যুক্তরাজ্য জুড়ে

গত ২ বছরে ৫ হামলা ভণ্ডুল বৃটেনে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: গত দু’বছরে বৃটেনে ৫টি জঙ্গি হামলা পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। সন্ত্রাসীরা বৃটেনের রাজপথে এমন হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এ জন্য তারা হাতে অস্ত্র পাওয়ারও চেষ্টা করে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে বৃটিশ পুলিশ।

তারা স্বীকার করেছে এ সময়ে আইনগতভাবে বৈধ ৮০০ অস্ত্র খোয়া গেছে। এ জন্য ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সন্ত্রাসীবিরোধী কমান্ড জনগণের প্রতি বিরল একটি আর্জি জানিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অপরাধ বিষয়ে অস্ত্রের হাতবদল অথবা আইনগতভাবে বৈধ অস্ত্রের অধিকারী যদি অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন তাহলে তারা যেন বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

বৃটেনে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শাখাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিস হামলার মতো হামলা প্রতিরোধ করা। পুলিশের আশঙ্কা, অপরাধীদের কাছ থেকে অস্ত্র পাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। লন্ডনের রাজপথে ও অন্য বড় শহরগুলোতে দৃশ্যত সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন।

পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখার ইনচার্জ, অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার মার্ক রোলে বলেছেন, আমরা জানি সীমান্ত অতিক্রম করে অথবা ডিলারদের কাছ থেকে অথবা অন্য অনেক উপায়ে ক্রিমিনাল মার্কেটে অস্ত্র প্রবেশ করতে পারে। এসব অস্ত্রের সন্ধানে, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা ও জনগণকে নিরাপদ রাখতে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সঙ্গে রয়েছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক হয়ে তারা এ কাজটি করে যাচ্ছে।

মার্ক রোলি আরও বলেছেন, গত দু’বছরে ১০টি হামলা পরিকল্পনা তারা ভণ্ডুুল করে দিয়েছেন। তবে তার মধ্যে অর্ধেক পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। তারা অস্ত্র হাতে পাওয়ার চেষ্টা করছিল। বৃটেনে অস্ত্র আইন কঠোর।

ফলে এখানে হাতে অস্ত্র পাওয়া খুব সহজসাধ্য নয়। তবে তারা যেসব সমপ্রদায়ে পরিচিত সেখানকার অপরাধীদের কাছ থেকেই সন্ত্রাসীরা বেশির ভাগ অস্ত্র পেয়ে থাকে। পশ্চিম লন্ডনে একটি গ্রুপকে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বৃটেনে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।

তাদের টার্গেট ছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বেসামরিক মানুষ। এসব সন্ত্রাসী লন্ডনভিত্তিক অপরাধীদের কাছ থেকে বন্দুক, সাইলেন্সার ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। এ গ্রুপের মূল হোতা তারিক হাসান (২২) ও তার বন্ধু সুহায়েব মাজিদ (২২)কে গত মার্চে সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অন্য দু’জন নিয়াল হ্যামলেট, নাথান কাফিকে অস্ত্র সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তারিক হাসানকে মোহাম্মদ ইমওয়াজির সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হয়।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ ইমওয়াজি বিশ্বব্যাপী আইসিসের ‘জিহাদি জন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তারপর থেকে অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত লন্ডন থেকে ২০২টি অস্ত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এর সংখ্যা ছিল ৮৭।

ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির মহাপরিচালক লিন ওয়েন বলেছেন, বর্তমানে আমরা বিশ্বাস করি আমরা এগিয়েছি অনেকটা। ইউরোপীয় অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের তুলনায় এখন বৃটেনে অবৈধ অস্ত্রের প্রাপ্যতা খুব কম। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি সাধন করেছি সে বিষয়ে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। এই মানকে ধরে রাখতে আমাদের কাজ করতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close