যুক্তরাজ্য জুড়ে

প্রতি মাসে মারাত্মক সাইবার হামলার শিকার যুক্তরাজ্য

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ক্রমবর্ধমান সাইবার হামলা প্রতিরোধে নতুন একটি সিকিউরিটি সেন্টার চালু করেছে যুক্তরাজ্য। ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) নামের এই সাইবার হামলা প্রতিরোধ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

নসিএসসিকে সাইবার হামলা রোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এনসিএসসির উদ্বোধনের সময় ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সাইবার হামলার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

তাছাড়া এসব হামলার তীব্রতা ও সূক্ষ্মতাও বাড়ছে। এসব সাইবার হামলা ঠেকানোর জন্য ৯০ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই কোনও ধরনের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেই বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

এসব সাইবার হামলা থেকে যুক্তরাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এনসিএসসি গড়ে তুলতে ব্যয় করা হয়েছে ১৯০ কোটি পাউন্ড। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন হেডকোয়ার্টার্সের (জিসিএইচকিউ) অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি বলছে, প্রতিমাসে গড়ে ৬০টি মারাত্মক সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এনসিএসসির প্রধান নির্বাহী সিয়ারান মার্টিন বলেন, আমরা যুক্তরাজ্যকে সাইবার হামলার সবচেয়ে কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চাই। আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য খোয়া গেছে, শত্রুপক্ষের মারাত্মক অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছি আমরা, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে নজরদারিও হয়েছে। আমাদের কাজ হলো এসব সাইবার হামলাকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা।

সরকারি সংস্থা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে পরিচালনা করা উচ্চ পর্যায়ের সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকা ও এগুলোর জবাব দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি ও বৃহত্তর সামাজিক অবস্থানকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করবে এনসিএসসি।

কেন্দ্রটির কারিগরি পরিচালক ইয়ান লেভি বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে শিল্প খাতগুলো যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা দেখতে চাই, এর সবগুলোর জন্যই সরকার গিনিপিগ হিসেবে কাজ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাইবার হামলার মাধ্যমে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তাই সাইবার হামলা প্রসঙ্গে রাশিয়া রয়েছে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। সিয়ারান মার্টিন বলেন, সাইবার হামলা ও এসব হামলা অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে রাশিয়ার মনোভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি।

আর স্পষ্টতই এটা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সাইবার হামলা প্রতিরোধে নতুন এই কেন্দ্রটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাজ করবে এবং সংসদ সদস্যসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও পরামর্শ দেবে।

বিভিন্ন দেশের যেসব কম্পিউটার সাইবার হামলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, এরই মধ্যে সেসব কম্পিউটারকে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে এসব কম্পিউটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহায়তা বা তাদের আইনের আওতায় আনার সম্ভাবনা না থাকলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যই নেবে। যুক্তরাজ্যের সাইবার সুরক্ষা এতদিন চেলটেনহ্যামে অবস্থিত জিসিএইচকিউ থেকেই দেখভাল করা হতো।

তবে এই প্রয়াস অতিরিক্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যদের। নতুন প্রতিষ্ঠিত এনসিএসসির লক্ষ্য হবে সাইবার হামলা রোধের বিষয়টিতে প্রকাশ্যে কাজ করা এবং এই সেবা সবার গ্রহণের জন্য যতটাসম্ভব উন্মুক্ত রাখা।

এছাড়া, কেন্দ্রটি সরকার ও প্রতিরক্ষার মতো জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত খাত ছাড়াও আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে। তবে এনসিএসসির মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে জিসিএইচকিউ। এর অর্থ হলো সংস্থাটির দক্ষতা ও সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাটি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close