেয়র বলেন, এটা কোন ভাবেই প্রপাগান্ডা নয়। এটা কাউন্সিলের রুটিন বিষয়। কাউন্সিলের সব সার্ভিসেই এধরনের অডিট হয়ে থাকে। অডিটে প্রাপ্ত ব্যর্থতার জন্য সার্ভিস প্রদানকারী অথবা শিক্ষকরা দায়ী নন। কোনভাবেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী এজন্য শাস্তি পেতে পারেন না।

এই ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব ম্যানেজমেন্টের। ম্যানেজমেন্টই একে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলো। ডিভিএস সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির যথাযথ রেকর্ড ও তাদের শিক্ষার মূল্যায়ন রিপোর্ট না থাকা, কোন কোন ক্ষেত্রে চাইহ্ব প্রটেকশন পলিসি না মানা, কাউন্সিলের যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই অর্থ ছাড় দেয়া এবং উল্লেখযোগ্যভাবে অতিরিক্ত ব্যয় ইত্যাদি সিরিয়াস ইস্যু। করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহিতা থাকা উচিত।

তবে ডিবিএস-এর এ তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল বলে জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলন আয়োজকরা। তারা বলেন, সকল ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটরদের ডিবিএস আপটুডেট রয়েছে। কারো ডিবিএস এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি। সরকারী আইন অনুযায়ী ডিবিএস চেক এর কোন মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় না। এ ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র ও লিড মেম্বার আমাদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় কিছু বলেননি।

টিউটরদের কোন অতিরিক্ত রেকর্ড রাখার জন্য কোন নিয়ম নেই। অথচ অবৈধ রেকর্ড রাখার অভিযোগ এনে ইচ্ছাকৃতভাবে লেবার গ্রুপ জরুরী মোশন এনে কাউন্সিল ও পাবলিককে বিভ্রান্ত করেছে।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বিগত ৩০ বছর ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসে চালুকৃত কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ (বাংলা, চাইনিজ, সোমালী, উর্দু, আরবী, ক্যান্টলিজ প্রভৃতি) সার্ভিসকে রক্ষা ও ফান্ডিং কর্তন বন্ধ, আর্লি জিসিএসই বন্ধ না করে তা চালু রাখা ও শিক্ষকদের বিভিন্ন ন্যাংসঙ্গত দাবি নিয়ে দুই হাজার পাঁচশত দস্তখত সম্বলিত একটি দাবিনামা ও প্রশ্নমালা আমরা কাউন্সিলে পূর্ণ সভায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেয়া হয়েছিল। একই সাথে এসব দাবি সম্বলিত চিঠি লেবার গ্রুপ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপের লিডাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২১শে সেপ্টেম্বর বুধবার কাউন্সিলের পূর্ণ সভায় স্বতন্ত্র কাউন্সিলর গ্রুপ কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের ফান্ডিং কাট বন্ধ ও আর্লি জিসিএসই চালু রাখার নিমিত্তে একটি মোশন আনেন।

এ মোশনের উপর বিতর্ক হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু কাউন্সিলের লেবার গ্রুপের পক্ষ থেকে আরেকটি জরুরী সেশন আনা হয়। এ মোশনে কাউন্সিলের অডিট কমিটি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে ভুল তথ্য পূর্ণ সভায় পেশ করা হয়। তারা বলেন এছাড়া আর্লি জিসিএসই পরীক্ষা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর যে ভাল ফলাফল লাভ করে আসছিল তা ভুল তথ্য দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

সঠিক পদ্ধতি ছাড়া পেমেন্ট ক্লেইম:

অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শিক্ষকরা সঠিক পদ্ধতি ছাড়াই পেমেন্ট ক্লেইম করেন। এটাও সম্পূর্ণ অসত্য। কারণ শিক্ষকরা কাউন্সিল নির্ধারিত ফরমে ক্লেইম করলে পেমেন্ট ক্লেইম করার পর প্রতিষ্ঠানের চেয়ার / সেক্রেটারী অনুমোদন করার পর কাউন্সিলের সার্ভিস ম্যানেজার তা অনুমোদন করেন, তারপরে শিক্ষকদের পেমেন্ট দেওয়া হয়।

৮০ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যায়ের ভুল তথ্যঃ

মোশনে বলা হয়েছে যে, সি এল এস গত বছর ৮০ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। অথচ বাস্তব অবস্থা হচ্ছে যে, কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের হেড এর পদ ও আরো দু’জন অফিসারের পদ বিলুপ্ত করে কাউন্সিল ২৬০ হাজার পাউন্ড সাশ্রয় করেছে।

৪শ হাজার পাউন্ডের বাজেট:

মোশনে বলা হয়েছে সি এল এস এর বার্ষিক বাজেট হচ্ছে ৪শ হাজার পাউন্ড। তাও সঠিক তথ্য নয়। আমাদের হিসেব মতো ও কাউন্সেলের বরাদ্দকৃত বাজেট অনুযায়ী সি এল এস এর বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে কমপক্ষে ৭শ ৬৯ হাজার পাউন্ড।

সরকার জিসিএসই থেকে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস অপসারণের ভুল তথ্য:

মোশনে প্রদত্ত এ তথ্যটিও ভুল। ন্যাশনাল কারিকুলামে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলায় বা অন্যান্য ভাষায় যে জিসিএসই পরীক্ষা দেয়া হয় তা মডার্ণ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে দেয়া হয়।

এছাড়া লেবার গ্রুপ প্রদত্ত মোশনে চাইল্ড প্রটেকশন পলিসি, মনিটরিং এবং সি এল এস বিভাগ ০% রেইট করার পেছনে সরবরাহকৃত তথ্য কতটুকু সঠিক তা তদন্ত করে দেখা দরকার।

এখানে উল্লেখ্য যে, বিগত মেইনস্ট্রীম গ্রান্ট প্রদানের সময় প্রায় ১৫টি বাংলা স্কুলের রানিং কস্ট এর ফান্ড কাট করা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বন্ধ হওয়ার পথে। কাউন্সিলকে ভুল তথ্য দিয়ে ফান্ড কাট করার জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আমরা তার পূর্ণ তদন্ত দাবি করছি। সাথে সাথে কমিউনিটির স্বার্থে কমিউনিটি ল্যাঙ্গয়েজের কোন ফান্ড কর্তন না করা, শতাধিক শিক্ষকের চাকুরী রক্ষা ও আর্লি জিসিএসই রক্ষার জোর দাবি জানাচ্ছি। যে সব প্রতিষ্ঠানে টিউটর সাপোর্ট রয়েছে অথচ রানিং কস্ট নেই তাদেরকে কাউন্সিল থেকে সহযোগিতা করা দরকার।

প্যারেন্টস ও অভিবাকদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাহেদ চৌধুরী, হাজী আতিক মিয়া, আবু হোসেন, মাহবুব হোসেন, আমির আলি, কে এম আবু তহের চৌধুরী

কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্য সত্য নয়: মেয়র জন বিগস

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস বিষয়ে সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া কয়েকজন কমিউনিটি ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন। এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে বারার বাসিন্দাদের এই সার্ভিস দিয়ে আসছে। আমি যতদিন মেয়রের দায়িত্বে থাকবো ততোদিন এই সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।

শুধু তাই নয়, এর গুনগত মান বাড়ানোর জন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তাই এই সার্ভিসের বাজেট সংকোচন বিষয়ে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা সত্য নয়। মেয়র জানান, কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের অধীনে মোট ৩টি সার্ভিস দেয়া হতো। আর এর মোট বাজেট ছিলো ৭শ হাজার পাউন্ডেরও বেশী।

এই সার্ভিস ৩টি হচ্ছে মাদার টাং ক্লাস, আর্লি জিসিএসই এবং প্রাইমারী মডার্ন ল্যাংগুয়েজ। এই ৩টি সার্ভিসের অন্যতম মাদার টাং ক্লাস এর বাজেট হচ্চেছ ৪শ হাজার পাউন্ড। জন বিগস বলেন, আমি ২০১৫ সালে মেয়র হওয়ার পর ষ্ক্রমাদার টাং ক্লাসেম্বর বাজেট থেকে এক পেনিও কাটা হয়নি।

শুধু তাই নয়, ২০২০ সাল পর্যন্ত মাদার টাং ক্লাসের জন্য এই বাজেট আমি নিশ্চিত করেছি। এছাড়া এর পরবর্তীতেও এটা যাতে অব্যাহত থাকে এই পরিকল্পনাও আমার রয়েছে। ইতিপূর্বে এই খাতে ৮০ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে ম্যানেজম্যান্টের ব্যর্থতার কারনে। ম্যানেজমেন্টে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ৪শ হাজার পাউন্ডেই সমান সার্ভিস দেয়া সম্ভব। এটা বাজেট কাট নয়।

কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের অধীনে আর্লি জিসিএসই এর জন্য বাজেট ছিলো ১৬০ হাজার পাউন্ড। এটা আসতো সরাসরি সরকার থেকে চিলড্রেন সার্ভিস এর মাধ্যমে। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে সরকার জিসিএসই পরীক্ষানীতিতে পরিবর্তন এনেছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী আর্লি জিসিএসই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে সরকার এখাতে ফান্ড বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। মেয়র বলেন, এটা আমার কোন সিদ্ধান্ত নয়। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত।

কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের অধীনে তৃতীয় যে সার্ভিস দেয়া হতো তা হচ্চেছ, প্রাইমারী মডার্ন ল্যাংগুয়েজ এবং এর বাজেট হচ্ছে ১শ ৪০ হাজার পাউন্ড। এই সার্ভিস এবং এর বাজেট কোনটাই কাটা হয়নি। এই সার্ভিস যেহেতু স্কুল দিয়ে থাকে এজন্য এর বাজেট চলে গেছে চিলড্রেন সার্ভিসের অধীনে।

অডিট রিপোর্ট সম্পর্কে মেয়র বলেন, এটা কোন ভাবেই প্রপাগান্ডা নয়। এটা কাউন্সিলের রুটিন বিষয়। কাউন্সিলের সব সার্ভিসেই এধরনের অডিট হয়ে থাকে। অডিটে প্রাপ্ত ব্যর্থতার জন্য সার্ভিস প্রদানকারী অথবা শিক্ষকরা দায়ী নন। কোনভাবেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী এজন্য শাস্তি পেতে পারেন না। এই ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব ম্যানেজমেন্টের। ম্যানেজমেন্টই একে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলো।

ডিভিএস সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির যথাযথ রেকর্ড ও তাদের শিক্ষার মূল্যায়ন রিপোর্ট না থাকা, কোন কোন ক্ষেত্রে চাইহ্ব প্রটেকশন পলিসি না মানা, কাউন্সিলের যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই অর্থ ছাড় দেয়া এবং উল্লেখযোগ্যভাবে অতিরিক্ত ব্যয় ইত্যাদি সিরিয়াস ইস্যু। করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহিতা থাকা উচিত।

মেয়র আরো জানান, অফস্টেড স্বীকৃত দুইজন ইন্সপেক্টর ২০১৫ সালে কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস নিয়ে তদন্ত করেছিলেন। কয়েকজন শিক্ষক এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে লজ্জা থেকে বাচানোর জন্য তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। এদের অনেকেই কাউন্সিলের চাকুরীজীবি।

মেয়র হিসাবে আমি আমার কোন স্টাফকে লজ্জায় ফেলতে পারিনা। রিপোর্ট প্রকাশ না করার এটাও অন্যতম একটি কারন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে কেউ চাইলে তা দেখাতে আমি প্রস্তুত আছি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close