জাতীয়

মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে পুলিশ খুঁজছে শাকিলের বন্ধুকে: স্তব্ধ স্ত্রী, অঝোরে কাঁদছেন একমাত্র কন্যা মৌপি

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ঙ্গলবার দুপুরে গুলশানের সামদদো জাপানি রেস্তোয়া থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত সিআইডির ৪টি দল ঘটনাস্থল থেকে ২ ব্যাগ আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আকস্মিক এই মৃত্যুর রহস্যজট খুলতে পুলিশ খুঁজছে শাকিলের সাথে রাতে রেস্তেরায় আসা এক বন্ধুকে।

শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় গুলশানের সামদাদো রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বাবলুসহ সাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে ঘটনার পর পুলিশ গুলশানের সামদাদো রেস্টুরেন্টের কর্মচারীসহ ছয়জনের কাছে শাকিলের মৃত্যুর বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে। তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে গুলশান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।

এরপর বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে বাবার লাশ দেখতে গুলশানের সামদাদোতে আসেন শাকিল-পপি দম্পত্তির একমাত্র সন্তান জাকিয়া রুবাবা মৌপি । এসময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

কারো কোনো স্বান্তনাতেই কান্না থামছিল না শাকিল কন্যার। বাবার সঙ্গে নিজের ও পরিবারের কয়েকটি ছবি মোবাইলে দেখছিল আর অঝোরে কাঁদছিল।মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই পিতা হারানোর শোকে তার কান্না থামছে না।

শাকিলের স্ত্রী আইনজীবী নিলুফা আনজাম পপিও স্বামী হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে গুলশানের সামদাদো রেস্তোরা থেকে ফোনে তাকে জানানো হয়, ‘শাকিল কোনো সাড়াশব্দ করছেন না। দ্রুত আসুন।’ এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি এবং অন্যান্য আত্নীয় স্বজনরা ছুটে আসেন সেখানে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সামদাদো রোস্তোয়ায় আসেন মাহবুবুল হক শাকিল। এসময় তার সঙ্গে এক বন্ধুও ছিলেন। সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সেই বন্ধুকে চিহ্নিত করা এবং তিনি কতক্ষণ শাকিলের সঙ্গে ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রহস্যজনক কোনো ঘটনা ঘটে খাকলে সেটিও বের করা হবে।তবে শাকিলের মৃত্যু রহস্য নিয়ে এ মুহূর্তে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার আগে এবং পুলিশের তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি সূত্রটি।

শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ-সিআইডি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। সামদোদো রেস্টুরেন্টে শাকিলের লাশ দেখতে এসে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শাকিলের লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। বিষয়টি আপাতত সিআইডি-পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

গুলশান থানার পরিদর্শক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, মাহবুবুল হক শাকিল কিভাবে মারা গেছেন, কখন হোটেলে এসেছেন এসব বিষয়ে জানার জন্য ৬ রেস্টুরেন্টের ৬ কর্মীকে থানায় নেয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কূটনৈতিক জোনের উপ-কমিশনার জসিম উদ্দিন জানান, ‘এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মৃত্যুর বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখতে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তা কর্মচারিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

এর আগে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছিলেন, রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ডাকা হয়। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ওয়েস্টিন হোটেলের পিছনে চানদান রেস্টুরেন্টে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সেখানে চিকিৎসক আনা হয়। ওই চিকিৎসকই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাহবুবুল হক শাকিলের লাশ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সকাল ৮ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে লাশের ময়নতদন্ত শেষে ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তার একটি জানাজা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। এরপর তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহাবুবুল হক শাকিল যুগ্মসচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) হিসেবে কাজ করছিলেন।

মাহবুবুল হক শাকিলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা।

শাকিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আইনজীবী স্ত্রী ও শাকিলের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close