অন্য পত্রিকা থেকে

পতন হবেই ইউরোর

নিউজ ডেস্ক: পতনের জন্য প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন মুদ্রা ইউরো। বর্তমানে এ মুদ্রা যে অবস্থায় আছে তাতে সে আর টিকে থাকতে পারবে না। এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন ইউরো নামের এ মুদ্রার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ইউরোপীয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রথম প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ওতমার ইসিং। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

প্রফেসর ওতমার ইসিং বলেছেন, ইউরো মুদ্রার যে উদ্দেশে সৃষ্টি করা হয়েছিল তা বর্তমানে অকার্যকর। এর জন্য এর পতনের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেছেন, ভয়ংকরবাবে ইসিবি তার সীমানা বেশি বাড়িয়েছে। এই একক মুদ্রা দিয়ে তারা ১৯টি দেশের অর্থনীতি ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

বাণিজ্য বিষয়ক জার্নাল ‘সেন্ট্রাল ব্যাংকিং’কে তিনি তাসের কার্ডের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, একদিন হাউজ অব কার্ডস এর পতন ঘটবে। তার ভাষায় ২০০২ সালে এই মুদ্রাটি চালু করার মুহূর্ত থেকে এটি নিয়ে একক মুদ্রা হিসেবে পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে।

কিন্তু এর সঙ্গে প্রতারণা করেছে আঞ্চলিক রাজনীতি। এ মুদ্রা একটি সঙ্কট থেকে আরেকটি সংকটের সঙ্গে লড়াই করেছে। এখন আর কতদিন তা অব্যাহত থাকবে সে বিষয়ে পূর্বাভাস করা খুব কঠিন।

তবে এ ধারা অনাদিকাল পর্যন্ত চলতে পারে না। তিনি বিশ্বাস করেন দেউলিয়া হওয়া রাষ্ট্র যেমন গ্রিস ও আয়ারল্যান্টের মতো দেশের সঙ্কট থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল ইসিবি। এটাই তাদের ভয়াবহ ভুল। তিনি বলেন, দ্য স্টাবিলিটি অ্যান্ড গ্রোথ প্যাক্ট অনেক অথবা নূন্যতম হলেও ব্যর্থ হয়েছে। ইসিবির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মার্কেট ব্যবস্থাপনাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ফলে বাজার অথবা রাজনীতি ক্ষেত্র থেকে আর্থিক নিয়ন্ত্রণের কোনো কৌশল নেই। আর্থিক ইউনিয়নে এটাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এই মুদ্রার অভিন্নতা বিষয়ক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। তবে রাজনৈতিক এমন ঐক্য হওয়ারও সম্ভাবনা কম।

মোদী আজ দিনের শুরুতেই ব্রিকস-এর আলোচনার সুর বেঁধে দিতে চেয়েছেন পাক-সন্ত্রাস নিয়ে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্নে একটি বড় বাধা হল সন্ত্রাসবাদ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল, ভারতের প্রতিবেশী একটি দেশ সন্ত্রাসবাদের মূল জাহাজ (মাদার শিপ) স্বরূপ। বিশ্বের সমস্ত সন্ত্রাস মডিউল এই জাহাজটির সঙ্গে যুক্ত।

পরে সমাপ্তি বক্তৃতাতেও ব্রিকসভুক্ত দেশের নেতাদের পাশে বসিয়ে মোদী বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাছাই করে ব্যবস্থা নিলে তা শুধু মাত্র ব্যর্থ হবে না, তার উল্টো ফলও হতে পারে। এ ব্যাপারে সমস্ত দেশকে একজোট হয়ে সার্বিক ভাবে লড়াই করতে হবে। সন্ত্রাসবাদীদের যারা রাজনৈতিক ভাবে সমর্থন করছে, তারাও কিছু কম ক্ষতিকর নয়। জঙ্গিদের অস্ত্রশস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মসৃণ ভাবে। এগুলিকে নির্মূল করতেই হবে। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্ত্রাসবাদ তার দীর্ঘ ছায়া ফেলছে বলে মন্তব্য করে মোদী বলেন, ব্রিকসে আমাদের অগ্রাধিকার হল সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা।

যদিও তাঁর এই ‘অগ্রাধিকার’ শেষ পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়নি ঘোষণাপত্রে। উরি-কাণ্ডের একটি প্রচ্ছন্ন প্রসঙ্গ ঠাঁই পেলেও কোথাও স্পষ্ট ভাবে পাকিস্তানের নাম ওঠেনি। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘‘ভারত-সহ ব্রিকসভুক্ত কয়েকটি দেশের উপর যে আক্রমণ হয়েছে, আমরা তার ঘোরতর নিন্দা করছি। সন্ত্রাসবাদকে কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না।

তা সে আদর্শগত, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, জাতিগত—যে মোড়কই দেওয়া হোক না কেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার জন্য ব্রিকসভুক্ত দেশগুলি তাদের সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর পর আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলি দ্রুত রূপায়ণের উপরে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ঘোষণাপত্রে।

কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, যে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার দিক্‌নির্দেশিকা দিয়েছে ব্রিকস-ঘোষণাপত্র, সেই পরিষদেই ভারতের জন্য পাঁচিল তুলে রেখেছে ব্রিকস-এরই সদস্য চিন। গত কাল পর্যন্ত তারা নিরাপত্তা পরিষদের নিষিদ্ধ জঙ্গি তালিকায় জইশ-ই-মহম্মদের নেতা মাসুদ আজহারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধিতা করে গিয়েছে।

নাম না করতে চাওয়া এক সরকারি কর্তার কথায়, ‘‘আসলে সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে! যে ব্রিকস-এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে, তার সদস্যদের মধ্যেই এমন একাধিক দেশ রয়েছে, যারা নিজের স্বার্থে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করে।’’

জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরিতে নিয়ন্ত্রণরেখার ও পার থেকে পাক সেনার গুলিতে নিহত হলেন সুদেশ কুমার নামে এক ভারতীয় সেনা। তাঁর বাড়ি উত্তরপ্রদেশে।

রবিবার পুঞ্চ ও রাজৌরিতে ও-পার থেকে আক্রমণ শুরু হতেই পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে এ নিয়ে ২৫ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভাঙল পাকিস্তান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close