লন্ডন থেকে

এক্সেলসিয়র সিলেটের একাংশ আব্দুল বারী-কয়সর খান এর সংবাদ সম্মেলন: সরাসরি দায়ী করা হলো এমডি সাঈদ চৌধুরীকে

সিলেট শহরে প্রবাসী বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এক্সেলসিয়র লিমিটেড এর একাংশের মালিক আব্দুল বারী ও কয়সর খান যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ইস্ট লন্ডনের বারাকা রেস্টুরেন্টে। শুক্রবার ২৪শে মার্চ অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সরাসরি এমডি সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন এক্সেলসিয়র লিমিটেড এর একাংশের মালিক ও লন্ডন রয়েল রিজেন্সী‘র আব্দুল বারী। অভিযোগকারীদের মধ্যে- আরো বক্তব্যে রাখেন একাশেংর মালিক কয়সর খান, বিনিয়োগকারী ও এটিএন বাংলা‘র এমডি সুফি মিয়া, বিনিয়োগকারী ও জেএমজি‘র মালিক মনির আহমদ, ফারুক আহমদ, আব্দুল মান্নান, নাসির উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল বারী বলেন, কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ সাঈদ চৌধুরী এক্সেলসিয়র সিলেট নামে একটি প্রজেক্টের জন্য ব্রিটেন প্রবাসীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করেন। তিনি নিজেকে একজন সাংবাদিক পরিচয় দেন। লন্ডন মুসলিম সেন্টারে মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্তার জায়গায় তার অফিস ছিল। আরও অনেকের মতো আমি আব্দুল বারী ও কয়সর খান দুজন মিলে তাকে বিশ্বাস করে মোট ১ কোটি ১৬ হাজার ৮৪৫ টাকা বিনিয়োগ করি।

কিন্তু বিনিয়োগের সপ্তাহখানেকের মাথায় অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে গিয়ে আমরা হতাশ হই। প্রজেক্টের মোট বিনিয়োগকারী কত? মোট কত টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হয়েছে কিংবা কোম্পানীর আগের বোর্ড মিটিংয়ে মিনিটস কোথায় -এমন সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোন ডকুমেন্টারী জবাব দিতে পারেন নি সাঈদ চৌধুরী। কেবল মুখের কথায় তিনি আমাদের আশ্বস্থ করতে চাইলেন। আমরা আমাদের বিনিয়োগের অনিশ্চিত ভব্যিষতের কথা টের পেয়ে ওই মিটিংয়ের পরপরই বিনিয়োগ ফেরত দিতে বলি। এরপর আমাদের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করনে নি সাঈদ চৌধুরী সহ কোম্পানীর শীর্ষ ব্যাক্তিরা।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সাঈদ চৌধুরী তার মিডিয়া মহল লিমিটের এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কোম্পানী এক্সেলসিয়র সিলেটের অর্থ সংগহ করেন। এই কোম্পানীর ১৭ একর জমির মালিকানা রয়েছে। এবং পাঠানটুলায় আরো ৪৪ ডেসিমেল জায়গা রয়েছে। এসব জায়গা এক্সেলসিয়র সিলেটের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মালিকানা দেয়া হবে।

আরো বলা হয়, সাঈদ চৌধুরী আমাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে তোলা ছবি আমাদের দেখান। ফলে সাঈদ চৌধুরীকে আমরা একজন সাংবাদিক এবং কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্থ ব্যক্তি হিসেবেই ধরে নিই।

সাঈদ চৌধুরী কথায় বিশ্বাস করে এবং যথাসম্ভব যাচাই বাছাই করে কয়সর খান এবং আমি দুজনে পৃথকভাবে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে মোট ১ কোটি ১৬ হাজার ৮৪৫ টাকা বিনিয়োগ করি। আমাদের বিনিয়োগের অর্থ দেয়ার পরপরই জাকারিয়া সিটি টেক ওভার সম্পন্ন হয়।

সপ্তাহখানেকের মাথায় আমরা প্রজেক্ট দেখার জন্য বাংলাদেশে যাই সেখানে আমরা প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দেই। মিটিংয়ে আমাদের বলা হলো কোম্পানির ১৮ কোটি টাকা লোন আছে। আর মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে ১৮ লাখ টাকার উপরে। এমন তথ্য আমাদের রীতিমত বিস্মিত করেছে। কথা ছিল বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে জাকারিয়া সিটি কেনা হবে। তাহলে এত ব্যাংক লোন থাকবে কেন। ওই বোর্ড মিটিংয়ে এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডের উদ্যোক্তা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরী, চেয়ারম্যান শাহ জামাল এবং মার্কেটিং ডাইরেক্টর আহমেদ আলীর কতাবার্তায় ও জবাবদিহিতায় ঘাটতি ছিলো চরমে।

এর মধ্যে আমরা আরও কিছু অনিয়মের ব্যাপারে জানতে পারি। সাঈদ চৌধুরী আমাদের বলেছিলেন তিনি কোনো বেতন ভাতা নেন না। কিন্তু আমরা জানতে পারি তার প্রতিষ্ঠিত আরেক কোম্পানি মিডিয়া মহলের মাধ্যমে বেতন, ভাতা, মার্কেটিং এবং অফিস খরচসহ নানা হিসাব দেখিয়ে মাসিক প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ওই সময়ের এক হিসাব অনুযায়ী মিডিয়া মহল এক্সেলসিয়র সিলেটের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে যায়।

সাঈদ চৌধুরী এর আগে এক্সেলসিয়র হাইটস নামে একটি কোম্পানি করেছিলেন। তিনি আমাদের বলেছিলেন, এক্সেলসিয়র হাইটস এর পাটানটোলায় ৪৪ ডেসিমেল জায়গা আছে। ওই জায়গা এক্সেলসিয়র সিলেটের শেয়ার হোলডারদের নামে দেয়া হবে। কিন্তু আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন, সাঈদ চৌধুরীর এমন প্রতিশ্রুতির কথা এক্সেলসিয়র হাইটস এর বেশির ভাগ ডাইরেক্টররা জানতেন না। যার কারনে ওই জায়গাগুলো এখনো এক্সেলসিয়র সিলেট লিমিটেডের নামে আসেনি। বরং ওই জায়গা নিয়ে ডাইরেক্টরদের সাথে সাঈদ চৌধুরীর বিবাদ চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ১৮ জুলাই ২০১৪ তারিখে আমি আব্দুল বারী সাঈদ চৌধুরীকে একটি ইমেইল পাঠালে সেই ইমেইলে অর্থ ফেরতের লিখিত দাবি জানালে তিনি ইমেইলের কোন জবার দেননি। অভিযোগকারীদের দাবী অনুযায়ী, সাঈদ চৌধুরী যদি সঠিকবাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকতেন তাহলে সকল বিনিয়োগকারীদের গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক কাঠামো দাড় করাতে রাজি হতেন। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই আমি আব্দুল বারী আবারো অর্থ ফেরত দাবী জানালে সাঈদ চৌধুরী চার মাসের মধ্যে অর্থ ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি চুক্তিপত্র ড্রাফট করে পাঠাই। একই সাথে অন্য একজন সাংবাদিককেও একই চুক্তিপত্র পাঠাই। নাম উল্লেখ্য না করে ওই সাংবাদিককে অনুরোধ করি তিনি যেন সাঈদ চৌধুরীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। যা পরবর্তীতে সাঈদ চৌধুরী প্রতিশ্রুতির কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

২০১৪ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর অর্থ আদায়ের জন্য কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে সাঈদ চৌধুরীর সাথে আবারো মধাস্থ করতে বসি। এবং দ্রুত অর্থ ফেরত দেবার দাবী জানাই। কিন্তু সাঈদ চৌধুরী বলেন, তার গলায় চুরি চালালেও আগামী পাঁচ মাসের আগে কোন অর্থ ফেরত দিতে পারবেন না। তখন মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে সাঈদ চৌধুরীকে আরো সময় দেই। পরবর্তীতে জানানো হলো ৫ এবং ৭ মাসের মধ্যে যথাক্রমে আমি আব্দুল বারী এবং কয়সর খানের অর্থ ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু তিনি আবারো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেন।

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সাঈদ চৌধুরী দাবি করেছিলেন কোম্পানীর কাছে কোন অর্থ নেই। কিন্তু তিন মাসের মাথায় আমার কাছে কাছে আসা ডকুমেন্টে জানতে পারি, সাঈদ চৌধৃুরী এক্সেলসিয়র সিলেট এর ডাইরেক্টর মিটিংয়ে হিসাব দিয়েছেন, কোম্পানীর হাতে নগদ ১ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে।

পরবর্তীতে মধ্যস্থাকারীদের মাধ্যমে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী অর্থ ফেরত না পেয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব বলে মনস্থির করি আমি আব্দুল বারী ও কয়সর খান। কিন্তু মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে আমরা আবারও আলোচনায় বসি। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয় সর্বশেষ ১৬ জুন ২০১৫ তারিখে অুনষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আমাদের বিনিয়েোগকৃত টাকার সাথে আরো ১০ লাখ যোগ করে সাঈদ চৌধুরী মোট এক কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকা পরিশোধ করবেন। চেক মারফত ১০ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকা অনতিবলিম্বে প্রদান করবেন। এবং বাকী টাকা ৬ মসের মধ্যে পরিশোধ করবেন। ৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিলম্বমাসুল বাবদ আরো ৫ লাখ টাকা বাড়তি প্রদান করবেন।

এ বিষয়টি চুক্তিতে লিপিবদ্ধ করার জন্য ২৫শে আগষ্ট ২০১৫ তারিখে পরবর্তী বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। কথা ছিল ওই দিন এই বৈঠকেই সাঈদ চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর করবেন এবং সমুদয় অর্থ পরিশোধের জন্য অগ্রীম চেক প্রদান করবেন। কিন্তু ওই বৈঠকে সবাই উপস্থিত হলেও সাঈদ চৌধুরী কিংবা তার পক্ষে কেউ বৈঠকে হাজির হননি। মধ্যস্ততাকারীদের বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি কোন চেক দেননি এবং কোন চুক্তিও করেন নি। সাঈদ চৌধুরী কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বৈঠকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করলেন।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জানতে পারি পরবর্তীতে কোম্পানী বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন সাঈদ চৌধুরী, সিরাজ হক, কাউন্সিলার আয়াছ মিয়া ও এম এ কাইয়ুমসহ অন্যান্য ডাইরেক্টররা। ওই ঘোষণা সত্ত্বেও আমদের অর্থ ফেরত দেয়া তো দূরের কথা আমদের সাথে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। এরপরও আমার আমাদের অর্থ ফেরত পেতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এসব অন্যান্য ডাইরেক্টাররা আমাদের কথা শুনেও আমাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য করেননি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে একজন বিনিয়োগকারী আমাকে টেক্স করে অনুরোধ করেন, যাতে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন না করি। কারণ কোম্পানী ইমজেন্সি মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমাদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে। আরও শতাধিক বিনিয়োগকারী নাকি অর্থ ফেরত চান। তাই আমরা সংবাদ সম্মেলনে করলে ওই লোন আটকে যেতে পারে। এতে অর্থ ফেরত পাওয়া বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। কিন্তু আমদের প্রশ্ন- বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও যিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন কোন ভরসায় আমরা সাঈদ চৌধুরী গংদের ওপর আস্তা রাখতে পারি। আমরা দীর্ঘ তিন বছর নানা চেষ্টা এবং অপেক্ষার পর বারবার প্রতারিত হয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।

বিশেষ নোট: সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত সংবাদ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে অভিযোগকারী আব্দুল বারী এবং কয়সর খান তাদের স্বাক্ষরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করেছেন। অনুরোধক্রমে প্রদর্শন করতে সক্ষম শীর্ষবিন্দু কর্তৃপক্ষ। তবে সংবাদে কোন ধরনের ভুল ভ্রান্তি থাকলে এর জন্য সম্পাদক বা শীর্ষবিন্দু কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই দায়ী নয়।

এ বিষয়ে যে কোন কিছু জানাতে যোগাযোগ করতে পারেন: news@shirshobindu.com

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close