অন্য পত্রিকা থেকে

ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডের এক যুগপূর্তি: এই ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে বয়ে আনুক নববার্তা

ডক্টর এম মুজিবুর রহমান: সোমবার অস্কারখ্যাত ব্রিটিশ কারী এ্যাওয়ার্ডের ১২তম আসর বসবে বাটারসি পার্ক প্যাভিলিয়নে। বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে সেন্ট্রাল লন্ডনের বাটারসি পার্ক। আলো ঝলমল মনোমোগ্ধকর পরিবেশে টেমস্ এর তীর যেন পুরোপুরি হাতছানী দিয়ে ডাকছে গ্রেট ব্রিটেনের ক্যারী শিল্পের গৌরব ভরা এ আয়োজন।

ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডের ফাউন্ডার এনাম আলী এমবিই’র সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে ক্যারী শিল্পের অস্কার খ্যাত এ অনুষ্ঠানটিতে এবারও উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিখ্যাত সেলিব্রেটিরা। শিল্প, সাহিত্য, মিডিয়া, রাজনীতি, ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত হবে ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডের একযুগ পূর্তি অনুষ্ঠান।

পুরো ব্রিটেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এবারো ‘ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডে’ যোগ দিতে অনলাইনে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তবে সৌভাগ্যবান দু’হাজারের মত অতিথি এবারের অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ কারী এ্যাওয়ার্ডের এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির এক প্রতিভাবান ব্যবসায়ী ও দক্ষ সংগঠক জনাব এনাম আলী এমবিই।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডের এক যুগ পূর্তি এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ব্রিটিশ বাঙালীদের সফলতার ধারাবাহিকতা। বাঙালীরা যে কোন সমৃদ্ধ জাতির সামনে নিজের আত্মপরিচয় স্বমহিমায় তুলে ধরতে পারে সেটার একটি প্রমাণ ব্রিটেনের ক্যাারী শিল্প।

আমি প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি, এ কাজটি ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে। আমরা চেষ্ঠা করলে অনেক কিছু করতে পারি, আমাদের জাতির জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমাদের জাতি সত্ত্বার স্বকীয়তা অবশ্যই ফুঁটে উঠবে আমাদের স্বকর্মের বর্নিলতায়। এবারে অনুষ্ঠানটির প্রযোজনায় থাকছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির এক মেধাবী ও সম্ভাবনাময়ী তরুণ জেফরী আলী। ব্রিটেনের মূলধারার সংস্কৃতি অঙ্গনের সেরা শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে এবারো মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

পাশাপাশি দেশ-মা ও মাটির শেকড়ে যে টান তাড়িত করে একজন এনাম আলীকে সেই বাংলাদেশের শিল্পিত পরিচয় তুলে ধরার শিল্পিত প্রয়াস। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ব্রিটিশ ক্যারি এ্যাওয়ার্ডে তাঁর এক রেকর্ডকৃত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘কারীবিহীন একটি সপ্তাহ আজ কল্পনা করে না কোন ব্রিটিশ নাগরিক।’

তিনি তার সেই বক্তৃতায় আরো বলেছিলেন, চিকেন টিক্কা মসল্লা আমাদের প্রিয় খাবার। যারা প্রতিদিন এ উন্নত খাবার পরিবেশন করেন তারা ‘সেরা ব্রিটিশ।’ ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা যে সেরা কিছু করতে পারে সেটার বাস্তব উদাহরণ ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ড। শুধু তাই নয় আমাদের কমিউনিটির ব্যাবসায়ীরা ব্রিটিশ অর্থনীতিতে কিভাবে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখছেন, তার ফ্যাক্ট এন্ড ফিগারসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি ।

ব্রিটেনে বাংলাদেশীদের পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসাও করেছেন ডেভিড ক্যামেরুন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশী কমিউনিটির এই অবদানকে ব্রিটিশ মূল্যবোধের সাথে একীভূত হওয়ার এবং কমিউনিটি সংযোগ এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী নিকি মর্গান এর ভাষায় “কারী আজ ব্রিটিশ হাউজ হোল্ড ব্রান্ড। এটি আজ শুধু ব্রিটেনে নয় পুরো বিশ্বেই রপ্তানী হচ্ছে।

ব্রিটেনের অর্থনীতিতে যোগান দিচ্ছে বিলিয়ন পাউন্ড। যা দিয়ে অর্থনীতি আরো সুদৃঢ় হচ্ছে।” নিকি মর্গানের এ সত্য উচ্চারণে সাহসী এক অভিযাত্রী এনাম আলী এমবিই কারী শিল্পকে বিশ্বময় পরিচিতি দিয়েছেন বিশ্বময় তার ব্রিটিশ কারী এ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে। সাপ্তাহিক সুরমার গত সংখ্যায় আমাদের কারি ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অনিশ্চিয়তা নিয়ে একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, গত ১৮ মাসে ১ হাজারের বেশি রেস্টুরেন্ট বন্দ্ব হয়ে গেছে। এসব রেস্টরেন্ট বন্দ্ব হওয়ার অন্যতম কারণ দক্ষ স্টাফের অভাব। বর্তমান আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ অথবা ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে একজন দক্ষ শেফ আনতে হলে রেস্টুরেন্ট মালিককে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ডের উপরে বেতন গুনতে হয়। তবে তা করেও যে পার পাওয়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কারণ সব কিছু ঠিকঠাক করেও ভিসা পাওয়াও আজকাল আলাদিনের প্রদীপের মতো ঘটনা হয়ে গেছে। এই চরম সংকটেও রেস্টরেন্ট ব্যবসাকে শিল্পে নিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা এর উন্নয়নে সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলছেন।

সভা সেমিনার, পিটিশন দাখিল প্রদানের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রসহ ঊর্ধ্বতন প্রায় সকল পর্যায়ে লবিং করে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু এতসবের পরেও বাস্তবে খুব একটা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। আর সরকারের ইমিগ্রেশন নীতিতে পরিবর্তন না আনলে বাইরে থেকে দক্ষ শেফ আনা মোটেই সহজ হবেনা।

এক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে লোকালি দক্ষ স্টাফ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এখন রেস্টুরেন্টের টাইম-টেবিল এর কারণে কাজ করতে চাইবেনা।

তবুও এই সেক্টরকে যুগোপযোগী ও সিস্টেমকে আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে এ প্রজন্মের ক্ষুদ্র একটা অংশকেও যদি উৎসাহিত করা যায় তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে তারা ভাল ভূমিকা রাখতে পারবে।

তাই কারিশিল্পের বর্তমান সকটময় মুহূর্তে ব্রিটিশ ক্যারী এ্যাওয়ার্ডের যুগপূর্তি ইভেন্ট কারিশিল্পের সংকট সমাধানে এবং ৪ বিলিয়ন পাউন্ড টার্ন-ওভারের এই ইন্ডাস্ট্রির বিকাশে বয়ে আনুক নববার্তা এই কামনা রইলো।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close