Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

মুসলিম নিষেধাজ্ঞা: প্রশ্নবানে জর্জরিত আইনজীবীরা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করলেন আপিল বিভাগের তিন বিচারকের প্যানেল।

তারা তাদের কাছ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানতে চাইলেন, যে সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ কি ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পেয়েছিল কিনা অথবা এর স্বপক্ষে কি কোনো প্রমাণ আছে কিনা। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে লড়াই করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেলর অগাস্ট ফ্লেনটজি।

তিনি আদালতকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যারা ‘এলিয়েন’ হিসেবে ক্যাটেগরিভুক্ত তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ স্থগিত করার কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। এ জন্য প্রেসিডেন্ট এমন নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় বিচারকরা তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসের জন্য অভিযুক্ত ৭টি দেশের বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশের জন্য এমন কি তথ্যপ্রমাণ আছে?

ফ্লেনটজি বলেছেন, বিচারকাজ কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ না টেনেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করছে। তিনি বলেন, কংগ্রেস ও ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উভয় পক্ষই এটা নির্ধারণ করেছিল যে, সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ওই ৭টি দেশ। অতীতে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা প্রক্রিয়া কড়াকড়ি করা হয়েছিল।

তবে আমি নিশ্চিত নই যে, আদালতকে এ বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি কিনা। ওদিকে ওয়াশিংটন রাজ্যের পক্ষে আদালতে লড়ছেন সলিসিটর জেনারেল নোয়া পারসেল।

তিনি আদালতে তার যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, নির্বাহী অ্যাবিউজ বা নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে আদালতের প্রতি আর্জি জানান। তিনি বলেন, এই আদালত যেন এখানেই তার পক্ষে রায় দেন তেমনটা চান প্রেসিডেন্ট। কিন্তু আদালতের উচিত সেই আহ্বান এড়িয়ে চলা।

উল্লেখ্য, গত ২৭শে জানুয়ারি মুসলিম প্রধান ৭টি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। দেশগুলো হলো ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে, হচ্ছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সান ফ্রান্সিসকোতে আপিল আদালতে শুনানি হয়।

সেখানে তিন বিচারকের প্যানেল জানার চেষ্টা করেন, ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা আসলেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিনা। শুনানি চলে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে। এ আদালতের শুনানির পর এ সপ্তাহের পরের দিকে রায় দেয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়টি গড়াবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এ আদালতের তিন বিচারকের একজন হলেন রিচার্ড ক্লিফটন। তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।

উল্লেখ্য, সান ফ্রান্সিসকোতে যে শুনানি হচ্ছে সে বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল মিনেসোটা ও ওয়াশিংটন রাজ্যের পক্ষ থেকে। এ পক্ষের একজন আইনজীবীর কাছে বিচারক ক্লিফটন জানতে চান, মঙ্গলবার সিয়াটলের বিচারক ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে স্থগিত করে যে রায় দিয়েছেন তা কি ওভারব্রোড বা অতিরিক্ত ছিল কিনা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, গত ২৭শে জানুয়ারি ট্রাম্প ওই সাতটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ দিনের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। একই সঙ্গে সব রকম শরণার্থীর জন্য এ নিষেধাজ্ঞা দেন ১২০ দিন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিরিয়া। এ দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় এমন নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তিনি। এটাকে বলা হয়েছে তার শিশু প্রেসিডেন্সির জন্য সবচেয়ে বড় বিভক্তি সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে এটা করা হয়েছে। তার এ নির্দেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন দেশের বিমান বন্দরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা তার এ কর্মকান্ডকে মুসলিম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করছেন।

বলা হচ্ছে, এমন নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

গত শুক্রবার ট্রাম্পের ওই নির্দেশ স্থগিত করেছেন ওয়াশিংটনের সিয়াটলের একজন ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্ট। এর ফলে আটকে পড়া অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close