এশিয়া জুড়ে

সেই রাগান্বিত আফগান গার্লে’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালে মার্কিন ফটোগ্রাফার স্টিভ ম্যাককুরি তোলা একটি ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিল।

বিটি ছিল আফগানিস্তানের একটি শরণার্থী শিবিরের উদ্বাস্তু এক কিশোরীর। সরবত গুলা নামের ওই সময়ের ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী ছবির শিরোনাম আফগান গার্ল হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বব্যাপী। সেই আফগান গার্লকে আটক করা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করেছেন। এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাকে ১৪ বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হবে।

পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকার খবরে বলা হয়, পেশোয়ারে নিজ বাসভবন থেকে গতকাল তাকে আটক করেছে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)।

এফআইএ সূত্র বলেছে, কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে পাকিস্তানি ও আফগান পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে এবং দুইটি পরিচয়পত্রই জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে পাকিস্তান পেনাল কোডের ৪১৯ ও ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি রোধ আইনের ৫ (২) ধারায়। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেজ রেজিস্ট্রেশন অথোরিটির (নাদরা) কর্মকর্তা শহীদ ইলিয়াস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এফআইএ সরবত গুলাকে জাল পরিচয়পত্রের জন্য আটক করেছে।

তিনি জানান, এই জাল পরিচয়পত্র প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় রেজিস্ট্রেশন অথোরিটির তিন কর্মকর্তাকেও খুঁজছেন তারা। আর সরবরত গুলার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সাত থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারদণ্ড ও ৩ ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার শাস্তি পেতে হবে।

গত বছর নাদরা সরবত বিবি ও তার দাবি করা দুই সন্তানের জন্য তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করে। ওই কার্ডগুলোর ইন্স্যুরেন্সে নাদরার আইন ও প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়। পরে নাদরার অনুসন্ধানী বিভাগ ও এফআইএ কর্মকর্তারা ওই কার্ডগুলোর জন্য জমা দেয়া তথ্যগুলোকে জাল বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং ওই কার্ডগুলো বাতিলের আদেশ দেয় এফআইএ।

কর্মকর্তারা জানান, তারা অনুসন্ধানে নামলে সরবত গুলার দুই সন্তান হিসেবে যাদের পরিচয় ও ঠিকানা দেয়া হয়েছে তাদের শনাক্ত করতে পারেনি ওই ঠিকানায় থাকা ব্যক্তিরা।

১৯৮৪ সালে স্টিভ ম্যাককুরির তোলা ছবি দিয়েই বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে সরবত গুলা। তবে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি দীর্ঘদিন। ২০০২ সালে আবারও তার সন্ধান পান ম্যাককুরি এবং তিনি বলেন, এত বছর পরেও সরবত গুলার চোখ দেখেই তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন। সরবত গুলা মূলত আফগানিস্তানের শরণার্থী সংকটের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে রয়েছেন। পাকিস্তানকে কয়েক দশক হলো এই সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-ও স্বীকার করে নিয়েছে, এটিই ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘায়িত’ শরণার্থী সংকট। ধারণা করা হয়, প্রায় ৩০ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে বাস করছেন এবং তাদের অর্ধেকই অনিবন্ধিত।

২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তান এসব অনিবন্ধিত শরণার্থীকে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এর জন্য ২০১৭ সালের মার্চ মাসের সময়সীমাও বেধে দেয়া হয়েছে। তবে এই সময়সীমার মধ্যে সব শরণার্থী নিজ দেশে ফেরত যাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পাকিস্তানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের সুরক্ষা দেয়ার বিয়টিতে জোর দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে অবস্থানরত এসব শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে দেশেও তাদের ফিরতে হচ্ছে তালেবানদের হামলার হুমকি এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে মাথায় রেখে।

আবার পাকিস্তানেও তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রাও তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব শরণার্থীরা অপরাধ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ নিজ দেশে ফেরত যেতে চান না কোনোভাবেই। সেক্ষেত্রে অনেক সময়ই তারা জাল পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নথি তৈরি করে পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সরবত গুলাও তেমনই একটি উদাহরণ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close