আরববিশ্ব জুড়ে

ভয়াবহ যন্ত্রনার কথা জানালেন লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে উদ্ধার হওয়া ৪৬ বাংলাদেশি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার মিসরাতার একটি বন্দিশিবির থেকে ৪৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

২০১৪ সালের পর মিসরাতায় চালানো এটিই প্রথম অভিযান। লিবিয়ার বাংলাদেশি দূতাবাস এবং একই শহরের ক্রারিম বন্দিশিবিরের সহায়তায় অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে ।

বন্দিশিবিরের গ্লানি টেনে দেশে ফেরা ৪৬ বাংলাদেশী জানিয়েছেন, ভাগ্য ফেরানোর আশায় দালালদের প্রলোভনে স্বল্প খরচে লিবিয়ায় এসেছিলেন তারা। তবে যাত্রা শুরুর আগে ঘুণাক্ষরেও তারা উপলব্ধি করতে পারেননি, কী আছে সামনে।

মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা ছিলো শোচনীয়। তারা ঠিকমতো খাবার পেতেননা সেখানে । স্বাস্থ্যের ভয়াবহ অবনতি হয়েছে তাদের। তার ওপর অকারনেই চলতো অকথ্য নির্যাতন ও প্রহার। কোনমতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন টিমটিম করে জ্বলছিলো তাদের। আশা করতেই ভুলে গিয়েছিলেন যে, কখনো স্বজনদের কাছে দেশে ফিরবেন তারা।

বন্দিশিবির থেকে বালাদেশিদের উদ্ধারের পর আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়া ছাড়ার আগে প্রত্যেককে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় পোশাকও দেয়া হয়।

লিবিয়ায় আইওএমের অপারেশন অফিসার আশরাফ হাসান বলেন, ‘আমরা মিসরাতায় অভিবাসীদের সহযোগিতা করতে পেরে গর্ববোধ করছি। এর মাধ্যমে আটকে পড়া অভিবাসীদের লিবিয়া থেকে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

লিবিয়া হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, দেশে ফেরা এই ৪৬ বাংলাদেশির প্রত্যেকে আইওএমের পুনর্বাসন কর্মসূচির সুবিধা পাবেন। এর আওতায় তারা দেশে ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, শিক্ষা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৬ সালে ২ হাজার ৭৭৭ বন্দীকে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করেছিল আইওএম। এদের মধ্যে ইতমধ্যে ৫২২ জন পুনর্বাসন কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close