যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের বিড়ম্বনা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: নানা কারণে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খোঁজেন যুক্তরাজ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। আর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে।

রণার্থীরা আয়ের সংস্থান করতে না পেরে বিষিয়ে উঠে তাদের জীবন। গত শনিবার (২৯ অক্টোবর) মূলধারার একটি ইংরেজি দৈনিকে এমনই এক শরণার্থীর ভোগান্তির গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

হোম অফিস তাদের ব্রিটেনে অবস্থানের অনুমতি দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তির শেষ হয় না। কেননা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারলে তারা যে বৈধ কোনো কাজেও যোগ দিতে পারেন না।

যাদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত ব্যাংকিং খাত। এর পাশাপাশি যথাযত যাচাই প্রক্রিয়া চালু রাখার মাধ্যমে আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। শরণার্থীদের কীভাবে আরও ভাল সেবা প্রদান করা যায়- সে লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাত সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে বিবিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নাম প্রকাশ না করা ওই শরণার্থী বলেন, হোম অফিস তাকে ব্রিটেনে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে। সেইসঙ্গে কাজেরও অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট সাথে না থাকার কারণে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না। এতে করে তার পক্ষে বৈধ কোনো কাজেও যোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কারণ তাঁর পাসপোর্ট হোম অফিসের হাতে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো হোম অফিসের ইস্যু করা আইএনডি অ্যাপ্লিকেশন রেজিট্রেশন কার্ড গ্রহণ করতে বাধ্য। সেইসঙ্গে অ্যাসাইলাম সাপোর্ট অ্যালাউন্স এবং আয়ের উৎসও প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক গ্রহণ করতে পারে।

কিন্তু ব্যাংকের কর্মীরা কাগজপত্রের বাড়তি ঝক্কি সামাল দেয়ার অনিহায় এসব গ্রহণ করেন না বলে মনে করা হয়। আবার অ্যাসাইলাম সিকারররা হোম অফিসের অর্থে বসবাস করেন, তাদের সমূদয় বিলও হোম অফিস প্রদান করে। এর ফলে অ্যাসাইলাম সিকারদের পক্ষে বাসস্থানের প্রমাণপত্রও দেখানো কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিটও ব্যাংক বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করে না। যদিও হোম অফিস এটিকেই বিশ্বসযোগ্য প্রমাণপত্র হিসেবে মানে। ব্যাংকের এমন আচরণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অ্যাসাইলাম সিকারদের।

কেননা তাদের পাসপোর্ট থাকে হোম অফিসের হাতে। আর পাসপোর্ট ছাড়া অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিতে চায় না ব্যাংকগুলো। এই অবস্থার অবসানের দাবি জানিয়েছে শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি রিফিউজি কাউন্সিল। ব্রিটিশ ব্যাংকিং এসোসিয়েশনের (বিবিএ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিসাব খোলার জন্য ব্যংক বহুবিদ কাগজ পত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close