দুনিয়া জুড়ে

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

ভোট গণনার সময় তার পক্ষে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা ২৭০ পেরিয়ে গেলেই অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসতে থাকেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর প্রধানরা অভিনন্দন জানাতে থাকেন ট্রাম্পকে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসির খবরে বলা হয়, এই অভিনন্দন জানানোর তালিকায় রয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মাত্তের রেনজিসহ বিশ্ব নেতারা। এছাড়া ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের ডানপন্থি নেতারা ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি মোটেও।

ট্রাম্পের জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর এক টেলিগ্রামে পুতিন অভিনন্দন জানান ট্রাম্পকে। এতে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের অর্থ এই নয় যে, দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দূর হয়ে গেছে। তা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তবে ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।

তাতে তিনি বলেন, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ব্যবসায়িক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় আমরা এখনও শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক থাকবে। আসছে দিনগুলোতে আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিনন্দন জানিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে।

নির্বাচনী ফলাফলে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হলে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইল রাষ্ট্রের একজন প্রকৃত বন্ধু। আমাদের অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শান্তি এগিয়ে নিতে তার সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত ট্রাম্প এবং আমি একসঙ্গে মিলে আমাদের মিত্রতার শক্তি বৃদ্ধিকে অব্যাহত রাখবো এবং একে অনন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে যাব।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক ও জ্যঁ-ক্লদ জাংকার যৌথ এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে।

তাতে ইইউয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা ট্রাম্পের প্রতি যত দ্রুত সম্ভব ইউরোপ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেও অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে। দুতের্তে সরকারের এক মন্ত্রী জানান, দুতের্তে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন।

ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিরিজ টুইটে তিনি দুই দেশের মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের জয়কে ‘অসামান্য বিজয়’ অভিহিত করেছেন। বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে পররাষ্ট্রনীতির ওপরে স্থান দেয়ার কারণেই ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি জোরদার করতে আরো ‘সহায়তা ও সমন্বয়’ দেখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলে এখনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্র্যাংক-ওয়ালটার স্টেইনমেয়ার ট্রাম্প জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জার্মানি যেমনটি চেয়েছিল তার চেয়ে ভিন্ন ফল এসেছে।

তবে অবশ্যই এই ফলকেও মেনে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে জানিয়ে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি হয়তো অনুমান করা কঠিন হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ‘শক্তিশালী মিত্র’ আমেরিকার আর নেই।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েনও অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের মতোই মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলও এটাই প্রমাণ করে যে উন্নত বিশ্বে সাধারণ মানুষ বিদ্যমান অবস্থা নিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছে। তারা নিজেদের পরিচয়কে নতুন করে জানাতে চায় এবং অবস্থার পরিবর্তন চায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউন বিয়াং-সে বলেন, ট্রাম্পও বর্তমান মার্কিন নীতির মতোই উত্তর কোরিয়ার ওপর কড়া অবস্থানে থাকবেন বলে তিনি মনে করেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি টুইটে লিখেছেন, ‘আমেরিকার জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে এবং এই নির্বাচনে বিজয়ে আমি ডনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাই।’ তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমও অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে।

একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দেশে ফেরত পাঠায়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ট্রাম্পের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাবে তাইওয়ান।

ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ট্রাম্পকে অভিনন্দন। আশা করি তার মেয়াদে শান্তি আসবে।’ হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিকটর ওবরান বলেন, ট্রাম্পের বিজয় একটি ‘দারুণ সংবাদ’। ‘গণতন্ত্র এখনো বেঁচে আছে’- এটা তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে এক বিবৃতিতে লিখেছেন, উভয় দেশের মধ্যে স্বাধীনতা ও পারস্পরিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা কৌশলগত সম্পর্কের একটি অনন্য উদাহরণ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close