অন্যকিছু

জার্মানের যে সংস্কৃতিগুলো অবাক করবে আপনাকে

অন্যকিছু ডেস্ক: প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব কিছু বিষয় থাকে, যেগুলো বিদেশিদের কাছে নতুন বা অন্যরকম মনে হয়৷ জার্মানিও এর ব্যতিক্রম নয়৷ জার্মান সংস্কৃতির কিছু মজার এবং অদ্ভুত তথ্য আজ আপনাদের জানাবো।

অদ্ভুত বিবাহঃ জার্মানির বিবাহরীতি বেশ অদ্ভূত। আপনি শুনে অবাক হবেন যে, জার্মানির পল্লী অঞ্চলে বউ অপহরণের মত ঘটনা ঘটে। বন্ধুরা বউকে লুকিয়ে রাখে এবং বর বাধ্য হন তার বউকে খুঁজে বের করতে। কিছু সারিবদ্ধ ট্যাভার্নসের ভিতর বউকে লুকিয়ে রাখা হয় এবং বন্ধুদের বিয়ার কিনে দেয়ার সুবাদে বর তার বউকে ফেরত পায়। অদ্ভূত এই খেলা মাঝে মধ্যেই বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়।

নিশ্চুপ রবিবারঃ রুয়েটাগ মানে শব্দহীন দিন৷ জার্মানিতে রবিবার হলো শব্দহীন দিন। অর্থাৎ শব্দ তৈরি হয় এমন কোনো কাজ এই দিন করা যাবে না। এমনটা করলে আপনাকে প্রতিবেশীর কাছ থেকে অভিযোগ শুনতে হবে।

জন্মদিনের আগে শুভেচ্ছা অশুভঃ জার্মানিতে জন্মদিনের আগে কাউকে শুভেচ্ছা জানানো হয় না। কারণ তারা এটাকে ‘অশুভ’ মনে করে। তাই তাদের শুভেচ্ছা পর্ব শুরু হয় জন্মদিনের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ মধ্যরাতে।

ময়লা ফেলায় সাবধানঃ ময়লা আবর্জনা আপনাকে আলাদা আলাদাভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। যেমন খাবারের ময়লা একটা ট্রামে, বোতল একটা ট্রামে এভাবে। যদি ভুলেও আপনি জানালা দিয়ে ময়লা ফেলেন আর এই দৃশ্য যদি আপনার প্রতিবেশী দেখে ফেলেন তবে আপনার খবর আছে।

উচ্চশব্দে গান বাজালেই বিপদঃ জার্মানিতে লাঞ্চের সময় দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। এই সময় উচ্চশব্দে গান বাজানো যাবে না। কারণ এইসময় মা তাদের বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখে। আর রাতের বেলা যদি এই কাজ করেন তাহলে নির্ঘাত আপনার বাসায় পুলিশ এসে হাজির হবে।

বুদবুদ-কণা ওঠা পানিঃ জার্মানদের বাড়িতে অতিথি এলে তাঁকে ‘ট্যাপকল’-এর পানি দেয়াকে অভদ্রতা হিসেবে দেখা হয়৷ তাদের কাছে পানি মানেই ‘বুদবুদ-কণা ওঠা’ পানি, যেটাকে কার্বনেটেড বা সোডা ওয়াটার বলা হয়৷ তাই অতিথিকে সাধারণত বোতলজাত পানি বা বুদবুদ ওঠা পানি দিতে হয়৷ জার্মানির কোনো রেস্টুরেন্টে পানি চাইলেও ‘স্পার্কলিং ওয়াটার’ অর্থাৎ বুদবুদ ওঠা পানি দেওয়া হয়।

প্লিজ যখন হ্যাঁ, ধন্যবাদ যখন না: জার্মানির লোকদের কাছে প্লিজ শব্দটি হ্যাঁ-সূচক এবং ধন্যবাদ শব্দটি না-সূচক বোঝায়। ধরুন আপনি জার্মানিতে কোনো বারে গিয়ে বিয়ার পান করছেন৷ ওয়েটার এসে যদি জিজ্ঞেস করে আপনার আরও বিয়ার চাই কিনা আর তখন যদি আপনি তাকে বলেন ‘ডাংকে’, মানে ধন্যবাদ, তাহলে সে বুঝে নেবে, আপনি আর বিয়ার চান না৷

কিন্তু আপনি যদি বলেন ‘বিটে’, মানে প্লিজ, তাহলে সে বুঝবে হ্যাঁ, অর্থাৎ আপনার আরও চাই৷

দুপুরে গরম, রাতে ঠান্ডাঃ বাঙালির খাবার যেমন গরম হওয়া চাই, জার্মানদেরও তেমনি৷ তবে পার্থক্য একটাই। জার্মানরা শুধু দুপুরের খাবারটা চান গরম৷ রাতে তাঁরা ঠান্ডা ব্রেড বা রুটির সঙ্গে শূকরের মাংস, পনির, চিজ বা সবজি দিয়ে খেয়ে ফেলেন৷ অনেক সময় শেষ পাতে থাকে নানা রকম ফলও৷

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close