স্বদেশ জুড়ে

বৃক্ষমানবের পর এবার শেকড় কন্যার সন্ধান

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বৃক্ষমানব আবুল বাজানদারের পর এবার এক শেকড় কন্যার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার নাম সাহানা (১০)। তাকে গত রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

মেয়েটির গালে, নাকে, থুতনিসহ একাধিক স্থানে গজিয়েছে শেকড়। চিকিৎসকরা বলছেন সাহানা আবুল বাজানদারের মতো বিরল রোগে আক্রান্ত। তবে তার শরীরে এ রোগের মাত্রা অনেক কম। তাকে দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বালুরচর গ্রামের দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার একমাত্র কন্যা সাহানা। দুই বছর বয়সে সে মা হারায়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শাহজাহান কাটিয়ে দিয়েছেন ৮টি বছর। দাদির কাছেই বেড়ে উঠছে সাহানা। সে কলমাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

সাহানার বাবা শাহজাহান বলেন, দুই বছর বয়সে মেয়েটির গালে, নাকে থুতনিতে শেকড়ের ন্যায় গজাতে থাকে। যত দিন যাচ্ছিল ততই এগুলো বড় হচ্ছিল। মেয়ে বলে কথা। তাই স্থানীয় হোমিও চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ খাওয়াই। কিন্তু কোনো উপকার পাইনি। পরে রোববার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম বলেন, ‘বৃক্ষমানবের পর এবার আমরা বৃক্ষমানবীর দেখা পেলাম। বৃক্ষমানব হিসেবে পরিচিত আবুল বাজানদারের মতো ‘ট্রিম্যান সিনড্রোম’ রোগের শিকার সাহানা। তবে বাজানদারের মতো অতটা গুরুতর অবস্থায় এখনও পৌঁছায়নি সাহানার রোগটি। সাহানাকে আগামী সপ্তাহখানেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। আশা করছি, দুই-তিনটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই সাহানা সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে রোগটি পুনরায় দেখা দেবে কি-না তা পর্যবেক্ষণের জন্য বেশ কয়েক মাস সাহানাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।

বাংলাদেশে এই রোগ এটাই প্রথম নয়। খুলনার পাইকগাছার ২৫ বছর বয়সী যুবক আবুল বাজানদার এক দশক ধরে ‘বৃক্ষমানব’ নামে পরিচিত বিরল রোগে ভুগছিলেন। এর ফলে তাঁর দুই হাত এবং পায়ের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে অনেকটা গাছের শিকড়ের মতো রূপ নিয়েছিল।

বাজানদারের দুই হাত ও পায়ে প্রথমে ছোট ছোট আঁচিল হয়েছিল। এর পর সেগুলো ক্রমে গাছের শিকড়ের মতো রূপ নেয়। বিরল এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ১০ বছর ধরে হোমিওপ্যাথিসহ নানা চিকিৎসা করান তিনি।

ভারতেও গিয়েছিলেন বছর পাঁচেক আগে। সেখানকার চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তখন সেটি করা হয়নি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ধাপে ধাপে ১৬টি অস্ত্রোপচারের ফলে আবুল বাজানদার অনেকটাই স্বাভাবিক হন। তাঁর হাতে গাছের মতো শিকড়গুলো আর নেই।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close