জাতীয়

সুচির দূতের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আজ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুন—দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির বিশেষ দূতকে এ প্রত্যাশার কথাই জানাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার কারণে এ দেশে সৃষ্ট নানা সমস্যা তুলে ধরে যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

ঢাকা সফররত বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউ কিয়াউ তিনের নেতৃত্বে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এসব সাক্ষাতে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছেন সু চির বিশেষ দূত।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবল বৈশ্বিক সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে সু চি তাঁর বিশেষ দূতকে ঢাকা পাঠিয়েছেন। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে।

গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ দুই দফায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানায় এবং বাংলাদেশ থেকে সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

সু চির দূতের ঢাকা সফরের আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি গত সোমবার থেকে ১২ দিনের মিয়ানমার সফর শুরু করেছেন। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ও সার্বিকভাবে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। ওই দলটি গতকাল পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী ১৯ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ তার মূল্যায়ন তুলে ধরবে। সূ চির বিশেষ দূতের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় মালয়েশিয়ার বৈঠক প্রসঙ্গও স্থান পেতে পারে।

মিয়ানমার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানানোর পর থেকেই এ দেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র দুই হাজার ৪১৫ জনকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করছে এবং এর মাধ্যমে কার্যত বাকিদের ব্যাপারে দায়দায়িত্ব অস্বীকারের চেষ্টা করছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক আয়ে আয়ে সোয়ে সম্প্রতি নাগরিক হিসেবে যাদের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে কেবল তাদেরই ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close