Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

অনিশ্চিত পথে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের সময়কার অবস্থা অতিক্রম করেছে। এ সম্পর্ক এখন এক অনিশ্চিত সংঘাতময়। এটা কোনো নতুন শীতল যুদ্ধ নয়। এমনকি নয় এটা গভীর শিরগিরে অনুভূতি সৃষ্টিকারী অবস্থা। এটা হলো সরাসরি সংঘাত।

এ অবস্থাকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ডেঞ্জারাস পয়েন্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে এসব কথা বলা হয়েছে অনলাইন সিএনএনের এক প্রতিবেদনে।

সাংবাদিক নিকোলে গোয়েত্তে ও এলিসে ল্যাবোট লিখেছেন বহুবিধ অভিযোগ, মতানৈক্য, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বহুবিধ ইস্যু, পূর্ব ইউরোপীয়দের স্বাধীনতা নিয়ে বিরোধ, সাইবার হামলার মতো বিভিন্ন অভিযোগে দ্রুত অবনতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক।

দু’দেশের সংঘাতময় এমন পরিস্থিতিতে উইলসন সেন্টারের কেনান ইন্সটিটিউটের পরিচালক ম্যাথিউ রোজানস্কি বলেছেন, এটা একটা সংঘাত। এতে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট বলেছেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ায় যে হ্যাকিং হয়েছে তার উচিত জবাব দয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার জন্য ক্রেমলিনকে দায়ী করেছে।

সিরিয়ার আলেপ্পোতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এরপরই সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি সংলাপ ভেঙে যায়। এর পরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযোগ করে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। এ সপ্তাহে সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। আমরা এমন অভিযোগের বিষয়ে একটি সিঙ্গেল তথ্য বা সিঙ্গেল প্রমাণও পাই নি।

তবে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন রাশিয়ার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে হ্যাকিং করছে।

তবে বুধবার মস্কোতে একটি বিনিয়োগ বিষয়ক ফোরামে উপস্থিত হয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি হিলারির এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার স্বার্থ নিয়ে পুরো একটি হিস্টেরিয়া রয়েছে। এসব করে মার্কিনীদের মতামতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে কেউ কথা বলছে না।

সবাই শুধু জানতে চাইছে, কে এটা (হ্যাকিং) করেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন আখ্যায়িত করে মস্কো পারমাণবিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি থেকে আকস্মিকভাবে বেরিয়ে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইস্কান্দার মোতায়েন করেছে ইউরোপে ন্যাটোর কাছাকাছি। রাশিয়ার কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

এরই মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় জরুরি ডিক্রি জারি করেছেন। তাতে বিদেশে অবস্থানরত রাশিয়ানদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবার আত্মীয়-স্বজন, সন্তানদের দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সন্তানরা যদি বিদেশে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি অবস্থায়ও থাকে তাহলেও তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close