রাজনীতি

আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে গজিয়েছে অসংখ্য সংগঠন

রাজনীতি ডেস্ক: নামের আগে পরে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু বা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে দেড়শ’র মতো সংগঠন। অথচ এগুলোর কোনো নিবন্ধন বা মূল দল আওয়ামী লীগের অনুমোদন নেই। দল থেকে বারবার সতর্ক করার পরও এদের থামানো যাচ্ছে না। ফলে সুনামহানি হচ্ছে দেশের সবচে’ বড় ও ঐহিত্যবাহী দলটির।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দেশের সবচে’ বড় রাজনৈতিক দলটির আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, `৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান’পেরিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সব আন্দোলন-সংগ্রামেই নেতৃত্বের পতাকা ছিলো দলটির হাতে।

ঐতিহ্যবাহী এই দলটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কিছু সংগঠনের কারণে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ এর (১) ধারা অনুযায়ী, মূল দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম নয়টি সংগঠনের বাইরে, অন্য কোনো সংগঠনের দলীয় পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই। অথচ গঠনতন্ত্রকে থোড়াই পরোয়া করে, একের পর এক গড়ে উঠেছে ভূঁইফোড় সংগঠন।

ক্ষমতার স্বাদ নিতে নামের আগে পরে ‘আওয়ামী’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘লীগ’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘নৌকা’, ‘জয় বাংলা’, ‘প্রজন্মসহ’ আরো অনেক শব্দ লাগিয়ে রাতারাতি গড়ে তোলা হচ্ছে সংগঠন। যা নিয়ে জনগণের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি উঠছে প্রশ্ন। কিছু কিছু সংগঠন আবার, বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সহযোগী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে দলের অনুমোদন নিতে হবে। আর বঙ্গবন্ধু বা তার পরিবারের সদস্যদের কারো নাম ব্যবহার করতে চাইলে ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’অনুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ বেশিরভাগ সংগঠনই তা মানছে না।

আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে যুক্ত হতে চাইলে, মূলধারার রাজনীতিতে আসার সুযোগ আছে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, যেকোন দলই সরকারে থাকলে সুবিধাবাদী কিছু লোক এমন সংগঠন খুলে বসে।

তবে দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, আওয়ামী লীগকে ভালবেসে কেউ রাজনীতি করতে চাইলে ভূঁইফোড় সংগঠন ছেড়ে মূল দল বা দল অনুমোদিত সংগঠনগুলোতে যোগ দিতে পারে বলে জানালেন তারা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close