ভারত জুড়ে

জয়ললিতার কোনো উত্তরাধিকার নেই তাহলে এই বিপুল সম্পত্তির মালিকানা পাবে কে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১১৩.৭৩ কোটি রুপির মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো উত্তরাধিকার নেই। তাহলে জয়ললিতার এই বিপুল সম্পত্তির মালিকানা এখন কার?

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পরলোকগমনের পর থেকেই মাথাচাড়া দিয়েছে এই প্রশ্ন।

এই সম্পত্তি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে একাধিকবার বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষ তাকে এ ব্যাপারে পুরোপুরি নাজেহাল করে ছেড়েছে। কখনো কয়েক হাজার শাড়ি, কখনও জুতো বা সোনা রাখার অভিযোগ উঠেছে। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি নেই সম্পত্তির, বিরোধীদের এ দাবিতে বহুবার বিপাকে পড়েছেন।

কিন্তু আবার রাজনৈতিক কৌশলে সে সব থেকে বেরিয়েও এসেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তার রেখে যাওয়া এই বিপুল সম্পত্তি এবার কে পাবেন?

প্রায় ২৪,০০০ স্কোয়ার ফুট জায়গাজুড়ে তৈরি যে বাড়িতে জয়ললিতা থাকতেন সেটিরই মূল্য প্রায় ৪৩.৯৬ কোটি রুপি। ১৯৬৭ সালে জয়ললিতার মা এ বাড়ি কিনেছিলেন মাত্র ১.৩২ লাখ রুপিতে। অনুমান করা হচ্ছে, জয়ললিতার ছায়াসঙ্গী শশীকলা নটরাজন এ বাড়ি পেতে পারেন উত্তরাধিকারী হিসেবে।

তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েক একর জমিও কিনে রেখেছিলেন। প্রায় ১৮ একর জমি ও তিনটি কমার্শিয়াল বিল্ডিংও আছে তার সম্পত্তির তালিকায়। তার এই সম্পত্তির বেশ কিছুটা পেতে পারেন তার দত্তক পুত্র ভি এন সুধাকরণ। যিনি আবার শশীকলার ভাইপোও বটে।

বেশ কয়েকটি গাড়ি আছে জয়ললিতার। যার মধ্যে আছে দুটি এসইউভি, একটি টেম্পো ট্রাভেলর, টেম্পো ট্রাক্স, মাহিন্দ্রা জিপ, অ্যাম্বাসাডর, মাহিন্দ্রা বোলেরো-সহ অন্যান্য গাড়িও। যেগুলির মিলিত মূল্য ৪২ লক্ষ টাকারও বেশি। এই গাড়িগুলির মালিকানা কার হবে তা নিশ্চিত নয়।

বিপুল পরিমাণ সোনাও জয়ললিতার ছিল বলে জানা গিয়েছিল। যদিও এ নিয়ে মামলা চলেছিল, সোনার পরিমাণ নানা মতভেদ আছে। তবে সোনা ও রুপো যে তার কাছে যথেষ্ট পরিমাণে ছিল এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৬ সালে এক নির্বাচনের আগে জানা গিয়েছিল তার অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৪১.৬৩ কোটি টাকার। স্থাবর সম্পত্তি ৭১.০৯ কোটি টাকার। আর কে নগর নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল তাতে এই পরিমাণ সম্পত্তিরই উল্লেখ ছিল।

বেশ কিছু ফার্মেও বিনিয়োগ ছিল জয়ললিতার। যার পরিমাণ ২৭-২৮ কোটি টাকার কম নয়।

কিন্তু কে এই সম্পত্তির মালিকানা পাবেন তা নিয়ে জোর ধাঁধা। কেননা সেই অর্থে জয়ললিতার কোনো উত্তরসূরি নেই। কোনো উইল করে গিয়েছেন বলেও জানা যায়নি। ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে শশীকলা ও দত্তক পুত্র কিছু সম্পত্তি পেতে পারেন। বাকি সম্পত্তি হয়তো কোনও ট্রাস্টে দান করা হতে পারে। ব্যক্তিগত শাড়ি ও জিনিস নিয়ে আম্মার নামে কোনো সংগ্রহশালা তৈরির কথাও বলছেন অনেকে।

তবে সবকিছুই এখনো জল্পনার স্তরে। জয়ললিতার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তি নিয়ে তামিল রাজনীতিতেও যে গণ্ডগোল বাধতে পারে, এ আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close