অন্য পত্রিকা থেকে

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে প্রজেক্ট বিল্ডিং ও প্রজেক্ট ফিয়ার

আব্দুল হাই সনজু: লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বইছে অতি পরিচিত সেই মৌসুমী বায়ূ। পুরনো সদস্যদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে অতীতের হতাশা, ক্ষোভ আর আশা-আকাঙ্খার কথা; আর নতুন সদস্যদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মৌসুমী বায়ূর সাথে নিজেকে পরিচিত করে নেয়ার উত্তেজনা।

চার বছর আগে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এর দুই বছর পর কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়াই (গুরুত্বহীন তিনটি পদ ছাড়া) আবারও ক্লাবের দায়িত্ব নেয় একই কমিটি।

এর ধারাবাহিকতায় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইতিহাসে শীর্ষ নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা দ্রুতগতিতে নিম্নগামী হয়ে পড়ে এবং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে অভূতপূর্ব অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ক্লাবের পৃথক কার্য্যালয় চালু করা সহ আরও কিছু বিষয়ে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিক ব্যর্থতার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক হৈচৈ করেছি।

দুই বছরেরও বেশী সময় আগে ক্লাবের সদস্য পদগুলোর নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য সাংগঠনিক পদ্ধতি অনুসরণ না করার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল সদস্যের পদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। আমিও ছিলাম মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদের একজন এবং তখন থেকেই আমি ক্লাবের বাইরে।

বর্তমান নেতৃত্বের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব ও আচরণকে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়ে গত দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে আমি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বাইরে থাকলেও গত এক দশকে ক্লাব পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছি। এ কারণেই হয়তো মৌসুমী সেই বাতাস বইতে শুরু করলে আমিও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে বেশ কিছু মৌসুমী ফোনকল পাই। ক্লাবের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখালেখি করারও অনুরোধ আসে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ক্লাবের সবচেয়ে বড় উদ্যেশ্য হচ্ছে ক্লাবের নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠা। সময় যতো গড়িয়েছে সবকিছুই কঠিন হয়েছে। এখন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে ‘ভবন’ আর ‘ভাড়া করা কার্যালয়’ এই দুটি সিদ্ধান্তের একটিকেই বেছে নেয়ার সময়। কিন্তু সরিষার মধ্যেই ভুত। নির্বাচনের মৌসুম এলে সমস্যার সমাধান না করে ভবন/কার্য্যালয় ইস্যুটিকে ক্লাবের নির্বাচনে জয়লাভের ‘কার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে গত এক যুগ ধরে।

আর এতে প্রতিবারই পরাজিত হচ্ছে ক্লাবের সাধারণ সদস্যরা। এর সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো অন্য কোথাও। ৩২২ জন সদস্যদ্যের মধ্যে হয়তোবা ২২ জন সাংবাদিক পাওয়া যাবে যাঁরা সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমেই রুটিরুজির সংস্থান করেন; অন্যরা ক্লাবের সদস্য হতে পেরেই হয়তোবা ধন্য। যাই হোক, এই আলোচনায় না গিয়ে কার্য্যালয় প্রসঙ্গেই আরো কিছু কথা বলতে চাই।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে গত দুই মেয়াদের স্বেচ্ছাচারিতার কথা যদি ভুলেও যাই, তারপরও দেখা যাবে নির্বাচনে নিয়মিতভাবে দুটি কার্ড ব্যবহার হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে ‘প্রজেক্ট বিল্ডিং’ আর অন্যটি হচ্ছে ‘প্রজেক্ট ফিয়ার’।

‘প্রজেক্ট বিল্ডিং’ এর আওতায় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৮-১০ জন পুরনো সদস্য জড়িত। তাঁদের ধারণা, ক্লাবের জন্য সংগৃহিত বড় অংকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই অর্থকে ‘কেবল ভবন ক্রয়’ এর কাজে ব্যবহার করা নিশ্চিত করা তাঁদের ‘ব্যক্তিগত দায়িত্ব’।

অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সঠিক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে কারো মতদ্বৈততা থাকার কথা নয়, কিন্তু ৮-১০ জন ব্যক্তির ওই কাজকে ‘ব্যক্তিগত দায়িত্ব’ হিসাবে বিবেচনা করা কতোটা যৌক্তিক, এই বিষয়ে অবশ্যই মতভেদ রয়েছে। নির্বাচনের মৌসুম এলেই সেই ৮-১০ জন ব্যক্তি সংগৃহিত তহবিলের অর্থকে নিজেদের ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে নির্ধারণ করে নিজেদের মধ্য থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে ক্লাবের অন্য সদস্যদের প্রতি পরোক্ষভাবে তাঁরা অনাস্থা ও অবিশ্বাসের বার্তাই পৌঁছে দেন।

‘প্রজেক্ট ফিয়ার’ এর আওতায় নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ সদস্যদেরকে ক্লাবের নানা সমস্যার কথা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরা হয়। এসময় সেই ৮-১০ জনের পুরনো সদস্য ও তাদের প্রতিনিধিরা সাধারণ সদস্যদের প্রতি ক্লাবের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানান।

কিন্তু এতোসব সমস্যার একপাক্ষিক বৃত্তান্ত শুনে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের উপায় না দেখে সাধারণ সদস্যরা ক্লাবের নেতৃত্ব গ্রহণে এগিয়ে আসতে ‘ভয়’ পায়। এভাবেই সম্ভাবনাময় অনেক সদস্যকে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব গ্রহণ থেকে কৌশলে দূরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবী, উদ্যমী ও নতুন রক্তের প্রবাহ থেকে।

গত এক যুগ ধরে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নিজস্ব ভবন/ কার্য্যালয় ইস্যুতে একাধিক কমিটির ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এখন একটি উপায়ই রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার দায়িত্ব ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির কাছ থেকে সাধারণ সদস্যদের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

আসন্ন দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় এজেন্ডা হিসাবে উপস্থাপন করে সাধারণ সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে; নিজস্ব ভবন নাকি ভাড়া করা কার্য্যালয়। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সবচেয়ে বড় এই সিদ্ধান্তটি কার্যনির্বাহী কমিটির কারাগার থেকে মুক্ত করে এনে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার এখনই সময়। সকল সাংবাদিক সহকর্মীর সাফল্য কামনা করছি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close