যুক্তরাজ্য জুড়ে

ট্রাম্পের বৃটেন সফর নিষিদ্ধ করা উচিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধ করা নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, তোলপাড় হচ্ছে সারা দুনিয়া। বিশেষ করে ইউরোপীয় অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তার এ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বৃটেন সফর নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল লেবার নেতা জেরেমি করবিন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তখনই অন্য দেশের মতো বৃটেনে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ হয়েছিল।

তবে সেটা অনেকটা কড়ভাবেই পালিত হয়েছিল। বৃটেনে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে অনলাইনে কয়েক লাখ মানুষ তাদের সম্মতি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি বৃটিশ পার্লামেন্টেও উঠেছিল। সেখানে কয়েক ঘন্টা এ বিষয়ের ওপর বিতর্ক হয়েছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় নি পার্লামেন্ট। এখন ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যখন ৭টি মুসলিম দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্র সফর ১২০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করলেন তখন আবার মুখ খুললেন জেরেমি করবেন।

তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যতদিন ট্রাম্প সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা ও আইনকে সুরক্ষা দিচ্ছে ততদিন ট্রাম্পকে অনুমোদন দেয়া উচিত নয় তেরেসা মে’র। এ সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত হয় তেরেসা মে’র।

এ সময় তিনি রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পক্ষ থেকে বৃটেন সফরে আমন্ত্রণ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন। তারপরই ট্রাম্প মুসলিমদের বিরুদ্ধে শনিবার ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তেরেসা মে’র প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিতে ওইসব বৃটিশ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যাদের জন্ম ইরাকে। এমন নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ দলের এমপি নাদিম জাহাবি। তার সন্তানরা থাকে যুক্তরাষ্ট্রে।

তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতির ফলে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের দেখতে যেতেও পারবেন না। এ নিয়ে যখন সমালোচনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তখন রোববার সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়।

তাতে বলা হয়, আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। তবে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি।

ওদিকে আইটিভি ১-এর পেস্টন অন সানডে অনুষ্ঠানে জেরেমি করবিন বলেছেন, ট্রাম্পকে অতো তাড়াতাড়ি বৃটেন সফরের আমন্ত্রণ জানানোটা বেমানান। আমাদের সবার আগে বোঝা উচিত তার (ট্রাম্প) উদ্দেশ্য কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট (আসলে কংগ্রেস) মানবাধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা ও আইন রক্ষায় কি করছে বা করবে। জেরেমি করবিন প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন, নিকটস্থ প্রতিবেশীর (মেক্সিকো) সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অদ্ভুত ধারণা পোষণ করেন তাকে কি অনুমোদন করা প্রকৃতপক্ষেই ঠিক?

জেরেমি করবিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছেন, লেবার দলনেতা করবিন মনে করেন আলাদা করে সিরিয়ার শরণার্থীদের নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ ট্রাম্প দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে তার বৃটেন সফর যথার্থ নয়। জেরেমি করবিন আইটিভি-১ এর ওই অনুষ্ঠান শেষে বলেন, বৃটেনে ডনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতো উচিত নয়।

তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, শরণার্থী ও নারীদের আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধকে লঙ্ঘন করেছেন।

যদি ট্রাম্পের বৃটেনে রাষ্ট্রীয় সফর স্থগিত না করেন এবং ট্রাম্পের নীতির নিন্দা না জানান তাহলে তেরেসা মে বৃটিশ জনগণের মন পাবেন না। ওদিকে আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে একই অবস্থান থেকে বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।

বৃটিশ নাগরিকদের আক্রমণ করে দেয়া বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা বা প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ ডাকা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিক্ষোভের পর এ বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। নিউ ইয়র্কে ওই বিক্ষোভ করেন ট্যাক্সি চালকরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close