লন্ডন থেকে

গণহত্যা দিবস ঘোষণার জন্যে জাতিসংঘের প্রতি আহবান

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার জন্যে জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখা। শনিবার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনের উদ্যোগে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত ‘আলোর মিছিল’ পরবর্তী সমাবেশে এই আহবান জানায় নির্মূল কমিটি।

২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সমাবেশে বলা হয় বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করে সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় সভ্য মানুষের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, এবার বিশ্ব সম্প্রাদায়ের পালা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে নারকীয় গণহত্যা ঘটিয়েছিলো একাত্তরে পাকিস্তানী বাহিনী, এই গণহত্যা’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মানে শান্তির পক্ষে, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরোদ্ধে বিশ্ববাসীর অবস্থান ঘোষণা। ভবিষ্যতে গণহত্যার মত অপরাধ করার মানষিকতা পোষন করে এমন অপরাধীদের নিরুৎসাহি করতেই একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও এর সাথে জড়িতদের বিচার জরুরী।

বক্তারা বলেন, জাতীসংঘ মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে পৃথিবীর অন্যতম ঘৃন্যতম গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে একাত্তরের পাকিস্তানী আর্মি কর্তৃক সংঘটিত বাংলাদেশের গণহত্যাকে। এই গণহত্যার জন্যে পাকিস্তানই একক ভাবে দায়ি, মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে এমনটিও উল্লেখ রয়েছে। অথচ পাকিস্তান কখনও এটি স্বীকার বা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিরোদ্ধে তাদের সেনাবাহিনীর এমন মানবতা বিরোধী অপরাধের দায় গ্রহন করেনি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সত্বেও এখন পর্যন্ত একাত্তরের গণহত্যার সাথে জড়িত পাকিস্তানী সেনা সদস্যদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি পাকিস্তান সরকার। যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের গণহত্যার সাথে জড়িত পাকিস্তানী সেনা অফিসারদের যতদিন না বিচারের আওতায় আনা হয়েছে ততদিন দেশটির সেনাবাহিনী এধরনের অপরাধ করতেই থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিরবতা পালনের মাধ্যমে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে নিহতরাসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়।

যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক জামাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘আলোর মিছিল’ পরবর্তী এই সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ সাংবাদিক গীতা সায়গল ও লন্ডন বাংলাদেশ হাই কমিশনের মিনিষ্টার প্রেস নাদিম কাদির। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য সভাপতি ইসহাক কাজল, কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লা, উপদেষ্টা আবু মুসা হাসান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, রুবি হক, নির্বাহী সদস্য নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, নারী নেত্রী খালেদা কোরেশী, হোসনা মতিন, মেহের নিগার চৌধুরী, জেনিফার সরোয়ার, মন্জুরী নাসরীন, মুনমুন কর, কবি মুজিবুল হক মনি, কমিউনিটি নেতা রেদোয়ান খান, গোলাব আলী, শায়েখ আহমেদ, বাতিরুল হক সর্দার ও নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

উল্লেখ্য গত এক দশক ধরে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ মার্চে দেশে বিদেশে আলোর মিছিল ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনসহ অন্যান্য কর্মসূচী পালন করে আসছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

সর্বশেষ এবছর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দিনটিকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করলে নির্মূল কমিটির এই দাবীর প্রাথমিক সফলতা আসে। জাতীয় ভাবে প্রথমবারের মত গণহত্যা দিবস পালনের প্রাক্ষালে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 – ইমেইল প্রেরিত সংবাদ

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close