ইউরোপ জুড়ে

ব্রেক্সিটের পর আসছে অক্সিট

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ব্রেক্সিটের পর কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অস্ট্রিয়া বেরিয়ে যাবে! এমনটা করাই উচিত বলে মন্তব্য করেছেন

তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বেরিয়ে গেলে এতে প্রাধান্য থাকবে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোর। তাতে সুবিধা পাবে গ্রিস ও স্পেনের মতো দরিদ্র দেশগুলো। অন্যদিকে দুর্ভোগে পড়বে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশ। এ জন্য অস্ট্রিয়ার উচিত হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া।

যদি অস্ট্রিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে তাকে বলা হবে অক্সিট (অীরঃ)। লন্ডনের অনলাইন এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

হ্যান্স ওয়ার্নার বলেছেন, বৃটেন ২০১৭ সালের শুরুতে যখন লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করবে তখন দরিদ্র দেশগুলোর করুণায় থাকবে তথাকথিত ধনী দেশগুলো। এসব গরিব দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্যবহার করবে তাদের স্বার্থে। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ম্যানিপুলেট করবে।

তাই বলে জার্মান এ অর্থনীতিবিদ অস্ট্রিয়াকে স্থায়ীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান নি।

তিনি বলেছেন, এ নিয়ে অস্ট্রিয়াকে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বেক্সিট পরবর্তীতে মাসট্রিক্ট চুক্তি হয়ে পড়বে অপরিহার্য। ১৯৯২ সালে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল জন মেজরের সরকার। আর অস্ট্রিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করেছে মাত্র ১৯৯৫ সালে। অর্থাৎ ওই মাসট্রিক্ট চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পরে।

তাই তিনি ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে এই মাসট্রিক্ট চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। জার্মান এই অর্থনীতিবিদ মুদ্রা হিসেবে ইউরোরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই মুদ্রা চালু করার ফলে বিভিন্ন দেশ অযৌক্তিকভাবে স্বল্প হারের সুদে অর্থ ধার নিয়েছে। এতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, হ্যান্স ওয়ার্নার ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক-এর প্রেসিডেন্ট। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, এই স্বল্প সুদের কারণে ইউরোর সত্যিকার মূল্যমান কমে গেছে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিতরের অর্থনীতির বৈষম্যের বিষয়টিতেও দৃষ্টি দিয়েছেন। বলেছেন, অর্থনীতি ধসে পড়ার পরও কিভাবে পোল্যান্ডের চেয়ে গ্রিসে বেতন দ্বিগুন হয়।

তিনি বলেন, আমরা একটি নাটকীয় সময়ে বসবাস করছি। এখনও ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশ সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশে বেকারত্বের সংখ্যা অনেক বেশি।

ওদিকে এ বছরের শেষের দিকে অস্ট্রিয়াতে নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনে যদি দেশটির উগ্র ডানপন্থি দল ফ্রিডম পার্টি বিজয়ী হয় তাহলে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রশ্নে গণভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ দলটি মারিয়ানি লি পেনের ন্যাশনাল ফ্রন্টের শরীক।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির নেতা ও অর্থমন্ত্রী হ্যান্স জোর্গ শেলিং বলেছেন, সুপারস্টেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বৃটেনকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তারা সম্ভবত ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close