জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মায়ানমারের ওপর চাপ দিতে ওআইসির সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহবান

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: চলমান রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনসহ সব ধরনের বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড খুব দ্রুত বন্ধ করতে এবং এ বিষয়ে মায়ানমার সরকারকে চাপ দিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

মায়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনের ভাষণে এ আহ্বান জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতুক রামলান ইব্রাহিম।

একই সঙ্গে সব ধরনের বৈষম্যের অবসান এবং পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যও মায়ানমার সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

দাতুক রামলান ইব্রাহিম বলেন, সেখানকার বর্তমান অবস্থাকে আমরা কোনোভাবেই আর মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না। আমরা আশা করি, অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক পাঠানো প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা তাদের কাছে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে মায়ানমার সরকার তার পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান আসবে না। মালয়েশিয়া বিশ্বাস করে আজকে আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যাটির একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধান খুঁজে পাব।

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া বিশ্বাস করে, চলমান এই সঙ্কট অব্যাহত থাকলে তা এ অঞ্চলের সম্ভাব্য স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায়কে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।

রাখাইন রাজ্য রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে মায়ানমারের ৪১টি সংগঠন। এর মধ্যে নারী অধিকার বিষয়ক সংস্থাসহ আছে মানবাধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানায়।

এর আগে অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছিল মায়ানমার সরকার। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ওই কমিশনের প্রতিবেদনটি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ‘হাস্যকর’ মনে হয়েছিল। কারণ কমিশন বলেছিল, রোহিঙ্গাদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতন চালানোর অভিযোগ নাকি সত্য নয়।

এদিকে, মায়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াংহি লী রাখাইন রাজ্যে তার তদন্ত বিষয়ক সফর শুক্রবার শেষ করবেন বলে জানা গেছে।

গত অক্টোবর মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য সংখ্যালঘু হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর রক্তাক্ত নির্যাতনের অভিযোগ উঠে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের অমানবিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে এসব অসহায় রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শবর্তী বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত রোহিঙ্গা গণধর্ষণ, ভয়ংকর নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ওঠে আসছে।

সাম্প্রতিক নির্যাতনে প্রায় ৩০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে বিদেশি সাংবাদিক, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের এসব অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে দেয়া হচ্ছে না।

কয়েক প্রজন্ম ধরে এসব রোহিঙ্গারা বার্মায় বসবাস করে আসছে। তারপরেও তাদের নাগরিকত্বকে স্বীকার করা হয়নি। তারা বিবাহ, ধর্মপালন, সন্তান জন্মদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগণ হিসাবে বসবাস করছে।

২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং এরপর থেকে তারা পুলিশ পাহাড়ায় দারিদ্র্যপীড়িত ক্যাম্পে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানে তারা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের আন্দোলনকে প্রচন্ডভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close