Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে হস্তক্ষেপ করেছে রাশিয়া: রাশিয়ার হ্যাকিং খতিয়ে দেখার নির্দেশ ওবামার

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য রাশিয়া প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করেছে বলে বিশ্বাস করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, কয়েকটি সংবাদপত্রকে একথা জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রভাবিত করতে দেশটির বিভিন্ন সাইটে রাশিয়ার হ্যাকিং সম্পৃক্ততা পরিপূর্ণভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

হোয়াইট হাউসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও কাউন্টার টেররিজমবিষয়ক উপদেষ্টা লিসা মোনাকো সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় কী হয়েছে, তা পরিপূর্ণভাবে খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। সেখান (নির্বাচন) থেকে পাওয়া শিক্ষা আমলে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে সেটি পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো “খুবই আত্মবিশ্বাসী” যে ডেমোক্র্যাট দল এবং হিলারি ক্লিনটনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর হ্যাকিংয়ের সাথে রাশিয়া যুক্ত ছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনেও একইরকম তথ্য উঠে এসেছে।

তবে মি. ট্রাম্পের সহযোগীরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, সিআইএ-র দাবী নাকচ করে দিয়ে বলছেন, এই লোকগুলোই বলেছিল যে সাদ্দাম হোসেনের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারাও বারবার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় একাধিক সাইবার অ্যাটাকের বিষয়ে একটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এরিক শুলজ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সাইবার হামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

শুলজ আরো বলেন, যতটুকু সম্ভব এই পর্যালোচনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটররা দেশটির নির্বাচনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত সব গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশে ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত অক্টোবরে এসব হ্যাকিংয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে বক্তব্য দেন মার্কিন কর্মকর্তারা । তারা বলেন, রাশিয়া মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে।

এখন সিনিয়র কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আত্মবিশ্বাসী যে রাশিয়ান হ্যাকাররা ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কম্পিউটার সিস্টেমও হ্যাক করেছে, কিন্তু তারা রিপাবলিকান নেটওয়ার্কের তথ্য ফাঁস করেনি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, রুশরা ডেমোক্র্যাটদের তথ্য উইকিলিকসের কাছে পাচার করে।

ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কমিটি এবং মিসেস ক্লিনটনের প্রচারণা কমিটির প্রধান, জন পোডেস্টার ইমেইল হ্যাকিং নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা।

প্রচারণার একপর্যায়ে মি. ট্রাম্পও রাশিয়ার নাম উল্লেখ করে তাদেরকে মিসেস ক্লিনটনের আরো ইমেইল “খুঁজে” বের করার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে তিনি দাবী করেন যে তার সেই বক্তব্য ছিল বিদ্রূপাত্মক।

আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের আগেই রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান লিসা মোনাকো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় হ্যাকিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে রাশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের দাবির সপক্ষে নথি পেশ করা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close