দুনিয়া জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ কি অত্যাসন্ন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র সহ পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন প্রস্তুত। উত্তর কোরিয়া এ যাবতকালের মধ্যে তার সবচেয়ে বৃহৎ সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছে।

প্তাহভিত্তিতে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে জ্বালাময়ী বাক্য বিনিময় হচ্ছে। এসবের ওপর ভিত্তি করে বলা কঠিন, সত্যিকার অর্থেই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি যুদ্ধ আসন্ন কিনা।

অথবা এটা কি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কিভাবে একটি চুক্তি বা যোগাযোগ করা যায় তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ কিনা তাও বোঝা যাচ্ছে না।

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাকে এভাবেই অনলাইন সিএনএনে ব্যাখ্যা করেছেন সাংবাদিক জোশুয়া বারলিঙ্গার ও ব্রাড লেন্ডন। ওই প্রতিবেদনে তারা আরো লিখেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ে ভঙ্গুর এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন যেসব খবর ছড়িয়ে পড়ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে যে, যুদ্ধ অত্যাসন্ন।

তবে কি এটা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে পিছু ফেরার কোনো উপায়ই নেই? বিশ্লেষকরা এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কে। তারা মনে করছেন পরিস্থিতি একটি ম্যাচবাক্সের মতো। তাতে সামান্য স্ফুলিঙ্গ হলেই জ্বলে উঠবে। র্যান্ড করপোরেশনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক ব্রুস বেনেট বলেছেন, এখন বাস্ত বিষয়টি হলো কেউ একজন স্টুপিডের মতো ভুলটি করে বসবে।

কারণ, যেকোনো ছোটখাট উস্কানিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও কেউ একজন যদি আগামীকাল কৌশলগত ভুল হিসাব কষে ফেলে তাহলেও যুদ্ধ অত্যাসন্ন নয় বলে মনে করেন কিছু বিশেষজ্ঞ।

হাওয়াই প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এবং ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের সাবেক পরিচালক (অপারেশনস) কার্ল শুস্টারের মতে, যদি ঘটনা সেটাই হতো তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে রাখা হতো ডেফকন বলে পরিচিত অবস্থায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকাকে বুঝানো হয় ডেফকন অবস্থা (ডিফেন্স রেডিনেস কন্ডিশন)। শুস্টার বলেন, এমন ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে এবং প্রকাশ্যে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তার সীমান্তে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করবে। পূর্ব এশিয়ায় পাঠাবে দ্বিতীয় যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ।

ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড বলেছে, যুদ্ধজাহাজ বহনকারী ইউএসএস কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ এপ্রিলের শেষ নাগাদ কোরিয়ান উপদ্বীপ এলাকার দিকে সরে যাবে। তবে তারা অন্য যুদ্ধজাহাজ সেখানে ভিড়ানোর কোনো ঘোষণা দেয় নি।

শুস্টার বলেছেন, এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার দিকেও নজর রাখতে হবে। তারা তাদের ট্যাংক, সমরাস্ত্র কোথায় সেট করছে বা এগুলোর মুভমেন্ট কোনদিকে সে বিষয়ে নজর রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে তারা সামরিক মহড়ার পর বড় বড় সব সমরাস্ত্র নাড়াচাড়া শুরু করেছে।

সামরিক যে মহড়া হয়েছে তাকে একজন কর্মকর্তা এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এক কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিকল্পনাবিদরা নজরে রাখবেন কি পরিমাণ সমরাস্ত্র ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত করা হয়েছিল।

ওদিকে উত্তেজনার মাত্রাটি বাড়িয়ে তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি নতুন এক যুগের বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলেছিলেন। তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে।

অতি সম্প্রতি তিনি ও তার মন্ত্রীপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তারা বলেছেন, কৌশলগত ধৈর্য্যরে যুগ শেষ হয়ে গেছে। এখন সব সুযোগই খোলা আছে।

ওদিকে চীনকে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে চাপ সৃষ্টি করতে আরো অর্থনৈতিক চাপ দেয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close