জাতীয়

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেনের আলোচিত বান্ধবী নীলা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: চাঞ্চল্যকর নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেনের আলোচিত ‘বান্ধবী’ ও স্ত্রী দাবিদার জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের সর্দারপাড়ায় তার নিজ বাসায় নুর হোসেনকে নিয়ে নিজের অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতিচারণ করছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা। এ সময় নীলা বলেন, এক সময় নূর (নূর হোসেন) আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক যন্ত্রণাই দিয়েছে।

তবে সবাই যাকে ভয় পেত, সেই নূর হোসেনই আমাকে ভয় পেত। যতবারই তার অফিসে গিয়েছি টেবিলের ওপর থেকে লাইসেন্স করা পিস্তলটি সে ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখত। আমার সামনে তা রাখত না। কারণ আমার ওপর করা অন্যায়ের কারণে সে মনে মনে ভীত ছিল। তবে আমিও তাকে ছাড়িনি। বাধ্য হয়ে আমিও তাকে অনেক অপমান করেছি।

নীলা আরও বলেন, সেভেন মার্ডারের সঙ্গে যারাই যুক্ত ছিল তাদের সবারই যেন সর্বোচ্চ সাজা হয়। তা কামনা করেছি। কারণ সেভেন মার্ডারে শুধু সাতটি জীবনই নষ্ট হয়নি, নষ্ট হয়েছে সাতটি পরিবার। প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিজের পরিচয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল কিছু দুর্বৃত্ত। তাদের প্রশাসনের লোক বলেই চিনতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন নীলা। আরো বললেন, নূর হোসেন আমার সঙ্গে কারও সখ্যই পছন্দ করত না। সিটি কর্পোরেশনের কোনো পুরুষ কাউন্সিলর আমার সঙ্গে হেসে কথা বললেও তার কাছে খবর চলে যেত। এর আগে নূর হোসেনের ‘রক্ষিতা’ ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা বলে একাধিক গণমাধ্যমে ফলাও ভাবে খবর প্রকাশ হয়েছিলো।

তবে এ প্রসঙ্গে নীলা জানান, সাত খুনের একজন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ছিলেন তার বিয়ের উকিল বাবা। তবে গণমাধ্যম তাকে রক্ষিতা বা যেভাবেই তুলে ধরা হোক না কেন, তাতে একটা লাভও হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, তিনি এখন সেলিব্রিটি।

নীলা বলেন, ‘কিছু কিছু মিডিয়া লেখে আমি নাকি নুর হোসেনের রক্ষিতা। বিয়ের পর একজন স্ত্রী কীভাবে স্বামীর রক্ষিতা হয়?’

গণমাধ্যমের কারণে তার সংসার আজ তছনছ হয়ে গেছে অভিযোগ করে নীলা বলেন, তবে আমি গণমাধ্যমের কারণে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তেমনি আবার গণমাধ্যমগুলোর কারণে ব্যপক সেলিব্রেটিও হয়েছি। দেশে-বিদেশে আজ অনেকে চেনে আমাকে। লন্ডনে আমার আজ অনেক ফ্রেন্ড-শুভাকাক্সক্ষী সৃষ্টি হয়েছে।

নুর হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে দাবি করে এর সাক্ষীও হাজির করেন নীলা। বলেন, ‘নুর হোসেনের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে এটা নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধি, সাংসদ, কাউন্সিলরসহ নারায়ণগঞ্জবাসী সবাই জানে। বিয়ের পর একজন নারী কীভাবে কারো রক্ষিতা হয় সেটা আমার প্রশ্ন।’

তবে সাত খুন ঘটনার সময় নূর হোসেনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করে নীলা তাদের সম্পর্ক ভাঙার পূর্বাপর তুলে ধরেন- ২০১৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছোট নজরুল ও বিএনপির এক নেতাকে মারধর করেন নুর হোসেন ও তার ক্যাডাররা। তার পর থেকে নুর হোসেনের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে ভুলে যাই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা। এভাবে আস্তে আস্তে দূরত্ব তৈরি হয় নুর হোসেনের সঙ্গে আমার।

নুর হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি হয়েছে কি না-এমন প্রশ্ন এড়িয়ে নীলা বলেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে কি না তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দাবি করেন জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা। বলেন, ‘নজরুল কাকা আমার বিয়েতে উকিল হয়েছিল। আমার মা-বাবা নজরুল কাকাকে নিজের ছেলের মেতো ভালোবাসত। আমার সাথে নজরুল কাকার খুব চমৎকার সম্পর্ক ছিল।

কিন্তু নুর হোসেনের কারণে নজরুল কাকার পরিবারের সাথে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়। আর যুবলীগ নেতা ছোট নজরুল ও বিএনপির এক নেতার কারণে নুর হোসেনের সাথে সম্পর্ক ভেঙে যায়। সাত খুনে সন্দেহ করা হয়েছিল নীলাকেও। তদন্তে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

নীলা বলেন, আমি নির্দোষ ও সৎ ছিলাম। আর সৎ ছিলাম বলেই আল্লাহ আমাকে সেভ করেছে। সাত খুন, সিদ্ধিরগঞ্জের মার্ডার মামলাসহ কোনো মামলাতেই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে নাই। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি অনেক তদন্ত করেছে। কিন্তু কোনো তদন্তেই আমার দোষ খুঁজে পায়নি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close