যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রেক্সিট ইস্যুতে তেরেসা মে সরকারের ভয়াবহ পরাজয়

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ পরাজয় ঘটলো বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র। ব্রেক্সিট নিয়ে করা চ্যালেঞ্জে হেরে গেছে তার সরকার।

এখন বাধ্য হয়ে তাকে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে হলে অবশ্যই এ বিষয়ক প্রস্তাব পার্লামেন্টে দিতে হবে। পার্লামেন্ট অনুমোদন দিলেই ব্রেক্সিট নিয়ে অগ্রসর হতে পারবে সরকার। বৃটিশ সুপ্রিম কোর্ট সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় এ রায় দিয়েছে।

কোর্টের মোট ১১ জন বিচারকের মধ্যে ৮ জন এ বিষয়ক প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাঠানোর পক্ষে মত দেন। তিন জন বিপক্ষে মত দেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে সুপ্রিম কোর্টে করা আপিলে হেরে গেলেন তেরেসা মে। এখন তাকে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে হলে অবশ্যই এ বিষয়ক অত্যাবশ্যকীয় লিসবন চুক্তির ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ পার্লামেন্টে তুলতে হবে।

পার্লামেন্ট যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে এ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করতে ভোট দেয় তাহলেই তেরেসা মে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এ রায় ঘোষণার আগে অনেকবারই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্চ মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু করবেন তেরেসা মে।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের ফলে তার সে উদ্যোগে সবচেয়ে বড় আঘাত লাগলো। এখন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া কোনদিকে মোড় নেয় তা বলা মুশকিল। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের সময় সেখানে উপস্থিত হন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো ব্যবসায়ী নারী গিনা মিলার। সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লর্ড ন্যুবার্গার এর আগেই জানিয়ে রাখেন রায় হবে মাত্র ৭ মিনিটের। যে ১১ জন বিচারক সরকারের আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রধান হলেন তিনি।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাই। এর মধ্যে প্রধান বিচারক লর্ড ন্যুবার্গার রায় ঘোষণা করে শোনান। এতে তিনি বলেন, বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকারের করা আপিল প্রত্যাখ্যান করা হলো। এর পক্ষে ছিলেন লর্ড ন্যুবার্গার, লেডি হ্যালি, লর্ড ম্যানসে, লর্ড কের, লর্ড ক্লার্ক, লর্ড উইলসন, লর্ড সাম্পশন ও লর্ড হগ। বিরোধিতা করেন তিনজন বিচারক লর্ড রিড, লর্ড কার্নওয়াথ ও লর্ড হিউ।

আদালতে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ হওয়ার আগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নির্বাহী ক্ষমতাবলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এ জন্য তাকে পার্লামেন্টের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন নেই। এমন পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন ব্যবসায়ী নারী গিনা মিলার। তাকে সমর্থন দেয় স্কটল্যান্ডের সরকার ও অন্যরা।

তাতে বলা হয়, বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে অবশ্যই পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে। তার এ চ্যালেঞ্জের পক্ষে সমর্থন দেয় লন্ডনের হাই কোর্ট।

হাই কোট থেকে বলা হয়, পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন না তেরেসা মে। হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে বৃটিশ সরকার। ফলে ৫ই ডিসেম্বর থেকে চারদিন এ নিয়ে শুনানি হয় বৃটেনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close