জাতিসংঘ

বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও এখনো খাদ্য সংকটে রয়েছে চার কোটি মানুষ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় চার কোটি মানুষ এখনো খাদ্য সংকটে রয়েছে। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের খাদ্য নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তারা তিন বেলা পেট ভরে খাবার খেতে পারেন না। ইচ্ছেমতো বৈচিত্র্যময় খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। এজন্য তারা অপুষ্টিরও শিকার।

রকার ও জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির এক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি-বিষয়ক কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও এখনো প্রতি তিনজনে একটি শিশু নিপীড়নের শিকার। নানা পদক্ষেপের পরও গত কয়েক বছরে দেশের অতি অপুষ্টিহীনতার হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। দেশের গ্রামাঞ্চল ও বস্তিতে এ প্রবণতার হার বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান অর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সঠিক পুষ্টির অভাবে স্থূলতা এবং শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এ জন্য কৃষি খাতে আরও বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এমনভাবে জোরদার করতে হবে, যাতে একজনও এ থেকে বাদ না যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে নারীর ক্ষমতায়ন মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ সমসাময়িক দেশের অপুষ্টি দূরীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে হবে। অপুষ্টির হার কমাতে গণসচেতনতাসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, দায়িত্ব সচেতনতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

‘স্ট্র্যাটেজিক রিভিউ অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তৈরি করেছে।

গবেষণা দলের প্রধান ছিলেন নর্দান আয়ারল্যান্ডের আলস্টার ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিক্স বিভাগের প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান ওসমানী। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন- আকতার আহমেদ, তাহমিদ আহমেদ, নায়োমি হোসেন, সালিমুল হক ও আসিফ শাহান। এ দলটি ১০ মাস সময় ধরে গুণগত ও পরিমাণগতসহ নানা মেথোডলজির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অপুষ্টি জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতি ইস্যু নিয়ে গবেষণার পর এ প্রতিবেদন তৈরি করেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নানা উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্ম প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি ক্রিসটা রাদের, চিফ অব স্টাফ জেমস হার্ভে বক্তব্য দেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close