পাক সীমানা জুড়ে

পানামা কেলেঙ্কারির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন নওয়াজ শরীফ: ইসলামাবাদে উত্তেজনার মধ্যে রেড জোনে লাল সতর্কতা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টান টান উত্তেজনা। পানামাগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায় দিচ্ছে যাচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। এতে যদি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অভিযুক্ত করা হয় তাহলে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন তিনি। এ জন্যই উত্তেজনার মাত্রা চরমে।

লে ইসলামাবাদের রেড জোনে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা বা রেড এলার্ট। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৫০০ পুলিশ, রেঞ্জারর্স ও ফ্রন্টিয়ার কনস্টেবুলারির ব্যক্তিদের। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই এলাকার নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রসের জন্য মাতায়েন করার কথা রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা সহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তাদের। কখন কি করতে হবে সে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন। রেড জোনে প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে কড়া নিরাপত্তা তল্লাশি। সরকারি কর্মকর্তা, ওই এলাকার বাসিন্দা ও শুধু বিশেষ কিছু ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

ওদিকে কাসুর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন পপ্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। সেখানে তিনি বলেছেন, সস্তায় বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে রক্ষা হয়েছে ১০০ কোটি রুপি। এই কাজটি কি কোনো দুর্নীতিবাজ মানুষ করতে পারে?

আদালত চত্বরে শুধু ওইসব মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে যাদের কাছে পাস আছে। সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম সংক্রান্ত রিপোর্ট করতে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন সাংবাদিক উপস্থিত হন। কিন্তু আজ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন কয়েক শত সাংবাদিক।

এর কারণ, তারা ঐতিহাসিক এ মামলার রায় প্রত্যক্ষ করতে চান। এ মামলায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসততার অভিযোগ আনা হয়েছে।পানামা পেপার ফাঁস হওয়ার পর এ মামলা করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায় দেবে আজ বৃহস্পতিবার। উল্লেখ্য, পানামার আইনী সহায়তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার গোপন হাজার হাজার ফাইল ফাঁস হয়ে যায় অনলাইনে। এসব ফাইলই পানামা পেপারস নামে পরিচিত। এতে বিশ্বের অভিজাত শ্রেণী, রাজনীতিবিদ সহ বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার মানুষের আয়কর ফাঁকি দেয়ার তথ্য উঠে আসে। আয়কর ফাঁকি দিতে এসব মানুষ অফসোর বা উপকূলীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের অর্থ বিনিয়োগ করে।

এ তালিকায় বাংলাদেশের নামও উঠে আসে। তবে পাকিস্তানের যে তালিকা পাওয়া গেছে তাতে উঠে এসেছে নওয়াজ শরীফের ছেলেমেয়ে মরিয়ম, হাসান ও হোসেন নওয়াজের নাম। সঙ্গে আছে নওয়াজ শরীফের নাম। পানামা পেপারসে বলা হয়েছে, তারা বেশ কিছু অফসোর কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। ডকুমেন্টে দেখা যায় নওয়াজ শরীফ পরিবারের সদস্যরা কমপক্ষে আটটি অফসোর কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত।

এ তথ্য ফাঁস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সম্পদ নিয়ে দেখা দেয় গুরুত্বর উদ্বেগ। তাদের সম্পদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে বিরোধী দলগুলো এ অভিযোগ তদন্তের দাবি জোরালো করে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তারা।

তবে প্রথম দিকে মরিয়ম শরীফ পানামা পেপারসের তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগের বিচার বিভার্গীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে হয়। সেই নির্দেশে বিচারিক কাজ শুরু হয় গত ৪ঠা জানুয়ারি।

বৃহস্পতিবার সেই মামলার চূড়ান্ত রায় দেবে সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারকের বেঞ্চ। এতে রয়েছেন বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা, বিচারপতি গুলজার আহমেদ, বিচারপতি ইজাজ আফজাল খান, বিচারপতি আজমত সাঈদ ও বিচারপতি ইজাজুল আহসান

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close