ফিচার

রাগীব আলীর বিরদ্ধে আদালতের রায়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই

ন্যায়বিচার সব সময় যে সবার মুখে হাসি ফোটায় তা কিন্তু নয়। ভুল করে খুনী হওয়া কিংবা বিপথগামী কোন পুত্রের পিতা কি তার সন্তানের শাস্তিতে খুশী হয় ? সম্প্রতি দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি আলহাজ্ব রাগীব আলীর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের একটি রায় নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। রিপোর্টের পর রিপোর্টে সয়লাব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। পোস্টের পর পোস্টে জেরবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

আদালতের আদেশ শিরোধার্য। মাননীয় প্রধান বিচারপতি উচ্চ যে রায় দিয়েছেন তা যুগান্তকারী নিঃসন্দেহে। সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, ভাওয়াল সন্যাসীর উত্তরাধিকারী মামলার রায়ের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্পত্তি সংক্রান্ত এত বড় রায় আর হয়েছে কি-না সন্দেহ।

তবুও ব্যক্তিগতভাবে আমি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের এই রায়ে উচ্ছসিত হওয়ার কোন কারণ দেখিনা। রাগীব আলী মানুষ হিসেবে ত্রুটির উর্ধ্বে নন, নন সমালোচারও উর্ধ্বে।

কিন্তু, তার প্রতিষ্ঠানগুলো সিলেটবাসীর সম্পদ। উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে তারাপুর চা বাগান হাতছাড়া হবে রাগীব আলীর। কিন্তু, আদালত তার রায়ে তারাপুর চা বাগানের ভূমির উপর নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করে সেখানে পুনরায় চা বাগান করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ব্যক্তি বিশেষ, যারা তারাপুরে জমি কিনে বাড়ি করেছেন, তাদের কথা ভিন্ন। তারা সঠিকতা যাচাই না করে জমি কেনায় হয়তো ঠকেছেন।

কিন্তু, যেসব প্রতিষ্ঠান যেমন মদন মোহন কলেজ, কিংবা রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের সুবিশাল স্থাপনা যদি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়, তাহলে লাভ কার হবে ? রাগীব আলীর পক্ষে কামালবাজারে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে গেলে কিংবা একেবারে গোয়াইনঘাট বা জৈন্তাপুরের পাহাড় টিলার ভিতরে নিয়ে গিয়ে এই মেডিক্যাল কলেজ চালু করলে সেখানেও পড়তে যাবে শিক্ষার্থীরা।

কারণ, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ এখন সারা দেশের বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু, ক্ষতি যা হবার তা হবে সাধারণ মানুষের। তুলনামূলক কম খরচে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পেয়ে ইতোমধ্যে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন সিলেট নগরীর উত্তরাংশ থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। তারাপুর থেকে এই হাসপাতাল স্থানান্তর করে এই হাসপাতালের ভবনগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে লাভ কী ?

ফেসবুকে ‘পরের ধনে পোদ্দারী’ শব্দ কিংবা আরো অনেক কঠিন ভাষায় রাগীব আলীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন আমার অনেক বন্ধুরা। কিন্তু, এই পোদ্দারী-ই বা ক’জন করে ? সিলেটের এমন অনেক লোকও খুঁজলে পাওয়া যাবে, যাদের অঢেল টাকা আছে, কিন্তু, সিলেটের জন্য বা সিলেটবাসীর জন্য তাদের অবদান বলতে গেলে লবডঙ্কা।

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাগীব আলী। যেভাবে যে উৎস থেকেই তিনি টাকা আয় করুন না কেন, তিনি কল্যাণমুখী অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এই সিলেটে। রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ, লিডিং ইউনিভার্সিটি, রাগীব-রাবেয়া স্পোর্টস একাডেমী, রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, রাগীব রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক কলেজ- এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাগীব আলী যেমন আয় করছেন, তেমনি এসব প্রতিষ্ঠানের সুফল ভোগ করছেন সিলেটবাসী।

সিলেটের অনেক বিলিয়নার থাকলেও এদের কেউ কে এ ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান করেছেন ? রাগীব আলী ইচ্ছে করলে লিডিং ইউনিভার্সিটি না করে যদি এই টাকায় কয়েকটা গার্মেন্টস করতেন, কিংবা এই পুঁজি যদি ব্যাংকে বা শেয়ার ব্যবসায় খাটাতে তাহলে কি লাভ কম হতো ? রাগীব আলী লিডিং ইউনির্ভাসিটি করায় সিলেটের যেসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়না, তারা অন্ততঃ টাকার বিনিময়ে হলেও উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাক প্রসঙ্গেও একই কথা প্রযোজ্য। এই পত্রিকাটির যাদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তারা কোন অবস্থাতেই এটিকে লাভজনক হিসেবে পরিণত করতে পারছিলেন না। রাগীব আলী কমপক্ষে ১০ বছর এই পত্রিকায় ভর্তূকী দিয়েছেন। সবার সংবাদ সমানগুরুত্¦ দিয়ে নিরপেক্ষ অব্স্থান বজায় রেখে এখন পর্যন্ত কাজ করে চলেছে সিলেটের ডাক।

বলুন তো, সিলেটে কি পত্রিকা বের করার মত টাকাওয়ালা লোকের অভাব আছে ? তারা কেউ কি এগিয়ে এসেছেন সিলেটবাসীর জন্য আরেকটি মান সম্পন্ন পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নিয়ে। একমাত্র রাগীব আলীর সংবাদ অতিরিক্ত অতি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ বা কিছু অনিচ্ছাকৃত মুদ্রন ত্রুটি ছাড়া আর কোন দোষ কি আছে সিলেটের ডাক-এর ? সে বিচারের ভার পাঠকদের।

আদালতের আদেশ শিরোধার্য। শত ত্রুটি সত্বেও রাগীব আলী সিলেটের জন্য কিছু ভাল কাজ করেছেন। সুতরাং, তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে উচ্চসিত হবার কি আছে ?

নোট: সামাজিক মাধ্যমে শীর্ষবিন্দুতে পাঠানো হয়েছে এই ফিচার। যেখানে লেখকের নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে তাজ উদ্দিন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close