অন্য পত্রিকা থেকে

এক্সেলসিয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ: সিলেটে বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

আবদুর রশিদ রেনু: সিলেটে বিনিয়োগের নামে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেড নামের কোম্পানির এমডিসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রবাসী।

কই কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি ভূমি দেখিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান ও এমডি ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ একর ভূমির জাল দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমন অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি লিখিভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, কোম্পানির কাজে যুক্তরাজ্যে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে পরিচালক থেকে ৫০ থেকে ৬২ লাখ এবং শেয়ারহোল্ডার থেকে পাঁচ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের অনেকেই দিয়েছেন। যার সমুদয় টাকা কোম্পানির এমডি সাঈদ চৌধুরীর মাধ্যমে আনা হয়। কিন্তু কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান হলেও এ ব্যাপারে শামসুল ইসলামকে জানানো হয়নি।

শামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোম্পানির ভূমির নকল জাবেদা দিয়ে সাউথ ইস্ট ব্যাংক লালদিঘির পাড় শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ না করে আবার একই দলিল দিয়ে ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখা (তালতলা) থেকে দেড়শ’ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়। যা কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনেক পরিচালক জানতেন না।

আত্মসাৎকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের আবেদনের বিষয়টি অবগত করে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। সেই সঙ্গে ওই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ বাতিলসহ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া এলাকার জাসটেট হলিডে রিসোর্ট লিমিটেড ও জাকারিয়া সিটির প্রায় ১৭ একর ভূমির মালিক হচ্ছেন ডা. জাকারিয়া হোসেন গংরা। যার মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই ভূমি ও সকল স্থাবর-অস্থাবর বিক্রির জন্য ২০১৩ সালের ১ আগস্ট নগদ এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন তারা। পরে এক্সেলসিয়র কোম্পানিতে ডিরেক্টরশিপ বাবদ এক কোটি ৬২ লাখ টাকা বিদ্যমান রেখে এবং তা পর্যায়ক্রমে তারিখ অনুসারে পরিশোধের কথা বলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ডা. জাকারিয়া হোসেন গংরা ১ম চুক্তিপত্রে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে পাওয়ার অব এটর্নি (ক্ষমতা অর্পণ) প্রদান করেন এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম, এমডি সাঈদ চৌধুরী ও মার্কেটিং ডাইরেক্টর আহমদ আলীকে।

পরে ২০১৪ সালের ১৮ মে ওই ৩ জনকে ডা. জাকারিয়া গংদের পক্ষে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় হস্তান্তরের যাবতীয় ক্ষমতা উল্লেখ করে আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি দলিল (নং-৫৭২৭/১৪) সম্পাদন করা হয়। যা এখনো বহাল রয়েছে। এই অবস্থায় বেআইনি ও বিধি বহির্ভুতভাবে আমমোক্তারনামার প্রথম আমমোক্তার কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল ইসলামকে বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের যোগসাজসে ভুয়া সাব কবালা তৈরি করা হয়।

পরে কোম্পানির পক্ষে চেয়ারম্যান সিলেট নগরীর পাঠানটুলার ২৯ স্বজন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শাহ জামাল ও সিরাজ মো. হককে মালিকানা দেয়া হয়।

জাবেদা নকল দিয়ে ভূমি বন্ধক রেখে সাঈদ চৌধুরী ও আলী আহমদসহ সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। যা এখন ৩২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ না করে ভূয়া সাব কবালা দিয়ে একই ভূমি দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ফের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের আবেদন করা হয়।

কিন্তু ঋণ আবেদনের বিষয়টি কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুল ইসলামসহ অনেক পরিচালককে জানানো হয়নি। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে দেয়া আবেদনে এক্সেলসিয়রের এমডি সাঈদ চৌধুরী ও আহমদ আলী কোম্পানির নামে প্রতারণামূলক ব্যাংকঋণ গ্রহণের বিরোধিতা করা হয়। পাশাপাশি প্রতারণার আশ্রয়ে ঋণ আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট হতে প্রতারণামূলক অর্থ সংগ্রহ করায় মুস্তাকিম আহমেদ নামের একজন ব্যরিস্টারসহ কয়েকজন মামলা করেছেন ওই চক্রের বিরুদ্ধে।

কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম জানান, জাল দলিল বাতিল করার জন্য আমি আদালতে আবেদন করবো। জালিয়াতির বিষয়টি দুদকে জানানো ও উকিল নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কোম্পানির পরিচালক আব্দুল লতিফ জেপি জানান, অনেক প্রবাসী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। যারা অনেকেই এখনও কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেনি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগ করে যদি স্বচ্ছতা না থাকে তাহলে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

এ ব্যাপারে কোম্পানির এমডি সাঈদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, শামসুল ইসলামের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ডা. জাকারিয়া হোসেন আমাদের ৩ জনের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। কিন্তু শামসুল ইসলাম আমাদের কোনো সহযোগিতা না করায় সিলেটের সিনিয়র আইনজীবিদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কোম্পানির নামে ভূমি রেজিস্ট্রি করেছি।

প্রবাসীদের বিনিয়োগ করা টাকা আত্মসাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা ও অপপ্রচার। তিনি জানান, কোম্পানিতে বর্তমানে ২০ জন পরিচালক রয়েছেন। আরও ৭ জনের নাম নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। আগে ডিরেক্টরশিপ নিতে হলে ৫০ লাখ টাকা লাগালেও বর্তমানে তা ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগ করে বেশকিছু শেয়ার হোল্ডার হয়েছেন। কোম্পানির আগামী বোর্ড সভায় বিনিয়োকারীদের সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি জানান, বিনিয়োগকারী অনেকেই টাকা ফেরৎ নিতে আবেদন করেছেন। যথাযাথ প্রক্রিয়ায় তাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close