Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

চিত্রকর্ম চুরি করে মিশেল ওবামার ম্যুরাল

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: শিকাগোতে শৈশবে যে এলাকায় বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্টলেডি, এখনও সেখানে তিনি সমান জনপ্রিয়। তার সেই বাসস্থানের কাছেই একটি ভবনে তারই বিশাল একটি নতুন ম্যুরাল বা দেয়াল ভাস্কর্য্য অঙ্কন করেছেন শিল্পী ক্রিস ডেভিনস।

তার এ প্রকল্পকে নির্দোষ হিসেবে দেখা হয়। তা সত্ত্বেও তার ওই ম্যুরাল চিত্র নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। গত শুক্রবার ম্যুরালটির কাজ শেষ করেন ক্রিস ডেভিনস। তার কাজ শেষ হতে না হতেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সমালোচনা।

সমালোচকরা বলেন শিল্পী ক্রিস এ ম্যুরালটি কপি করেছেন। রোড আইল্যান্ডে আর্টের শিক্ষার্থী জেলিলা মেসফিনের চিত্রকর্ম তিনি চুরি করেছেন। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে মিশেল ওবামার প্রায় একই রকম একটি পোর্টেট ছবি পোস্ট করেছিলেন জেলিলা মেসফিন।

শিকাগোতে তার চিত্রকর্ম কপি করে মিশেল ওবামার ম্যুরাল আঁকা হয়েছে এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে মেসফিন। তিনি শনিবার ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, কি করে আপনি অন্য একজনের চিত্রকর্ম, যা সে কঠোর পরিশ্রম করে শেষ করেছে তা চুরি করতে পারেন। কিভাবে দাবি করতে পারেন এটি আপনার চিত্রকর্ম।

শিল্পী ক্রিস ডেভিনসকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো লিখেছেন, কি করে আপনি অন দ্য রেকর্ডে বলতে পারেন এটা আপনার করা ডিজাইন। এমন দাবি হৃদয়ে ভীষণভাবে আঘাত দেয়। এমন স্তরে থাকা অন্য অনেকের প্রতি এতে অসম্মান প্রকাশ করা হয়। কারো কাজ থেকে কপি করা যেতে পারে। কিন্তু কি করে তা একেবারে নিজের বলে চালিয়ে দেয়া যায়। এটা অন্যায়। ওদিকে সমালোচনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে ক্রিস ডেভিনস মঙ্গলবার সিএনএন’কে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন।

তাতে তিনি দাবি করেছেন তিনি কোনো অন্যায় করেন নি। তিনি আরো বলেছেন, মেসফিন কে তা তিনি গত সপ্তাহ পর্যন্ত জানতেন না। মেসফিনের অভিযোগ সম্পর্কে তাকে কেউ একজন ইন্সটাগ্রামে জানিয়েছেন। এরপরই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মিস মেসফিন যে চিত্রকর্ম করেছে তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আমি তাকে কৃতীত্ব দিই।

একই সাক্ষাতকারে ক্রিস ডেভিনস বলেছেন, পিন্টারেস্ট-এ একটি ছবি থেকে তিনি মিশেল ওবামার ওই ম্যুরাল আঁকার ধারণা পেয়েছেন। তার ওপর ভিত্তি করেই সাবেক ফার্স্টলেডিকে তিনি মিশরের একজন রাণী হিসেবে অঙ্কন করার চেষ্টা করেছেন। তবে পিন্টারেস্টে যে ছবিটি তিনি দেখেছেন সেটা আসলে কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, ক্রিস ডেভিনস নিজেকে একজন শহর পরিকল্পনাবিদ ও শিল্পী হিসেবে দাবি করেন। আউটডোরে বিশাল সব চিত্রকর্মের জন্য তিনি পরিচিত। শিকাগোর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার করা বিভিন্ন ম্যুরাল। তিনি বলেছেন, শহরের সাউথ সাইডে এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যখন মিশেল ওবামা পড়াশোনা করতেন সেখানকার রাস্তা পাড় হলেই একটি ভবনে মিশেলের ওই ম্যুরাল করা হয়েছে।

ক্রিস ডেভিনস বলেন, আমি এমন একটি ম্যুরাল সেখানে বসাতে চেয়েছি যা হবে সাউথ সাইডের ও সব এলাকার তরুণীদের উৎসাহ। ম্যুরালটি সম্পন্ন করার আগে ক্রিস ডেভিনস একটি পেজ চালু করেন ইন্টারনেটে। তার নাম দেয়া হয় ‘গো ফান্ড মি’। এর মাধ্যমে তিনি প্রায় ১২ হাজার ডলার সংগ্রহ করেন।

তবে শেষের কয়েকটা দিনে তিনি তার সামাজিক মিডিয়ার পোস্টে মেসফিনকে কৃতিত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক। তিনি বলেছেন, যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে তিনি সরাসরি মেসফিনের সঙ্গে কথা বলেন নি। তবে তাকে লাইসেন্স ফি প্রস্তাব করেছেন এবং তার এটর্নির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মেসফিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন। কিন্তু তিনি কোনো মন্তব্য করেন নি।

তবে সামাজিক মিডিয়ায় তিনি বলেছেন, ক্রিস ডেভিনসের সঙ্গে তার যোগাযোগ হচ্ছে। বিষয়টি মিটমাট করে নিতে চান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close