লন্ডন থেকে

ব্রিটিশ বাংলাদেশী যুবককে পুলিশি নির্যাতনে লন্ডনে কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ: অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ দাবীতে সভা অনুষ্টিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জন্মসূত্রে ব্রিটিশ ‍যুবক জাকারিয়া হোসেনের ওপর পুলিশী নির্যাতনে ফুলে ফেপে উঠেছে লন্ডনের বাঙ্গালী কমিউনিটি।

নেতৃস্থানীয় সকল রাজনৈতিক ব্যাক্তি, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কমিউনিটির সকলস্থরের মানুষের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পূর্ব লন্ডনের আরবার কমিউনিটি হলে।

এদিকে ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট রেইসিজম এন্ড হেইট ক্রাম সংগঠনে র উদ্যোগে এক প্রতিবাদ ও পরবর্তী করনীয় শীর্ষক এক সভা অনুষ্টিত হয়েছে শনিবার।

কমিউনিটির উত্তেজনা টের পেয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস সোমবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পুলিশ অফিসারের এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিরক্তিকর ভিডিওটি দেখার পরপরই বারা কমান্ডারের সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ের আহ্বান জানিয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের শাস্তি ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা দেখতে চাই।

শুক্রবার আয়োজিত এই সর্বদলীয় সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ যুবক জাকারিয়া হোসেনের গাড়ি তল্লাশির সময় তার উপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতিসহ শাস্তি দাবী করেছেন।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, জাকারিয়া হোসেন হচ্ছে তরুন সমাজের আইডল। সে তরুন যুবকদের ভাল কাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি একটি ইয়ুথ সেন্টার দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করে আসছে।

এতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির লিডার কাউন্সিলার অলিউর রহমান, সাবেক মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খানসহ সর্বস্তরের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাকারিয়া হোসেন ও তার আইনজীবী।

এদিকে শুক্রবারের প্রতিবাদ সভায় মেয়র জন বিগস বলেন সারাদেশে ক্রাইম বাড়লেও টাওয়ার হ্যামলেটসে সে তুলনায় অপরাদ বাড়েনি। আমি এখানে এসেছি কমিউনিটির মানুষের কথা শুনতে এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে। আমি জাকারিয়ার বিষয়টি নিয়ে লন্ডন মেয়রের পুলিসিং বিভাগের ডেপুটি মেয়র এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এর বারা কর্মান্ডার সঙ্গে কথা বলেছি আবারও কথা বলে একটি সুরাহা করার চেষ্টা করব।

জানা যায়, গত রোববার (৯ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রিনে ক’জন বাঙালি তরুণকে সিভিল ড্রেসের পুলিশ জিজ্ঞাসবাদ শেষে ছেড়ে দেন। পরে একজন পোশাকধারী পুলিশ এসে তাদের গাড়ির পেট্রোল ট্যাঙ্কের ক্যাপ খুলে ফের অনুসন্ধান শুরু করলে নির্যাতনের শিকার জাকারিয়া এর প্রতিবাদ করেন।

এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ওই তরুণকে শারীরিক নির্যাতন করেন। ওই পুলিশ সদস্য তরুণের মাথা নিচের দিকে চেপে ধরে ঘাড়ে আঘাত করতে থাকলেও উপস্থিত অন্য পুলিশ সদস্যদের তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়নি।

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই এই নির্যাতনের একটি ভিডিওক্লিপ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয় পুরো কমিউনিটিতে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বহিষ্কার ও শাস্তি দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করতে থাকেন।

উল্লেখ্য, লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক নির্যাতনের শিকার জাকারিয়া হোসেনের গাড়ি তল্লাশির সময় তার উপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতিসহ শাস্তি দাবী করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close